উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারে গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধির ফল পেয়েছে টয়োটা মোটর করপোরেশন। ২০২৩ সালে বিক্রিতে নতুন রেকর্ড করেছে কোম্পানিটি। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এ অটোমেকার জানিয়েছে, গত বছর ১ কোটি ১২ লাখ গাড়ি বিক্রি করেছে তারা। এ নিয়ে টানা চতুর্থবার শীর্ষস্থানে নাম লিখিয়েছে বিশ্বের বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।

রেকর্ড এ বিক্রিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে টয়োটার সহায়ক প্রতিষ্ঠান দাইহাৎসু মোটর করপোরেশন ও হিনো মোটর লিমিটেডের উৎপাদন। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী জাপানি এ অটো জায়ান্টের বিক্রি বেড়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। 

অন্যদিকে ২০২২ সালের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি গাড়ি বিক্রি করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মান প্রতিষ্ঠান ফক্সওয়াগন। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির গাড়ি বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৯২ লাখ। কভিড-১৯ মহামারীর পর এটাই তাদের রেকর্ড সর্বোচ্চ গাড়ি বিক্রি।

২০২৩ সালে টয়োটার লেক্সাস মডেলের গাড়ি বিক্রি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বিক্রি হওয়া গাড়ির এক-তৃতীয়াংশ গ্যাসোলিন-ইলেকট্রিক হাইব্রিড পদ্ধতির, বাকি একাংশ বিদ্যুচ্চালিত। 

এদিকে বিক্রির রেকর্ডের পাশাপাশি বাজারে দুর্নামেরও শিকার হয়েছে টয়োটা করপোরেশন। তাদের তৈরি এয়ারব্যাগে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে করোলা ও করোলা ম্যাট্রিক্সের ২০০৩-০৪ সাল পর্যন্ত উৎপাদিত ৫০ হাজার গাড়ি বাজার থেকে সরিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব গাড়ির জরুরি মেরামত দরকার। ২০০৯ সাল পর্যন্ত টয়োটার তৈরি এয়ারব্যাগ ইনফ্ল্যাটার ফেটে ৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। 

টয়োটা জানিয়েছে, ত্রুটিযুক্ত এয়ারব্যাগ নতুন করে গাড়িতে স্থাপন করা হলে এগুলো বিস্ফোরিত হয়ে বড় রকমের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। গাড়ির চালক বা যাত্রী প্রাণ হারানোর মতো ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, টয়োটা এয়ারব্যাগ ইনফ্ল্যাটার ত্রুটির ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে আরো অনেক গাড়ি। টয়োটার সঙ্গে বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০টি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে।

সপ্তাহখানেক আগে এ জাপানি কার জায়ান্ট কিছু গাড়ির শিপমেন্ট বাতিল করে। কারণ হিসেবে ডিজেল ইঞ্জিনে সমস্যার কথা বলা হয়। সম্প্রতি নিরাপত্তা বিষয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ার জন্য তদন্তের মুখে পড়েছে দাইহাৎসু, যার প্রভাবে উৎপাদন কমাতেও বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।