যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ব্র্যান্ড লিভাইস স্ট্রাউস ডেনিম জিন্সের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে সহযোগী হিসেবে ম্যাসিস ও কোহলসের মতো পাইকারি বিক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে লিভাইস এখন এসব ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে নিজস্ব স্টোর ও ওয়েবসাইটে সরিয়ে আনছে ব্যবসা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন প্রকাশের সময় এ তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি। খবর সিএনবিসি।
গত প্রান্তিকে (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) লিভাইসের আয়ের প্রায় অর্ধেক বিক্রি হয়েছে লিভাইসের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও স্টোরের মাধ্যমে। এ সময় সরাসরি ভোক্তাদের কাছে ৪৮ শতাংশ বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা গত বছরের একই সময়ের বিক্রির তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। এছাড়া দুই বছর আগের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। সরাসরি বিক্রির ফলে লিভাইসের মুনাফাও গত প্রান্তিকে বেড়েছে।
তবে এ উদ্যোগ ম্যাসিস ও কোহলসের মতো অংশীদারদের সঙ্গে লিভাইস স্ট্রাউসের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে খুচরা বিক্রেতারা।
পাইকারি বিক্রিতে চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও লিভাইসের গত প্রান্তিকের আয় ওয়াল স্ট্রিটের দেয়া পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে পুরো বছরের আয় প্রত্যাশা বাড়িয়েছে কোম্পানিটি। গত প্রন্তিকে লিভাইসের বিক্রি ১৫৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যা এক বছর আগের ১৬৯ কোটি ডলার থেকে প্রায় ৪ শতাংশ কম। বিক্রিতে মন্দার জন্য প্রাথমিকভাবে পাইকারি সরবরাহ নীতির পরিবর্তনের কথা বলছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় পুরো বছরের বিক্রি ১-৩ শতাংশের মতো বাড়বে বলে আশা করছে লিভাইস।
কয়েক বছর ধরে লিভাইস পাইকারদের কাছ থেকে দূরে সরার পাশাপাশি নিজস্ব স্টোর ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি বাড়িয়েছে। সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করায় মুনাফা বাড়ছে। এর সঙ্গে গ্রাহকদের কেনাকাটার ধরন সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য পাচ্ছে এ ব্র্যান্ড।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে লিভাইসের অন্যতম মূল পাইকারি অংশীদার ম্যাসিস জানিয়েছে, ১৫০ স্টোর বন্ধ করে দেবে। আর্কহাউজ ম্যানেজমেন্টের বিনিয়োগকারীরা ডিপার্টমেন্ট স্টোরটি কিনে নিচ্ছে।
সম্প্রতি লিভাইস স্ট্রাউস নতুন সিইও মিশেল গ্যাস জানান, ভোক্তাদের কাছে পৌঁছনোর জন্য পাইকারি কোম্পানিগুলো এখনো লিভাইসের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ম্যাসিস স্টোর বন্ধ হয়ে গেলে বা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে ভিন্ন কথা। তখন সরাসরি ভোক্তার কাছে যাওয়া ছাড়া লিভাইসের উপায় নেই।
এদিকে কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল চিফ হরমিত সিং জানান, লিভাইস চলতি বছরে ভোক্তার কাছে সরাসরি বিক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ শতাংশের বেশি নির্ধারণ করেছে।
লিভাইস এখন জিন্স বিক্রির পাশাপাশি স্কার্ট, ড্রেস ও টপস তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটিকে একটি ডেনিম লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করতে চায় বলে জানান এ কর্মকর্তা।










