এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিশ্বব্যাপী মুদ্রানীতিতে কঠোরতা, ইউক্রেন যুদ্ধজনিত ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও চীনের ধীরগতি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে ম্লান করেছে। খবর রয়টার্স।
আজ শুক্রবার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীর অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে আইএমএফ জানিয়েছে, অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানে মূল্যস্ফীতি কম হলেও যাতে লাগামছাড়া না হয় সে দিকে নজর দিতে হবে। এ কারণে বেশির ভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হবে।
সংস্থার এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেন, বছরের শুরু থেকে এশিয়ার অর্থনৈতিক পুনরোদ্ধার গতি হারাচ্ছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ছিল। মুদ্রাস্ফীতির রাশ টেনে ধরতে এবং স্থিতিশীল করতে মুদ্রানীতিতে আরো কঠোরতার প্রয়োজন হবে।
চলতি ও পরের বছরে এশিয়ার জন্য আইএমএফের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমিয়ে যথাক্রমে ৪ ও ৪ দশমিক ৩ শতাংশ করা হয়েছে। যা গত এপ্রিলে দেয়া পূর্বাভাসের চেয়ে যথাক্রমে দশমিক ৯ ও দশমিক ৮ পয়েন্ট কম। এর আগে ২০২১ সালে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৬ শতাংশ।
করোনা মহামারীর পাশাপাশি বৈশ্বিক মুদ্রানীতির কঠোরতা ও রফতানি চাহিদার মন্দার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর সঙ্গে চীনের কড়া কভিড নীতি ও এর প্রভাবে ঋণে জর্জরিত আবাসন খাতের কথা উঠে এসেছে। যা দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
আইএমএফ বলছে, চলতি বছর চীনের প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হবে। যা এপ্রিলের পূর্বাভাসের চেয়ে ১ দশমিক ২ পয়েন্ট কম। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি আগামী বছর ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।
আশা করা হচ্ছে ২০২৩ সালে চীন ধীরে ধীরে কভিড নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। তবে বেইজিংয়ের আবাসন খাতের সংকটের দ্রুত সমাধান দেখতে পাচ্ছে না আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো পুঁজির দ্রুত বহির্গমন এড়াতে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে হস্তক্ষেপে বিচক্ষণতা দেখাতে হবে। তাহলে কিছু দেশে মুদ্রানীতির ওপর চেপে থাকা বোঝা কমতে পারে।










