মধ্যস্বত্বভোগীরাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘মুদ্রা পাচার, ঋণখেলাপি ও মধ্যস্বত্বভোগীরা বাংলাদেশের মূল সমস্যা। এদের কারণে ’৭৪-এর দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। এখনো তাদের কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশের ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়ে যায়।’ গতকাল দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের কার্যালয়ে (ইউপিএল) ‘‍বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় আগামীর করণীয়: জাতীয় সপ্তবার্ষিক কর্মপরিকল্পনার একটি প্রস্তাবিত রূপরেখা’ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ড. ফরাসিউদ্দিন। তিনি নিজেই বইটি লিখেছেন।

অধ্যাপক ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘বইটিতে মূল্যস্ফীতি রোধে করণীয় বিষয়ে সবিস্তারে লিখেছি। এজন্য পাবলিক সেক্টরকে দীর্ঘসূত্রতামুক্ত করতে হবে। এখানে সরাসরি সরকারি পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

প্রকাশিত বইটিতে উত্থাপিত প্রস্তাবনাগুলো বর্তমান সরকার কিংবা যেকোনো সরকারের জন্যই প্রযোজ্য মন্তব্য করে সাবেক গভর্নর বলেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে দরকারি বিষয়। কোন বিষয়টি জনগণের জন্য মঙ্গলজনক তা জানতে হবে। জাতির জনক তার রাজস্ব-নীতিতে বলেছিলেন ধনীদের কাছ থেকে বেশি হারে কর আদায় করতে হবে। সেই অর্থ দিয়ে বিত্তহীন ও কম বিত্তের মানুষের জন্য প্রকল্প করতে হবে। আমরা এখন তা করতে পারছি না। কারণ বাংলাদেশে আড়াই কোটি মানুষের কর দেয়ার কথা। তার মধ্যে ৮৭ লাখ অতিধনী ব্যক্তি, কিন্তু তাদের মধ্যে কর দেয় মাত্র নয় লাখ।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিস্টিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক ড. রওনক জাহান বলেন, ‘বইয়ে উল্লিখিত ঋণখেলাপির বিষয়ে আশির দশক থেকে কথা হচ্ছে, ব্যাংকিং কমিশনের বিষয়ে বলেছেন লেখক। বহু বছর ধরে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আমরা বাইরে থেকে অনেক কথা বলছি, কিন্তু সেসব নিয়ে সরকার কেন কিছু করছে না। আবার অনেক সময় সরকার বলছেও আমরা করব, তার পরও সেসব হচ্ছে না। তার মানে নিশ্চয়ই এখানে কিছু অতি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও লবি আছে। যারা এসব চাচ্ছে না।’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল বায়েস বলেন, ‘ড. ফরাসউদ্দিনের এ বই সহজেই নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে যাবে। এ বইয়ে ১৪টি বিষয় নিয়ে লেখক আলোচনা করেছেন। এখন সর্বত্র আলোচনার বিষয় মূল্যস্ফীতি। এর নিয়ন্ত্রণে টিসিবির কার্যকর ভূমিকা নিয়ে লেখক বলেছেন।’

প্রকাশনা উৎসবে আরো উপস্থিত ছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক ও ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দীন প্রমুখ।