মূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশের অর্থনীতি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচামালের দাম ও ডলারের বিপরীতে অনেক দেশের মুদ্রার মান কমে যাওয়ার কারণে প্রায় সব খাতেই পণ্য উৎপাদনের খরচ বেড়ে গিয়েছে। এ অবস্থায় পণ্যের দাম ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ নির্মাতা হারমেস। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, টানা তিন প্রান্তিক বিক্রি ভালো অবস্থায় রয়েছে। সে কারণে পণ্যের দাম বাড়ালেও আপাতত ব্যবসায় মন্দার কোনো শঙ্কা দেখা যাচ্ছে না।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আরেক বিলাসবহুল ব্যাগ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লুই ভিতোঁ বিক্রি বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু হারমেসের শঙ্কা ছিল, নভেল করোনাভাইরাসজনিত মহামারীর পর বিক্রিতে যে প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে তা হয়তো মন্দার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ডলারের দাম বৃদ্ধির সুফল ভোগ করছেন মার্কিন ক্রেতারা। চীনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে।
হারমেসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অব ফাইন্যান্স এরিক দ্যু হ্যালগুয়ে বলেন, সম্ভবত আমরা পণ্যের দাম ৫-১০ শতাংশ বাড়াব। কারণ কাঁচামালের দাম বেড়েছে এবং ডলারের দামও ওঠানামা করছে।
মহামারী চলাকালে অন্যান্য বিলাসবহুল ব্যাগ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় প্রত্যেকেই পণ্যের দাম বাড়িয়েছিল। কিন্তু দাম না বাড়ানোর বিষয়ে বেশ কঠোর অবস্থানে ছিল হারমেস। এবার বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তারাও দাম বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নিল।
১০ হাজার ডলারের বেশি দামের ব্যাগগুলোর উৎপাদন আগের চেয়ে কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর লক্ষ্য হলো ব্যাগগুলোর স্বতন্ত্রতা বজায় রাখা। চলতি বছর ৪ শতাংশের মতো বাড়বে বিলাসবহুল এ পণ্যের দাম। এর আগে দাম বাড়ানো হলেও তা কখনই দেড় বা ২ শতাংশের বেশি হতো না।
অবশ্য এবার দাম বাড়ানোর পেছনে কিছু কারণও ছিল। হারমেস বলছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ৮০০ কর্মী নিয়োগ করেছে তারা। গত জুলাইয়ে ইউরোপজুড়ে কর্মীদের বেতনও বাড়ানো হয়েছে। এসবের কারণেও পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে ৩০ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য বিক্রি করেছে হারমেস। এ সময়ের মধ্যে জাপান বাদে গোটা এশিয়া থেকে রাজস্ব বেড়েছে ৩৪ শতাংশ।
এরিক দ্যু হ্যালগুয়ে বলেন, এ মুহূর্তে ব্যবসায় ধীরগতি বা মন্দার কোনো শঙ্কা আমরা দেখছি না। বিশ্বজুড়ে বিলাসবহুল শৌখিন পণ্যের চাহিদা কমেনি। ফলে পণ্যের দাম বাড়ালেও তাতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।










