অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ কর্মসূচির সুফল পেতে শুরু করেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশগুলোর ব্যাংক খাতেও। ২০২৪ সালে উপসাগরীয় দেশগুলোর ব্যাংকগুলো শক্তিশালী রিটার্ন অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ক্রেডিট রেটিং সংস্থাগুলো। খবর ন্যাশনাল নিউজ।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর গালফ কো-অপারেশন  কাউন্সিলের (জিসিসি) দেশগুলোর বেশির ভাগ ব্যাংকের মুনাফা ও ঋণপ্রবাহ শক্তিশালী অবস্থায় থাকবে। জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতে জোরালো ঋণ চাহিদা এবং এ অঞ্চলে নেয়া অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ কর্মসূচি এতে মূল ভূমিকা রাখবে। এক্ষেত্রে বৈশ্বিক ও ভূরাজনৈতিক জটিলতাগুলো তেমন একটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

‘জিসিসি ব্যাংকিং সেক্টর আউটলুক ২০২৪’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল সম্প্রতি জানিয়েছে, এ অঞ্চলের প্রধান দুই অর্থনীতি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ব্যাংক খাতের প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকবে।

ক্রেডিট রেটিং সংস্থাটির প্রত্যাশা, জিসিসি অঞ্চলজুড়ে ইতিবাচক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশের কারণে সম্পদের ওপর শক্তিশালী রিটার্ন অর্জন করবে ব্যাংকগুলো।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের বিশ্লেষক বেঞ্জামিন ইয়ং বলেন, ‘‌সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে জ্বালানি তেলবহির্ভূত প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে গতিশীল হওয়া উচিত। কারণ অর্থনৈতিক পরিবেশ ঋণের চাহিদা বাড়াতে সহায়তা করবে। এটি তাদের মুনাফা অর্জনেও সহযোগিতা করবে।’

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখার সুবিধা পাচ্ছে ছয় সদস্যের আঞ্চলিক জোটের ব্যাংক খাত।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল জানিয়েছে, ২০২৪ সালে জিসিসি অঞ্চলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার বেশি থাকবে। তবে বছরের শেষ নাগাদ ইউএস ফেডারেল রিজার্ভের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুদহার ১ শতাংশ কমে যাবে। কারণ মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে থাকবে এবং প্রশাসন গৃহীত পদক্ষেপের কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বজায় থাকবে।

কভিড-১৯ মহামারীসংক্রান্ত মন্দা থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেল রফতানিকারক উপসাগরীয় দেশগুলো। এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে জ্বালানি তেল ও তেলবহির্ভূত উভয় খাত।

আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ইউএইর অর্থমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল তৌক গত অক্টোবরে বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশ অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ কর্মসূচির লক্ষ্য এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে বার্ষিক ভিত্তিতে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ প্রবৃদ্ধির পেছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাত।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত মাসে তাদের ২০২৪ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। আগের ৪ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে।

ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি আরব আমিরাতের জ্বালানি তেলবহির্ভূত জিডিপির প্রবৃদ্ধি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯ ও ৪ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে সৌদি আরবের অর্থনীতি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা বিশ্বের ২০টি বড় অর্থনীতির দেশের মধ্যে বার্ষিক ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি। যদিও গত বছর শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। আরব বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য চলতি বছর ৪ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

২০২৩ সালের জন্য সর্বশেষ রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুকে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়েছে আইএমএফ, যা অক্টোবরের পূর্বাভাস থেকে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। তবে ২০২৪ সালে ব্লকটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৭ শতাংশে ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

আইএমএফ বলছে, জিসিসি সদস্যদের কাঠামোগত সংস্কার অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করেছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি ও মূলধনের প্রবাহ বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।