চলতি মাসেই কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে গোল্ডম্যান স্যাকস। করোনা মহামারীতে দুই বছরের জন্য বার্ষিক অনুশীলন থামানোর পর চলতি মাসে পুনরায় কর্মী ছাঁটাই করবে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংকটি। পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

ওয়াল স্ট্রিট জায়ান্ট সাধারণত প্রতি বছর প্রায় ১-৫ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে। চলতি বছরের কর্মী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে আবারো সেই পুরনো অনুশীলনে ফিরছে ব্যাংকটি। সূত্রটি রয়টার্সকে বলেছে, আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে কর্মী কমানো শুরু হতে পারে।

জুনের শেষে গোল্ডম্যাস স্যাকসের কর্মী সংখ্যা বেড়ে ৪৭ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এ সংখ্যা এক বছর আগের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ সংস্থাটির ১ শতাংশ কমানো মানে প্রায় ৫০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের মুখোমুখি হবে। নিউইয়র্ক টাইমসও পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধৃত করে আসন্ন ছাঁটাই নিয়ে প্রতিবেদন করেছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে গোল্ডম্যান স্যাকস কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এর আগে জুলাইয়ে বিনিয়োগ ব্যাংকটি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে নতুন কর্মী নিয়োগ ধীর এবং ব্যয় কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির মুনাফা ৪৮ শতাংশ কমে গিয়েছে। যদিও স্থির আয় ও পণ্য ব্যবসায় আয় বেড়েছে গোল্ডম্যানের।

জুলাইয়ে গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ডেনিস কোলম্যান বলেছিলেন, চলতি বছরের শেষে কর্মীদের জন্য বার্ষিক কর্মক্ষমতা পর্যালোচনা পুনরায় শুরু করবে ব্যাংকটি। মহামারীর কারণে দুই বছর এ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। চার দশকের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে আক্রমণাত্মকভাবে সুদের হার বাড়াচ্ছে ফেডারেল রিজার্ভ। এতে দেশটির অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন ঝুঁকি মাথায় নিয়ে ব্যাংকগুলো ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

আর্থিক খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কারসন গ্রুপের প্রধান মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট রায়ান ডেট্রিক বলেন, ব্যাংকগুলো সম্ভবত খরচ কমানোর জন্য চাপে থাকবে। এজন্য তারা পুরনো কর্মী ছাঁটাই এবং নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্থরতা অবলম্বন করবে।

গত কয়েক মাসে জেপি মরগান, ওয়েলস ফার্গো ও সিটিগ্রুপ বন্ধকী ঋণ বিভাগের কর্মীবহর কমিয়ে এনেছে। দেশটির আবাসন খাতের মন্দার কারণে এ বিভাগে লোকসানের ঝুঁকি এড়াতে এমন ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্যাংকগুলো।