আসন্ন বাজেটে লৌহ শিল্পের কাঁচামালে শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইম্পোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ব্যবসাবান্ধব ট্যাক্স-ভ্যাট কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনের সভাপতি আবুজর গিফারী জুয়েল বলেন, ‘আয়রন অ্যান্ড স্টিল শিট আমদানিকারকরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করে আসছি। এ বিশাল শিল্পের সঙ্গে প্রায় এক কোটিরও বেশি লোক জড়িত। আমরা বাণিজ্যিক আমদানিকারকরা দেশীয় শিল্প-কারখানার মোট চাহিদার ৯৫ শতাংশ কাঁচামাল ও অবকাঠামো শিল্পের শতভাগ কাঁচামাল আমদানি করে ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছি। আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে ১৫ দফা প্রস্তাব দেয়া হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।’

তাদের প্রস্তাবগুলো হলো জাতীয় বাজেটে লৌহশিল্পের কাঁচামাল এইচএস কোড ৭২১০.৩০.০০, ৭২১০.৪৯.৯০, ৭২১০.৭০.৯০, ৭২১০.৬১.৯০ ও ৭২১০.৯০.০০-এর পণ্যগুলোর শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ ও মধ্যবর্তী শুল্কহার নির্ধারণ এবং আরডি প্রত্যাহার করতে হবে। ভ্যালুয়েশন রুল ২০০০ অনুসারে এসব এইচএস কোডভুক্ত পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে ইনভয়েস ভ্যালুতে শুল্কায়ন, এআইটির ওপর সারচার্জ প্রত্যাহার, আমদানি পর্যায়ে বন্ড ও ট্যাক্স সুবিধা বন্ধ করে উৎপাদনের পর বিপণন পর্যায়ে ট্যাক্স সুবিধা প্রদান, বাজেট-পরবর্তী সময়ে ট্যারিফ মূল্য পরিবর্তন না করা, এসব এইচএস কোডভুক্ত পণ্যে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন হিসাব করে ৫ শতাংশ ভ্যাট স্লাব নির্ধারণ, আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম ভ্যাট প্রত্যাহার, ন্যায্য বাজারমূল্য যাচাই করে মূল্য সংযোজনের পরিমাণ হিসাব করে টনপ্রতি ১৫০ টাকা, আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট প্রত্যাহার, রেয়াত ও রিটার্ন ব্যবস্থা সহজীকরণ, মূল্য সংযোজন কর সম্মাননাপত্র প্রদান ও ভ্যাট বকেয়া নেই মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রদান, ধারা ১২১-এর ২ অনুসারে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ ব্যতিরেকে মামলা দায়েরের অনুমতি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইম্পোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আমির হোসেন নুরানী।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর বিধান ফিরিয়ে আনাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা ও মহাসচিব মো. হাসিন পারভেজ এলপিজি গ্যাসাধার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ, যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দেন। এলপিজি অটোগ্যাস সেক্টরকে ট্যাক্স হলিডে সুবিধা দেয়ারও প্রস্তাব করা হয়।

প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে দেশীয় শিল্প গড়ে ওঠে এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আমদানি পণ্য খালাসে এনবিআরের জন্যই দেরি হয়, বিষয়টা এমন নয়। এখানে অনেক কারণে এমনটা হয়ে থাকে। এ সময় কমানোর জন্য আমরা ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়ন করছি। এনবিআর করনেট বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে, যার ফল আমরা দেখতে পাচ্ছি।’