নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সৃষ্টি হওয়া অর্থনৈতিক ক্ষত সামলাতে রফতানি বাড়াতে চাইছে ইন্দোনেশিয়া। এ কারণে প্রধান রফতানি পণ্য পাম অয়েল বিনা শুল্কে রফতানির উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। এর অংশ হিসেবে গত মাসের ধারাবাহিকতায় চলতি মে মাসেও দেশটি থেকে অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানিতে আমদানিকারকদের কোনো শুল্ক পরিশোধ করতে হবে না। ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও স্টার অনলাইন।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক। পণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায়ও দেশটি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। পাম অয়েলের বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া মিলিতভাবে জোগান দেয়। এ কারণে এ দুই দেশে পাম অয়েলের উৎপাদন ও রফতানিতে উত্থান-পতন আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
ইন্দোনেশিয়া সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি মাসে দেশটিতে অপরিশোধিত পাম অয়েলের রেফারেন্স প্রাইস ধরা হয়েছে টনপ্রতি ৬৩৫ ডলার ১৫ সেন্ট। একই সঙ্গে চলতি মাসে দেশটি থেকে অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানিতে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। গত মাসেও রফতানি শুল্ক ছাড়া বিদেশী ক্রেতাদের কাছে পাম অয়েল বিক্রি করেছে ইন্দোনেশিয়া।
নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে চরম ধাক্কা খেয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল রফতানি খাত। সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্দোনেশিয়ান পাম অয়েল প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার টন পাম অয়েল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বা প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কম। ২০১৯ সালের একই সময়ে ইন্দোনেশীয় রফতানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬১ লাখ ৩০ হাজার টন পাম অয়েল রফতানি করেছিলেন। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি কমেছে ১২ লাখ টন।
ইন্দোনেশিয়া থেকে রফতানি হওয়া পাম অয়েলের প্রধান ক্রেতা চীন ও ভারত। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীন ও ভারত উভয় দেশেই পাম অয়েলের বাজার হারিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে চীনের বাজারে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ লাখ টন কম পাম অয়েল রফতানি হয়েছে। এ সময় ভারতের বাজারেও দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৮৮ হাজার টন কমেছে। একই সঙ্গে বছরের প্রথম দুই মাসে ইন্দোনেশিয়া থেকে আফ্রিকার দেশগুলোয় পাম অয়েলের সম্মিলিত রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ লাখ ৫০ হাজার টন কমে গেছে।










