গুগল প্লে-স্টোরে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (এআই) ফিচারসংবলিত কয়েক লাখ অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী গবেষণায় দেখা গেছে, প্লে-স্টোরের প্রায় ১৮ লাখ অ্যাপের কোডিংয়ে এমন কিছু ত্রুটি রয়েছে, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও অ্যাপের অভ্যন্তরীণ ৭৩০ টেরাবাইট (টিবি) ‘গোপন তথ্য’ ফাঁস করেছে। খবর টেক রাডার।

সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সাইবারনিউজ’-এর একটি দল প্লে-স্টোরে থাকা অ্যাপগুলো বিশ্লেষণ করে এ আশঙ্কাজনক তথ্য সামনে এনেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরাসরি এআই সুবিধা দেয়ার দাবি করা অ্যাপের মধ্যেই ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

সাইবারনিউজ বলছে, কোডিং ত্রুটির কারণে ২০ কোটিরও বেশি ব্যক্তিগত ফাইল এখন জনসমক্ষে চলে আসার ঝুঁকিতে রয়েছে। সব মিলিয়ে ফাঁস হওয়া তথ্যের পরিমাণ প্রায় ৭৩০ টেরাবাইট (টিবি), যা কয়েক লাখ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ছবি, নথি ও সংবেদনশীল তথ্যের এক বিশাল ভাণ্ডার।

গবেষকেরা প্রাথমিকভাবে প্লে-স্টোরের বিশাল ভাণ্ডার থেকে এআই ফিচারসংবলিত ৩৮ হাজার ৬৩০টি অ্যাপ শনাক্ত করেন। এরপর সেসব অ্যাপের অভ্যন্তরীণ কোড পরীক্ষা করে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক অ্যাপে ‘ক্রেডেনশিয়াল’ বা ব্যবহারকারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, যেকোনো অ্যাপের ডিজিটাল চাবি বা সিক্রেট কোডগুলো সবসময় একটি সুরক্ষিত সার্ভারে থাকার কথা। কিন্তু ৭২ শতাংশ অ্যাপের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সেগুলো সরাসরি অ্যাপের মূল কোডিংয়ের বা সোর্স কোডের ভেতরেই লেখা। ফলে যেকোনো সাধারণ হ্যাকার সামান্য কারিগরি জ্ঞান ব্যবহার করেই অ্যাপের ফাইল থেকে এসব কোড হাতিয়ে নিতে পারছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ডেটাবেজে ঢুকে সব তথ্য পড়ে নিতে পারবে।

গবেষকরা বলছেন, বারবার সতর্কবার্তা দেয়ার পরও এ ধরনের গাফিলতি প্রমাণ করছে, অনেক প্রতিষ্ঠানই অ্যাপের কার্যকারিতার চেয়ে নিরাপত্তার বিষয়টিকে কম গুরুত্ব দিচ্ছে।

ফাঁস হওয়া এসব গোপন তথ্যের ৮১ শতাংশেরও বেশি সরাসরি গুগল ক্লাউড অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকল্পের আইডেন্টিফায়ার (ক্লাউড প্রকল্পের একটি বিশেষ শনাক্তকরণ নম্বর বা নাম), গুগল এপিআই কি (গোপন কোড), ফায়ারবেজ (ক্লাউড সার্ভিস) ডেটাবেজ এবং স্টোরেজ বাকেট (ফাইল সংরক্ষণের স্থান)।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুগলের মতো বিশ্বস্ত প্লাটফর্ম ব্যবহার করেও কেবল ডেভেলপারদের অসতর্ক কোডিংয়ের কারণে ব্যবহারকারীদের তথ্য এখন চরম অনিরাপদ।

গবেষণায় ২৮৫টি এমন ‘ফায়ারবেজ’ ডাটাবেজ পাওয়া গেছে, যেগুলোয় প্রবেশের জন্য কোনো পাসওয়ার্ড বা সুরক্ষাকবচ ছিল না। ফলে অন্তত ১ দশমিক ১ জিবি ডেটা সরাসরি ফাঁস হয়েছে। এসব উন্মুক্ত ডেডাবেজের ৪২ শতাংশেই হ্যাকারদের অনুপ্রবেশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া অনেক অ্যাপের ক্ষেত্রে লাইভ পেমেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা অর্থ লেনদেনের মাধ্যমগুলোও অরক্ষিত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে স্ট্রাইপের মতো পেমেন্ট সেবার ‘সিক্রেট কি’ ফাঁস হয়ে গেছে। এ সিক্রেট কি থাকলে হ্যাকাররা যেন অ্যাপের মালিক হয়ে যায়। অর্থ কেটে নেয়া, ভুয়া লেনদেন করা, এমনকি পেমেন্ট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব হয়। আবার অ্যাপের অ্যানালিটিকস ও কাস্টমার ডেটা প্লাটফর্মের ক্রেডেনশিয়াল ফাঁস হওয়ায় অপরাধীরা অ্যাপের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে গ্রাহকদের মেসেজ পাঠাতে, ভুয়া অফার বা পেমেন্ট লিংক দিতে এবং প্রতারণা করতে পারে।