খুলনা অঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাট। ঈদের পর প্রথম হাটবার ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম থাকলেও চামড়ার জোগান ছিল কম। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারো চামড়ার দাম কম। যদিও আড়ৎদারদের দাবি, চামড়ায় এক ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দরপতন হয়েছে। তবে ভালো মানের চামড়া সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে।
যশোরের ব্যাপারী হাসিবুল হক বলেন, ‘এবার ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে চামড়া ফেটে যাচ্ছে। তাই দাম পড়ে গেছে। দেখেশুনে না কিনলে আমাদের পথে বসতে হবে। কারণ ট্যানারি মালিকরা ফেটে যাওয়া চামড়া কিনবেন না।’
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, হাটে গরুর ভালো মানের চামড়া সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পিস বিক্রি হয়েছে। খারাপ চামড়া কম দামে বিক্রি হয়েছে।
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের ইসহাক আলী, গরুর ১৭০ পিস চামড়া হাটে এনেছিলেন। বিক্রি করেছেন গড়ে ৩০-৩৫ টাকা বর্গফুট হিসেবে। তিনি বলেন, ‘চামড়া বিক্রি করে আমার কোনো লাভ হয়নি। উল্টো ২৫ হাজার টাকা লোকসান দিতে হয়েছে।’
কুষ্টিয়ার একটি ট্যানারির প্রতিনিধি এহসান রিপন দাবি করেন, এবার ভাইরাসের কারণে অন্তত ১৫ শতাংশ চামড়া ফেটে গেছে। আবার ঠিকমতো লবণ না দেয়ায় কিছু চামড়া নষ্ট হয়েছে। যে কারণে চামড়ার দাম কিছুটা কম।
যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গতকাল রাজারহাটে ৭০ হাজার পিস চামড়া উঠেছে। এর মধ্যে গরুর চামড়া ছিল ৪০ হাজার পিস। যেখানে ৩ কোটি টাকা হাতবদল হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গরুর ভালো মানের চামড়া সরকার নির্ধারিত দামে অথবা কাছাকাছি দামে বিক্রি হয়েছে। খারাপ চামড়ার দাম কম হবে, এটাই স্বাভাবিক।’
যশোরের চামড়া ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির উদ্যোগ নিলে এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের অল্প সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করলে এই খাত আরো বিকশিত হবে। সেইসঙ্গে চামড়া ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়াবে।
যশোর বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা রাজারহাটে গিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। কীভাবে চামড়া বিক্রি হচ্ছে, খোঁজখবর নিয়েছি। তবে এদিন হাট বেশ জমজমাট ছিল।’
চামড়ার বাজার সম্প্রসারণ ও দূষণ রোধে সরকারি-বেসরকারি পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। এজন্য সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।










