চলতি বছর ভারতে ইস্পাতের চাহিদা কমে গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ভারতজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে লকডাউন চলছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির বিভিন্ন আর্থিক ও শিল্প খাতে। এতে দেশটির নির্মাণ, অটোমেটিভ ও রেল খাতের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা কমিয়ে আনতে মূল ভূমিকা রাখতে পারে। দেশটির সরকারি সূত্র সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

ইন্ডিয়ান স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএ) দেয়া সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ভারতে ইস্পাতের ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ৯ কোটি ৩৭ লাখ টনে, আগের পূর্বাভাসের তুলনায় যা ৭ দশমিক ৭ শতাংশ কম। প্রতিষ্ঠানটির এ পূর্বাভাস সত্যি হলে তা হবে গত কয়েক বছরের মধ্যে দেশটির সর্বনিম্ন ইস্পাত ব্যবহারের রেকর্ড।

ভারতে মহামারী প্রাদুর্ভাবের আগে এক প্রতিবেদনে আইএসএ জানিয়েছিল, চলতি বছর ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে দেশটিতে ইস্পাতের ব্যবহার ১০ কোটি ৬৭ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। অর্থাৎ আগের তুলনায় চলতি বছর ভারতে শিল্প ধাতুটির ব্যবহারের পূর্বাভাস ১ কোটি ৩০ লাখ টন কমিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মহামারী রোধে গত ২৫ মার্চ দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করে ভারত সরকার। তবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় লকডাউন আরো বাড়ানো হয়। এতে দেশটিতে ইস্পাতের ব্যবহার যেমন কমেছে, দেশটির অভ্যন্তরীণ অপরিশোধিত ইস্পাতের উৎপাদন তেমনি ব্যাপকহারে কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে সরবরাহ ও দাম।

ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে ভারতে অপরিশোধিত ইস্পাতের উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৫ শতাংশ কমে ৩১ লাখ ৩০ হাজার টনে নেমেছে। ২০১৯ সালের একই মাসে দেশটি মোট ৯০ লাখ ২০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন করেছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে ধাতব পণ্যটির উৎপাদন কমেছে ৫৯ লাখ ৯০ হাজার টন। আগের মাস মার্চেও ভারতে পণ্যটির উৎপাদনে মন্দা ভাব বজায় ছিল।