যশোরে প্রতি বছর বাড়ছে ভুট্টার চাষ। কম খরচে বেশি উৎপাদন এবং বাজারে দাম ভালো থাকায় শস্যটি চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের। এছাড়া সরকারি কৃষি প্রণোদনাও জেলায় ভুট্টা চাষ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, জেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যশোরে মোট ৬৩৮ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছিল। এরপর ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ২৫৫ হেক্টর এবং ২০২০-২১ মৌসুমে শস্যটির আবাদ হয় ১ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে। ২০২২-২৩ মৌসুমে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ২৩৭ হেক্টরে।
চলতি ২০২৩-২৪ মৌসুমে জেলায় ভুট্টার আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮৩ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ১০২ হেক্টর, শার্শায় ২৪০, চৌগাছায় ৪৫৫, ঝিকরগাছায় ১৯০, মনিরামপুরে ১৮৫, বাঘারপাড়ায় ৫৪, অভয়নগরে ৭০ ও কেশবপুর উপজেলায় ১২৪ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ২৫০ জন কৃষককে দুই কেজি করে ভুট্টাবীজ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার পেয়েছেন প্রত্যেক কৃষক।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ঝিকরগাছার নাভারণ ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামে মাঠের পর মাঠ ভুট্টা চাষ হয়েছে। সবুজ পাতার আড়ালে হাসছে হলুদ রঙের ভুট্টার মোচা। এ এলাকায় হাইব্রিড প্রেসিডেন্ট ও পাইওনিয়র ৩৩/৫৫ জাতের ভুট্টা বেশি চাষ হয়েছে।
আল-আমিন নামে এক চাষী বলেন, ‘আমি তিন বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় ১৫-১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন পেয়েছি ৩৫-৪০ মণ। প্রতি মণ ১ হাজার ২৫০ টাকা দাম পেয়েছি।’
সামছুল হক বলেন, ‘মসুর চাষ করতে চেয়েছিলাম। তবে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ভুট্টার আবাদ করেছি। আশা করছি, লাভবান হব।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক সুশান্ত কুমার বলেন, ‘ভুট্টা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এবার জেলার ১ হাজার ২৫০ জন কৃষককে বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। ভুট্টার দামও ভালো আছে।’









