পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেডের চলতি ২০২২-২৩ হিসাব বছরের পথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) আগের হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় ও কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দুটোই বেড়েছে। এর মধ্যে আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। জ্বালানি খাতের কোম্পানিটির সর্বশেষ প্রকাশিত চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে এমজেএল বাংলাদেশের সমন্বিত আয় হয়েছে ২ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ৯৯৭ কোটি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ৩৫০ কোটি টাকা বা ১৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আলোচ্য প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৬১ কোটি, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৫৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির সমন্বিত নিট মুনাফা বেড়েছে ৮ কোটি টাকা বা ৫ শতাংশ। এ প্রান্তিকে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৪৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ টাকা ৮১ পয়সা। এ বছরের ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৩ পয়সায়।
এদিকে চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৮০৪ কোটি, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭২৫ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৪১ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৫ কোটি। সর্বশেষ তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৪৩ পয়সা।
সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে এমজেএল বাংলাদেশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৩৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে ছিল ৭ টাকা ৫৩ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৪০ টাকা ৫৫ পয়সায়, যা আগের বছর শেষে ছিল ৩৯ টাকা ৬৯ পয়সায়।
সর্বশেষ ক্রেডিট রেটিং অনুসারে, এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেডের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-ওয়ান’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, চলতি ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও রেটিং প্রকাশের দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।
এর আগের ২০২০-২১ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে এমজেএলবিডি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৫৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৫২ পয়সা। ২০১৯-২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৪৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের জন্যও ৪৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পান শেয়ারহোল্ডাররা। এছাড়া ২০১৭-১৮ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৪৫ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।
২০১১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমজেএল বাংলাদেশের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৩১৬ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার। রিজার্ভে রয়েছে ৫৬০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩১ কোটি ৬৭ লাখ ৫২ হাজার ২৭। এর ৭১ দশমিক ৫২ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২১ দশমিক ৫৯ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ১২ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ডিএসইতে গত বৃহস্পতিবার এমজেএল বাংলাদেশের শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৮৯ টাকা ৬০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৮৬ টাকা থেকে ৯৫ টাকা ৯০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।
সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ১৪ দশমিক শূন্য ৯, সর্বশেষ অনিরীক্ষিত প্রান্তিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ১০ দশমিক ৭৭।










