নতুন বছরে বড় ধরনের ধাক্কা নিয়েই শুরু হচ্ছে চীনের পরিশোধিত তেলজাতীয় পণ্য রফতানি। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৪০ শতাংশ রফতানি অবনমন ঘটছে দেশটিতে। এজন্য বিশ্লেষকরা নতুন চান্দ্র বছরে জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের পর জ্বালানি পরিশোধনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের নীতি নিয়ে ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকে জ্বালানি রফতানি বৃদ্ধি করেছে দেশটি। গত শুক্রবারে প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ডিসেম্বরে পরিশোধিত তেল রফতানির পরিমাণ ছিল ৭৭ লাখ টন, যার মধ্যে সামুদ্রিক জ্বালানি তেলও অন্তর্ভুক্ত। রফতানির এ পরিমাণ ২০২০ সালের এপ্রিলের পর থেকে সর্বোচ্চ। যদিও ২০২২ সালের বার্ষিক রফতানি ২০২১ সালের বার্ষিক রফতানির চেয়ে ১১ শতাংশ কম ছিল।

ডিসেম্বরের তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে কমেছে ডিজেল, গ্যাসোলিন ও জেটের জ্বালানি রফতানি। জেএলসির পক্ষ থেকে অনুমান করা হচ্ছে, জানুয়ারিতে দেশটির রফতানি ৩৮-৪১ লাখ টনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। রফতানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে কম হতে পারে গ্যাসোলিন। যার পরিমাণ থাকবে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার টন। চীনভিত্তিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, বছরের শুরুতেই গ্যাসোলিনের পাইকারি ও খুচরা মূল্য বেড়ে গেছে। এই মূল্যবৃদ্ধি বন্ধের দিনগুলোয় প্রভাব ফেলছে রফতানির ওপর। ২২ জানুয়ারি চীনা ক্যালেন্ডারে চান্দ্র নতুন বছর। লাখো মানুষ এ উপলক্ষে বাড়ি ফেরে। বেড়ে ওঠে পরিবহন জ্বালানি ব্যবহার সূচক। এদিকে গ্যাসোলিনের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বেড়েছে, যা আগস্টের পর থেকে সর্বোচ্চ।

জানুয়ারিতে জেট জ্বালানির রফতানি ১২ লাখ টনের মধ্যেই আটকে যাবে বলে ধরা হয়েছে। অথচ গত ডিসেম্বরে রফতানির পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ টন। ডিজেল রফতানি নেমে আসবে ২১ থেকে ১৭ লাখ টনের মধ্যে। বিশ্লেষকরা আরো মনে করছেন, চীনের রফতানির অবনমন ফেব্রুয়ারিতেও অব্যাহত থাকবে। কারণ দেশটি এখনো গ্যাসোলিন ও জেট জ্বালানির বিষয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। তবে ২০২৩ সালের দ্বিতীয় ভাগে অভ্যন্তরীণ চাহিদায় পরিবর্তন ঘটলে এ নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এমনটাই মনে করেন ভরটেক্সার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক এমা লি।

২০২৩ সালের প্রথম ব্যাচে চীন পরিশোধিত তেল পণ্যের রফতানি কোটা ১ কোটি ৮৯ লাখ ৯ হাজার টন করেছে। অথচ গত বছরই কোটার পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৩ লাখ টন। অর্থাৎ ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটছে এই সময়ের মধ্যে। সরকার পরিশোধক কোম্পানির কার্যক্রম বাড়াতে ও রফতানি খাতের মুনাফা বাড়িয়ে অর্থনীতি চাঙ্গা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।