যুক্তরাজ্য ও হংকংয়ের মতো দুটি বড় বাজার থেকে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করতে পারেনি এইচএসবিসি। ক্রমবর্ধমান সুদের হার ও চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকে ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংকটির নিট মুনাফা ৪৬ শতাংশ কমেছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
লন্ডনভিত্তিক ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম এ ব্যাংকের বেশির ভাগ আয় আসে এশিয়ার বাজার থেকে। ব্যাংকটির করপূর্ব মুনাফা ৩১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও এ মুনাফা বিশ্লেষকদের অনুমিত ধারণার তুলনায় বেশি। তাদের পূর্বাভাস অনুসারে, ব্যাংকটির করপূর্ব মুনাফা ২৪৫ কোটি ডলার ধরা হয়েছিল। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর নাগাদ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৯০ কোটি ডলারে। ২০২১ সালের একই প্রান্তিকে যার পরিমাণ ছিল ৩৫০ কোটি ডলার।
এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী নোয়েল কুইন এক বিবৃতিতে বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকে আমরা শক্তিশালী গতি বজায় রেখেছি ও ভালো করেছি। আমাদের নতুন কৌশল বিশ্বব্যাপী ব্যবসাগুলো থেকে ভালো প্রবৃদ্ধি তুলে আনছে। ক্রমবর্ধমান সুদের হার আয় বাড়াতে সহায়তা করছে। আমরা মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ সত্ত্বেও ব্যয়ের ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছি। ২০২২ ও ২০২৩ সালের জন্য ব্যয় সম্পর্কিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছি।
তবে এরই মধ্যে হংকংয়ে ব্যাংকটির শেয়ার কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ। তাছাড়া বছরের শেষ নাগাদ এইচএসবিসির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ইওয়েন স্টিভেনসনকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল নাগাদ এইচএসবিসি ছাড়বেন তিনি। বিনিয়োগ ব্যাংকিংয়ের সহপ্রধান জর্জেস এলহেডেরি সম্প্রতি ছয় মাসের ছুটি থেকে ফিরেছেন। জানুয়ারি থেকে তিনি নতুন প্রধান আর্থিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকটির পরবর্তী প্রধান নির্বাহী হতে যাচ্ছেন গ্রেগ গুয়েট। এইচএসবিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রুপ নির্বাহী কমিটির পর্যালোচনা অনুসারে নতুন এ পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদি উত্তরাধিকার পরিকল্পনার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।
তবে সব ছাপিয়ে এইচএসবিসি এর বৃহত্তম বাজার হংকং ও ব্রিটেনে চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। হংকংয়ের অর্থনীতি সংকুচিত হয় বছরের প্রথমার্ধেই। তৃতীয় প্রান্তিকের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। তবে দেশটির সরকার আগস্টে বলেছিল, তারা আশা করছে জিডিপি মাইনাস দশমিক ৫ শতাংশ থেকে দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি পাবে।
জিরো কভিড নীতির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে হংকংয়ের অর্থনীতি। হংকং থেকে এ প্রান্তিকে ব্যাংকটির করপূর্ব মুনাফা কমেছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থের অংকে যার পরিমাণ ১৭০ কোটি ডলার। তবে এশিয়া থেকে ব্যাংকটির করপূর্ব মুনাফা ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৫০ কোটি ডলারে।
তৃতীয় প্রান্তিকে এইচএসবিসির আয় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এ সময় সুদ আয় ৩০ শতাংশ বেড়ে ৮৬০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।










