দেশের বাজারে কাঁচামরিচ সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি চলমান। হিলি স্থলবন্দরে একদিনেই ১৪টি ট্রাকে ৮১ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। ভারতের বাজারে দাম কমায় আমদানির পরিমাণ বেড়েছে বলে দাবি আমদানিকারকদের। এর প্রভাবে দাম কমতে শুরু করেছে।

হিলি স্থলবন্দরে কাঁচামরিচ কিনতে আসা মোজাম হোসেন বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দেশীয় কাঁচামরিচের দাম এখনো বেশি। তুলনামুলক দাম কম ও মান ভালো হওয়ায় আমদানীকৃত ভারতীয় কাঁচামরিচ কিনতে এসেছি।’

তিনি জানান, গত কয়েকদিন স্থলবন্দর দিয়ে অনিয়মিতভাবে কম আমদানি হয়েছে, যার কারণে দামও বাড়তি ছিল। গত বৃহস্পতিবার একদিনে প্রচুর কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে, ফলে দাম কিছুটা কমেছে। আগের দিন যে মরিচ বন্দর থেকে ১০০-১০৫ টাকায় কিনতে হয়েছে, তা এখন ৯৫ টাকা। 

হিলি স্থলবন্দরের কাঁচামরিচ আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‌বৈরী আবহাওয়া, তীব্র গরম ও খরায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খেত নষ্ট হয়ে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে দেশের বাজারে পণ্যটির চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমার সঙ্গে দামও বেড়েছে। এ অবস্থায় সরকার ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেয়। অনুমতি পাওয়ার পরই বন্দর দিয়ে আমদানি শুরু করেন আমদানিকারকরা। এতে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বাড়ায় দাম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।’

অন্যদিকে, দেশের বাজারে এর দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। যার কারণে আমদানিতে পড়তা হওয়ায় ও দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আবারো বন্দর দিয়ে আমদানি শুরু করেছেন বন্দরের আমদানিকারকরা। গতকাল একদিনেই বন্দর দিয়ে ৮১ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে এসেছে। বন্দরে আমদানীকৃত কাঁচামরিচ ৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে। আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরো কমে আসবে এবং দাম অস্থিতিশীল হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমদানির অনুমতি পাওয়ায় দীর্ঘ ১০ মাস পর গত ২৬ জুন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়। এর পর থেকে আমদানি অব্যাহত। গত বৃহস্পতিবার একদিনেই বন্দর দিয়ে ১৪টি ট্রাকে ৮১ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। যেখানে এর আগের দিন তিনটি ট্রাকে ১৬ হাজার ২৩৭ কেজি কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছিল। এছাড়া গত মঙ্গলবার দুটি ট্রাকে ৭ হাজার ৩৯২ টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছিল।