বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৭ জন কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের চট্টগ্রামের তিনটি শাখা থেকে ৩ হাজার ৩শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। এস আলম গ্রুপ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদেরকে তলব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুদকের উপপরিচালক মো. ইয়াছির আরাফাত স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে এ তলবের বিষয়টি জানানো হয়। ইয়াছির আরাফাত এই অনুসন্ধানের দল নেতা। দুদকের উপপরিচালক জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর দুদকে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।
এসব কর্মকর্তারা হলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগের উপপরিচালক জুবাইর হোসেন, যুগ্মপরিচালক সুনির্বাণ বড়ুয়া, উপপরিচালক খোরশেদুল আলম, উপপরিচালক দোবশীষ বিশ্বাস, উপপরিচালক মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বাবলু, উপপরিচালক রুবেল চৌধুরী, যুগ্মপরিচালক অনিক তালুকদার, অতিরিক্ত পরিচালক ছলিমা বেগম, যুগ্মপরিচালক বেলাল হোসেন, যুগ্মপরিচালক সৈয়দ মু. আরিফ-উন-নবী, অতিরিক্ত পরিচালক শংকর কান্তি ঘোষ, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পরিচালক মো. শোয়াইব চৌধুরী, পরিদর্শন দলের উপপরিচালক লেনিন আজাদ পলাশ, পরিদর্শন দলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুর রউফ, পরিদর্শন দলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মঞ্জুর হোসেন খান এবং পরিচালক ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের অবজারভার মো. সরোয়ার হোসাইন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী গোলাম সরওয়ার চৌধুরীসহ অন্যান্যরা ৩ হাজার ৩শ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মেসার্স মুরাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী গোলাম সারওয়ার চৌধুরী, জুবিলী রোড শাখার গ্রাহক ইউনাইটেড সুপার ট্রেডার্স, খাতুনগঞ্জ শাখার গ্রাহক সেঞ্চুরি ফুড প্রোডাক্টসসহ অন্যরা ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ইসলামী ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩ জন কর্মকর্তাকে বক্তব্য দেয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হলেও তারা হাজির হননি। এজন্য দুদক পুনরায় তাদেরকে প্রধান কার্যালয়ে এসে বক্তব্য বা লিখিত বক্তব্য দেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে। যদি নির্ধারিত সময়ে হাজির না হন, তবে তাদের কোনো বক্তব্য নেই হিসেবে গণ্য হবে এবং অভিযোগ সম্পর্কিত আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে এস আলম গ্রুপ ও তার সহযোগীদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ২৩ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। তাদের গত ১০, ১১ ও ১২ নভেম্বর দুদক জিজ্ঞাসাবাদ করে।










