বাংলাদেশকে শ্রম আইন সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। আইএলওর ২৬ ধারা অনুযায়ী ৮১, ৮৭ ও ৯৮ সনদ অনুসরণ না করায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সুষ্ঠু সমাধানের নকশা তৈরি এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বলেছে সংস্থাটি। গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপে এসব কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএলওর  প্রতিনিধি টুমো পৌটিআইনেন ।

‘সামাজিক ন্যায়বিচারকে এগিয়ে নিতে উপযুক্ত কাজ’ শীর্ষক যৌথভাবে এ সংলাপ আয়োজন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা।

বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএলওর প্রতিনিধি বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন যাত্রায় একটি বড় মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবে। এটি বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রমাণ হলেও এ দেশকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। বাণিজ্য সুবিধা হারানোয় বৈশ্বিক বাজার প্রতিযোগিতার মানদণ্ডের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। সেজন্য শ্রম আইনে প্রয়োজনীয় সংস্কারের নকশা ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২৬ ধারার অভিযোগকে কার্যকরভাবে সমাধান করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিগত ৫২ বছর ধরে আইএলও বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রম অধিকার নিশ্চিতে যৌথভাবে কাজ করছে। আমরা অনেক জটিল ইস্যু নিয়েও কাজ করেছি।’

টুমো পৌটিআইনেন আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিএলএ (বাংলাদেশ শ্রম আইন) সংশোধনকে কেন্দ্র করে অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্রমাগত শ্রম আদালতের মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘এসব প্রক্রিয়ায় সামাজিক অংশীদারদের টেকসই এবং ন্যায়সংগত অগ্রগতি, অংশগ্রহণ এবং অর্থপূর্ণ সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা যাবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘কর্মসংস্থান, শ্রম অধিকার, ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। শ্রম ক্ষেত্রে শুধু শ্রমিকদের নিরাপত্তাই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নে কীভাবে তারা ভূমিকা রাখতে পারেন, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলব, যেখানে সব শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং তাদের অবদানকে মূল্য দেয়া হবে।’ শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

সংলাপে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সে কারণে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। নারী ও যুবকদের জন্য মানানসই কাজ ও গ্রিন জবে আমরা এখন প্রাধান্য দিচ্ছি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি নিশ্চিত, বিশেষ করে আরএমজি সেক্টরে এটা নিশ্চিতে জোর দেয়া হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতেও সরকার কাজ করছে।’