পণ্যবাহী কনটেইনার সংকটে ভারতসহ এশিয়ার চাল রফতানিকারক দেশগুলো আগে থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। এবার এ চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে ভারতের চিনি রফতানি শিল্পেও। সময়মতো পর্যাপ্ত কনটেইনার না পাওয়া ও এর জের ধরে রফতানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে আগামী দিনগুলোয় ভারত থেকে চিনি রফতানি কমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস লাইন ও ইকোনমিক টাইমস।

ভারতের অন্যতম শীর্ষ চিনি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান শ্রী রেনুকা সুগার্স লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট রবি গুপ্তা বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে কনটেইনারযোগে ৩ লাখ ৭০ হাজার টন চিনি রফতানি হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা সাকল্যে ৭০ হাজার টনে নেমে এসেছে। এর পেছনে প্রধানতম কারণ রফতানিযোগ্য পণ্যবাহী কনটেইনার সংকট।

বিশ্বজুড়ে করোনা ভ্যাকসিন পরিবহনে কনটেইনার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবহার হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্লাভস, মাস্ক কিংবা পিপিইর মতো স্বাস্থ্য সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যস্ত সময় পার করছে কনটেইনার কোম্পানিগুলো। এর জের ধরে মহামারীকালে চাল-চিনির মতো নিত্যপণ্য পরিবহনে দেখা দিয়েছে কনটেইনার সংকট।

রবি গুপ্তা আরো বলেন, কনটেইনার সংকটের কারণে ভারত থেকে কিছুটা নিম্নমানের পরিশোধিত চিনির রফতানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আফগানিস্তান, শ্রীলংকাসহ এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার কিছু দেশে এ মানের চিনির বাড়তি চাহিদা রয়েছে। তবে সময়মতো পর্যাপ্ত কনটেইনার না পাওয়ায় রফতানি করা যাচ্ছে না। কনটেইনার পেলেও বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। যা রফতানিযোগ্য চিনির পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে এবারের মৌসুমে ভারত থেকে চিনি রফতানি কমে যেতে পারে।

ভারত বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চিনি রফতানিকারক দেশ। প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে দেশটিতে চিনির নতুন বিপণন মৌসুম শুরু হয়। চলে পরের বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। চলতি ২০২০-২১ মৌসুমে সব মিলিয়ে ৬০ লাখ টন চিনি রফতানির লক্ষ্য এগিয়ে নিচ্ছে ভারত। এর মধ্য থেকে জরুরি ভিত্তিতে ১০ লাখ টন চিনি রফতানির প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএমএ)।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। মার্চ-এপ্রিলের আগে ব্রাজিলের চিনি বাজারে আসবে না। তার আগেই আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক বাড়তি দামে চিনি রফতানির সুযোগ কাজে লাগাতে চান ভারতীয় রফতানিকারকরা। মূলত এ কারণে রফতানি বাড়ানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে চলমান পণ্যবাহী কনটেইনার সংকট।