মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান আরব ব্যাংক গ্রুপ ২০২৩ সালে ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির ট্যাক্স-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ছিল ৫৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। প্রাতিষ্ঠানিক নীতি ও বিভিন্ন বাজারে ইতিবাচক প্রভাবের কারণে এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর গালফ নিউজ। 

পাঁচ মহাদেশজুড়ে ছয় শতাধিক শাখা নিয়ে বিস্তৃত আরব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় জর্ডানের আম্মানে। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির ট্যাক্স-পূর্ব নিট মুনাফা ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে সম্পদ বেড়েছে ৬ শতাংশ, ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৫ শতাংশ ও আমানত বেড়েছে ৬ শতাংশ। ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাবিহ মাসরি বলেন, ‘‌ব্যাংকের নীতি ও কৌশলগত সফলতা প্রমাণ করেছে এ শক্তিশালী পারফরম্যান্স। আরব ব্যাংক টেকসই প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিস্থাপক ব্যবসায়িক মডেলের দিকে জোর দেয়। 

এর ফল হয়েছে ইতিবাচক। এছাড়া স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় জোর দেয়া হয়েছে।’ 

সাম্প্রতিক বছরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নেয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা। ফলাফলে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বিভিন্ন খাতে ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা বেড়েছে। সেদিকে ইঙ্গিত করে আরব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রান্দা সাদিক বলেন, ‘‌২০২৩ সালে ব্যাংকের পরিচালন আয় বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। একই সময়ে বিভিন্ন খাতে তৎপরতা বেড়েছে।’

রান্দা সাদিকের ভাষায় প্রতিষ্ঠানের তারল্য পরিস্থিতি এখনো যথেষ্ট অনুকূলে রয়েছে। আমানতের বিপরীতে ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। সম্প্রসারণ কৌশলের অংশ হিসেবেই নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সম্প্রতি। ইরাকের পুঁজিবাজারে প্রবেশ করে লাভ করেছে শক্তিশালী অবস্থান। সেখানে প্রাইভেট ব্যাংক খাতের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চায় আরব ব্যাংক। সুইজারল্যান্ডেও তৎপরতা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত বছর দেশটির অন্যতম শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান গোনেট অ্যান্ড সিয়েকে অধিগ্রহণ করে আরব ব্যাংক সুইজারল্যান্ড। ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপের দেশটির অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে এ পদক্ষেপ। রান্দা সাদিক বলেছেন, ‘স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ করে যাচ্ছে আরব ব্যাংক। ফলে ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধির এ ধারা ত্বরান্বিত হবে।’