কভিডের চিকিৎসা ও ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিটের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে রোশের। তৃতীয় প্রান্তিকে সুইস ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি ৬ শতাংশ কমে গিয়েছে।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রোশের আয় ১ হাজার ৪৭৪ কোটি সুইস ফ্রাঁয় (১ হাজার ৪৮৪ কোটি ডলার) দাঁড়িয়েছে। এ আয়ের পরিমাণ বাজার প্রত্যাশা ১ হাজার ৫৫০ কোটি ফ্রাঁর চেয়ে কম।

এক বিবৃতিতে সুইস প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২২ সালের তৃতীয় প্রান্তিক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং ছিল। ২০২১ সালের এ সময়ে কভিডের ওষুধ ও পরীক্ষা কিটের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। বর্তমানে ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ সত্ত্বেও আসলে আমরা কভিড-সম্পর্কিত পণ্যগুলোর চাহিদা বাড়তে দেখছি না। সংস্থাটির হাতে এ রোগের ওষুধ ও পরীক্ষা কিট বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে।

তৃতীয় প্রান্তিকে সংস্থাটির অ্যান্টিবডি বেস্টসেলার ওষুধ ওক্রেভাসের বিক্রি ১৬ শতাংশ বেড়ে ১৫২ কোটি ফ্রাঁয়ে পৌঁছেছে। পাশাপাশি আরেক অ্যান্টিবডি হেমলিব্রার বিক্রি ২৩ শতাংশ বেড়ে ৯৫ কোটি ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁয় পৌঁছেছে।

বিনিয়োগ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান জেফরিজের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, হেমলিব্রা ও ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপি টেসেন্ট্রিকের বিক্রি বাজারের আশঙ্কার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। বিদেশী মুদ্রার বিনিময় হারের প্রভাব বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছর একক অংকের বিক্রি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে শেয়ারপ্রতি মুনাফা নিম্ন থেকে মধ্য একক সংখ্যার পরিসরে হবে।

সম্প্রতি চীনে চাহিদা পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে। কারণ মানুষরা কঠোর লকডাউন ব্যবস্থার পরে আবারো চিকিৎসকদের দেখানো শুরু করেছে। যদিও এ হার এখনো প্রাক-কভিড স্তরে ফেরেনি।

এদিকে পরীক্ষামূলক আলঝেইমারের ওষুধ গ্যানটেনেরুম্যাবের ট্রায়ালের তথ্য আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশিত হবে বলে জানিয়েছে রোশ। প্রতিষ্ঠানটি এ ওষুধটি নিয়ে অনেক আশাবাদী। গত মাসে প্রতিদ্বন্দ্বী ইসাই ও বায়োজেন একই ধরনের প্রোটিন ওষুধ প্রয়োগে ইতিবাচক ফলাফলের কথা জানিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আগেই মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন রোশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেভেরিন শোয়ান।