প্রতি পাঁচ কোম্পানির মধ্যে দুটির প্রধান নির্বাহী বা সিইও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। এজন্য মেধাবী শ্রমশক্তির অভাব ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে দায়ী করছেন তারা। সোমবার সন্ধ্যায় ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আলোচনায় এ জরিপ তুলে ধরে পিডব্লিউসি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

গবেষণা অনুযায়ী, এক দশকের মধ্যে ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কোম্পানির প্রধান নির্বাহীরা। যুক্তরাজ্যে অবস্থিত কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের ২১ শতাংশ জানিয়েছেন, কোম্পানি বর্তমান অবস্থা নিয়ে এক দশক পার হতে পারবে না। বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের ৩৯ শতাংশ একই মত পোষণ করেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৩ শতাংশ দাবি করেছেন, আগামী বছরগুলোয় তাদের উৎপাদন কমে যাবে।

প্রাইস ওয়াটারহাউজ কুপারস (পিডব্লিউসি) জরিপে দেখা যায়, বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর তুলনায় যুক্তরাজ্যের অবস্থা কিছুটা ভালো। ৪ শতাংশ ব্রিটিশ নির্বাহী প্রধান ব্যাপক মন্দার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যেখানে বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোয় এ মাত্রা ১২ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের ৪০ শতাংশ প্রধান নির্বাহী বিশ্বাস করেন, তাদের লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি দক্ষতা পর্যাপ্ত নয়। ত্বরিৎ পদক্ষেপ না নেয়া হলে সংকট আরো ঘনীভূত হবে। অন্যদিকে ৮৬ শতাংশ প্রধান নির্বাহী স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার দিকে ঝুঁকছেন বলে জানান। ৭৪ শতাংশ জানিয়েছেন, ব্যবসা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোয় দক্ষতা বাড়ানোর কথা। পিডব্লিউসির জ্যেষ্ঠ সহযোগী কেভিন এলিস বলেন, দশকজুড়ে ব্যবসায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বড় বড় শিফটে চালু হয়েছে হাইব্রিড ওয়ার্কিং ও ক্লাউড কম্পিউটিং। পুরো বিষয়টা আসলে ব্যাপক একটা পরিবর্তনের সামান্য অংশমাত্র। প্রধান নির্বাহীরা চলমান বাণিজ্য মডেলকে টেকসই মনে করছেন না। অর্থাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন রয়েছে সামনে।

ভিন্ন একটি গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ২২ জন অর্থনীতিবিদের দুই-তৃতীয়াংশ মত প্রকাশ করেছেন, ২০২৩ সালে অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি হবে পৃথিবী। অর্ধেক গবেষক মনে করেন, ইউরোপে এ বছর মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপক থাকবে। ৯০ শতাংশ অর্থনীতিবিদ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অবনমন নিয়ে সতর্ক করেছেন।