জর্জিয়ায় হুন্দাইয়ের ৭৬০ কোটি ডলারের বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) কারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্র পুনর্বিবেচনা করবে মার্কিন ফেডারেল সংস্থা আর্মি কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স (ইউএসএসিই)। পরিবেশবাদী একটি গোষ্ঠীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হুন্দাই কর্তৃপক্ষ কারখানার পানি ব্যবহারের যে প্রস্তাব দিয়েছে তার প্রভাব যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। খবর এপি।
আর্মি কোর জানিয়েছে, ২০২২ সালে হুন্দাইয়ের ইভি কারখানার অনুমোদন নেয়ার সময় রাজ্য ও স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলো উল্লেখ করেনি হুন্দাই প্রতিদিন ৬৬ লাখ গ্যালন ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের পরিকল্পনা করছে। এ ভূগর্ভস্থ পানি ওই অঞ্চলের প্রধান পানির উৎস হিসেবে ব্যবহার হয়।
এ বছরের শুরুতে জর্জিয়ার পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগ ইপিডি চারটি নতুন কূপ স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। কূপগুলোর মাধ্যমে হুন্দাই কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে এত বিশাল পরিমাণে পানি উত্তোলনের প্রস্তাব সম্পর্কে আগে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এটি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এজন্য আর্মি কোর এ প্রকল্পের অনুমোদন পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ওগিচি রিভারকিপার নামে একটি সংরক্ষণবাদী সংস্থা জুনে আর্মি কোরকে জানিয়েছিল, সংস্থাটি হুন্দাই প্রকল্পের অনুমোদন পুনর্বিবেচনা না করলে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবে।
একই সংস্থার আইন পরিচালক বেন কির্শ বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট এলাকায় এত বেশি পানি উত্তোলন করলে স্থানীয় কূপ ও কৃষিজমিতে প্রভাব পড়বে। এ সময় তিনি অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের ফলে এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ—যেমন ঝরনা, জলাভূমি ও উপনদীগুলোর ওপর কী প্রভাব পড়বে তা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন।’
পুনর্বিবেচনার এ হঠাৎ সিদ্ধান্তে হুন্দাই উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। কারখানাটি ২ হাজার ৯০০ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়া এখানে প্রায় আট হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল।
আর্মি কর্পসের ভাষ্যমতে, অনুমোদনের পুনর্বিবেচনার ফলে নির্মাণকাজে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে না। হুন্দাই মোটর গ্রুপ মেটাপ্ল্যান্ট আমেরিকা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আর্মি কর্পসকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে। এছাড়া তাদের কার্যক্রমে এলাকার পানি সম্পদের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
ওগিচি রিভারকিপার গোষ্ঠীর কির্শ জানিয়েছেন, আর্মি কর্পসের পুনর্বিবেচনা প্রকল্পের প্রকৃত প্রভাব নিয়ে আরো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হবে। এছাড়া কর্পস স্বতন্ত্রভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশা করছেন।










