ব্ল্যাকস্টোন ইনকরপোরেটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ শোয়ার্জম্যান। ২০২২ সালটি ছিল তার জন্য বেশ অর্থকড়ি আয়ের বছর। বিশেষ করে টাইটানে বিনিয়োগ তার আয়ের ঝুলিকে কয়েক ধাপ বেশি সমৃদ্ধ করেছে। এতে বিনিয়োগের কারণে গত বছর তিনি একাই ১২৭ কোটি ডলার পরিমাণ অর্থ ঘরে তুলে নিয়েছেন।

নিউইয়র্কভিত্তিক বিকল্প ধারার বিনিয়োগ কোম্পানি ব্ল্যাকস্টোনের শেয়ারের প্রায় ২০ শতাংশের মালিক শোয়ার্জম্যান। তিনি একাই প্রায় ১০০ কোটি ডলার পরিমাণ লভ্যাংশ সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া ক্ষতিপূরণ বাবদ পেয়েছেন ২৫ কোটি ৩১ লাখ ডলার, যার অধিকাংশই প্রণোদনা ফি ও তহবিলে মুনাফা বাহিত সুদ।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুসারে, তার বার্ষিক সংগ্রহ এক বছর আগের ১১০ কোটি ডলার থেকে বেড়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী হিসেবে শোয়ার্জম্যানের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি ৬০ লাখ ডলার। ৭৬ বছর বয়স্ক শোয়ার্জম্যান কিছুদির আগে একটি শিল্প সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘আমি প্রচুর শেয়ারের মালিক এবং আমি আমাদের সব তহবিলে বিনিয়োগও করি, তাই ফার্মটি অনেকাংশেই আমার পারিবারিক অফিস।’

এদিকে ব্ল্যাকস্টোন প্রেসিডেন্ট জন গ্রে ২০২২ সালে সংগ্রহ করেন ৪৭ কোটি ৯২ লাখ ডলার। এর মধ্যে ফার্মের ৩ শতাংশ শেয়ার থেকে প্রাপ্ত ১৮ কোটি ২৭ লাখ ডলার লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।

যদিও এরা দুজনের কাউকেই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নগদ বার্ষিক বোনাস দেয়া হয় না, তবু তারা ওয়াল স্ট্রিটের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আয় করে থাকেন। কেননা শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ প্যাকেজগুলো সাধারণত কয়েক লাখ ডলারের মধ্যে থাকে, যা তাদের আয়ের অন্যতম বড় উৎস হিসেবে যোগ হয়। তাছাড়া সার্বিক পরিস্থিতিতে গত বছরটি আর্থিক বাজারের জন্য একটি কঠিন বছর হওয়ায় অনেক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর বেতন কমেছে।

তবে ব্ল্যাকস্টোনের চুক্তিকারীরা আগের বছরের তুলনায় ২০২২ সালে বিভিন্ন চুক্তির বিপরীতে অধিক অর্থ উপার্জন করে। তাছাড়া দ্য কসমোপলিটন অব লাস ভেগাসের মতো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম বিক্রির মাধ্যমে তারা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রয়োজনীয় মুনাফা তুলে আনে। এভাবে সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়নের কাছাকাছি হওয়ায় ফি-সম্পর্কিত উপার্জনের পরিমাণও বেড়ে যায়।