মুনাফা বেড়েছে ডেল্টা এয়ারলাইনসের। গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ৮২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের মুনাফা পেয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ পরিষেবা প্রতিষ্ঠানটি। এ তথ্য ইঙ্গিত দেয়, জীবনযাত্রার উচ্চব্যয় সত্ত্বেও ভোক্তারা উড়োজাহাজ ভ্রমণে ব্যয় অব্যাহত রেখেছেন। খবর এপি।

আটলান্টাভিত্তিক এয়ারলাইনসটি জানিয়েছে, কভিডের বিপর্যস্ত অবস্থা কাটিয়ে শক্তিশালীভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে উড়োজাহাজ ভ্রমণ। জোরালো চাহিদা মুনাফা বাড়াতেও সহায়তা করেছে। তবে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ভ্রমণের চাহিদা ফের ধীর হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এ খবরের পর শুক্রবার মার্কিন পুঁজিবাজারে সংস্থাটির শেয়ারদর ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

একদিন আগেই চতুর্থ প্রান্তিকে আরো বেশি মুনাফা পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছিল আমেরিকান এয়ারলাইনস। বছরের শেষদিকে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম কাটানোর পর সংস্থাটি মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হতে শুরু করেছেন, যেহেতু এয়ারলাইনসগুলো নিশ্চিত হয়ে গেছে যে ভ্রমণ পুনরুদ্ধার স্থায়ী, সেহেতু এখন তারা ফ্লাইট বাড়াতে শুরু করবে। এতে এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ভাড়া কমে আসবে। এটি ভ্রমণকারীদের জন্য ইতিবাচক হলেও এয়ারলাইনস খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য হতাশাজনক খবর।

তবে জীবনযাত্রার উচ্চব্যয়ের মধ্যেও ভোক্তারা উড়োজাহাজ ভ্রমণে অবাধে ব্যয় চালিয়ে যাবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি টানা ষষ্ঠ মাসে ধীর হয়েছে। গত মাসে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

বছরের শেষ তিন মাসে ডেল্টার সামঞ্জস্যপূর্ণ মুনাফা শেয়ারপ্রতি ১ ডলার ৪৮ সেন্টে পৌঁছেছে। এ মুনাফার পরিমাণ ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসের চেয়ে ১৬ সেন্ট বেশি। এ সময়ে সংস্থাটির আয় ১ হাজার ৩৪০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে গত বছর সংস্থাটির মুনাফা ১৩০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ মুনাফা ২০১৯ সালের পর সর্বোচ্চ। মহামারী শুরুর আগের এ বছরে ডেল্টার মুনাফার পরিমাণ ছিল ৪৭০ কোটি ডলার।

ডেল্টা পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সংস্থাটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা দাঁড়াবে ১৫ থেকে ৪০ সেন্টের মধ্যে। যদিও বিশ্লেষকরা শেয়ারপ্রতি ৫৯ সেন্টের পূর্বাভাস দিয়েছেন। এছাড়া পুরো বছরে শেয়ারপ্রতি ৫-৬ ডলার মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছে ডেল্টা এয়ারলাইনস।