চলতি মৌসুমে ভারতের চিনি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ার প্রাক্কলন করছে ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (ইসমা)। প্রতিষ্ঠানটির ২০১৯-২০ মৌসুমের প্রথম প্রাক্কলন প্রতিবেদন বলছে, ভারতে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টন চিনি উৎপাদন হতে পারে। যেখানে ২০১৮-১৯ মৌসুমে উৎপাদন ছিল ৩ কোট ৩১ লাখ ৬১ হাজার টন। খবর ইকোনমিক টাইমস।

আর আগে গত জুলাইয়ে ইসমা তাদের প্রাথমিক প্রাক্কলন প্রতিবেদনে ২ কোটি ৮২ লাখ টন চিনি উৎপাদনের কথা জানিয়েছিল। জুনে দেশটির প্রধান আখ উৎপাদন এলাকায় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জরিপ চালিয়ে এ প্রাক্কলন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

এরপর গত অক্টোবরে আখ উৎপাদন এলাকা নির্ধারণ করতে স্যাটেলাইটের সাহায্যে আবারো জরিপ করে ইসমা। এ জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ভারতে সব মিলিয়ে ৪৮ দশমিক ৩১ লাখ হেক্টর জমিতে আখ আবাদ হয়েছে, যা ২০১৮-১৯ মৌসুমের আবাদের চেয়ে ১২ শতাংশ কম। এছাড়া চলতি মৌসুমে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ কারণে চার সপ্তাহ আগে যে প্রাক্কলন করা হয়েছে, ২০১৯-২০ মৌসুমে তার চেয়ে কিছুটা কম চিনি উৎপাদন হতে পারে।

অন্যদিকে দেশের মোট চিনি উৎপাদনের ৩৫-৪০ শতাংশ উৎপাদন হওয়া মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক রাজ্যে এবার চিনি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। গত বছর মহারাষ্ট্রের কয়েকটি অঞ্চলে খরার কারণে চলতি মৌসুমে মহারাষ্ট্রে আখ আবাদ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এ রাজ্যের অন্যতম আখ উৎপাদন অঞ্চল কলাহাপুর, সাঙ্গালি, সাতারা ও পুনেতে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বন্যার কারণেও আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রে চলতি মৌসুমে আখ আবাদ হয়েছে ৭ দশমিক ৭৬ লাখ হেক্টর। যেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আবাদ ছিল ১১ দশমিক ৫৪ লাখ হেক্টরে। সেই হিসাবে মৌসুমে আবাদ কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।

ইসমার প্রতিবেদন বলছে, মহারাষ্ট্রের অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আবাদি জমিতে পানি আটকে থাকায় অনেক আখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কিছু আখ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে কারণে সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রে এ মৌসুমে চিনি উৎপাদন ৪০ শতাংশ কমে দাঁড়াতে পারে ৬২ লাখ টনে। যেখানে ২০১৮-১৯ মৌসুমে উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৭২ হাজার টনের মতো।

মহারাষ্ট্রের মতো একই অবস্থা কর্ণাটক রাজ্যেও। গত বছর নিম্ন বৃষ্টিপাতের ফলে চলতি মৌসুমে এ রাজ্যে আখ আবাদ কমেছে। আবার আগস্টে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এ রাজ্যে এবার আবাদি জমি ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৯৯ লাখ হেক্টর। যেখানে গত মৌসুমে আবাদ ছিল ৫ দশমিক শূন্য ২ লাখ হেক্টরে। আর চলতি মৌসুমে এ রাজ্যে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩২ লাখ টন। যেখানে গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ৪৪ দশমিক ৩০ লাখ টন।

তবে মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে উৎপাদন কমলেও বাড়তে পারে উত্তর প্রদেশে। রাজ্যটিতে এবার আখ আবাদ ২০১৮-১৯ মৌসুমের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। তবে আবাদ কমলেও আবহাওয়া ও উচ্চফলনশীল জাত আবাদের কারণে এ রাজ্যে হেক্টরপ্রতি আখ উৎপাদনের পরিমাণ বাড়তে পারে। সে কারণেই এ রাজ্যে চলতি মৌসুমে ১ কোটি ২০ লাখ টন চিনি উৎপাদনের প্রাক্কলন করা হয়েছে। যেখানে ২০১৮-১৯ মৌসুমে উৎপাদন ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ ২১ হাজার টন।