গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে দেশটি সর্বাধিক এলএনজি রফতানি করেছে ইউরোপের বাজারে। পণ্যবাহী জাহাজের তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভ সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনে আক্রমণ চালানোর পর পশ্চিমা দেশগুলোর রোষের মুখে পড়ে রাশিয়া। দেশগুলো রুশ ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ ধারাবাহিকতায় ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি কমিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া তলানিতে নেমে আসা গ্যাসের মজুদ পুনরায় পরিপূর্ণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে অঞ্চলটির। এ কারণেই ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।

রেফিনিটিভের তথ্যমতে, মার্চে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ববাজারে সব মিলিয়ে ৭৪ লাখ ৩০ হাজার টন এলএনজি রফতানি করে। ফেব্রুয়ারিতে রফতানির পরিমাণ ছিল ৬৪ লাখ টন। সে হিসাবে রফতানি ১০ লাখ ৩০ হাজার টন বেড়েছে। এছাড়া জানুয়ারির রেকর্ড ছাড়িয়েছে গত মাসের রফতানি। জানুয়ারিতে দেশটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টন এলএনজি রফতানি করেছিল।

মার্চে ইউরোপ ছিল মার্কিন এলএনজির সবচেয়ে বড় আমদানিকারক। মোট রফতানির ৬৫ শতাংশই ইউরোপে সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে টানা চার মাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বাধিক এলএনজি আমদানি করল ইউরোপ। এর বাইরে রফতানির ১২ শতাংশ গিয়েছে এশিয়ায় এবং ৩ শতাংশ লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয়। ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ২০টি কার্গো ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি। তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কেপলারের ঊর্ধ্বতন পণ্যবাজার বিশ্লেষক রেইড আয়েনসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহতভাবে ইউরোপীয় ক্রেতাদের গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইউরোপে মার্কিন এলএনজি রফতানি গত বছরের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অঞ্চলে আরো গ্যাস প্রয়োজন। কারণ অঞ্চলটিতে বর্তমানে মোট সক্ষমতার মাত্র এক-চতুর্থাংশ গ্যাসের মজুদ রয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে মজুদ গত পাঁচ বছরের গড় মজুদের ৩৪ শতাংশ নিচে অবস্থান করছে। তবে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, চলতি বছরের নভেম্বরের শুরুতেই ইউরোপে গ্যাসের মজুদ ৮০ শতাংশে পৌঁছার সম্ভাবনা রয়েছে। মজুদ বাড়ার পাশাপাশি চাহিদাও বাড়বে।

গত ফেব্রুয়ারিতে জার্মানি জানায়, দেশটি দুটি এলএনজি আমদানি টার্মিনাল তৈরি করবে। মূলত রাশিয়ান গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশটির মজুদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নরওয়েভিত্তিক জ্বালানি বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রেইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক ভিনিসিয়াস রোমানো বলেন, ঝুঁকি মোকাবেলায় ইউরোপের অন্যান্য দেশের জন্য আদর্শ হতে পারে জার্মানির মজুদ বৃদ্ধির এ পরিকল্পনা।

এদিকে গত মাসেও বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী ছিল এলএনজির দাম। চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় বাজার আদর্শ এলএনজি বেচকেনা হয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ৩৯ ডলার ২২ সেন্টে। অথচ ফেব্রুয়ারির একই সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউর দাম ছিল ২৮ ডলার ৬১ সেন্ট।