বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অর্ধেকে নামিয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ভোক্তা চাহিদা সংকোচনের কথা। বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় সুদহার বাড়িয়েছে। ফলে ব্যয় কমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার ভোক্তারা। পূর্বাভাস কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে চীনের আবাসন খাতের চলমান সংকট এবং ইউক্রেন যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবকেও বিবেচনায় নিয়েছে ডব্লিউটিও। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ডব্লিউটিও গত এপ্রিলে ২০২৩ সালের জন্য বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্যে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৭ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিল। সর্বশেষ পূর্বাভাসে তা দশমিক ৮ শতাংশে নামানো হয়েছে। চলতি বছরে সবচেয়ে মন্থর থাকতে পারে লোহা, ইস্পাত, টেলিকম যন্ত্রপাতি ও তৈরি পোশাক খাত। তবে গাড়ির বাজার কিছুটা ব্যতিক্রম। মহামারী পরবর্তীকালে সরবরাহ সংকটের সময় পার করে গাড়ির বাজার এখন ঊর্ধ্বমুখী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি বিক্রি বাড়ছে।
ইউরোপের বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানি বর্তমানে প্রতিকূল সময় অতিক্রম করছে। চলতি বছরের আগস্টে দেশটির রফতানি কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে আমদানি কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ। বাণিজ্যের এ অবনমন দেশটির জন্য মন্দার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংক মরক্কোর মারাকেশে বিশেষ আলোচনায় বসবে। উভয় প্রতিষ্ঠানই বৈশ্বিক অর্থনীতির পূর্বাভাস নামিয়ে আনতে পারে। তার ঠিক আগে আগে প্রকাশ হলো ডব্লিউটিওর প্রতিবেদন। যদিও ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পিটারসন ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, আগামী বছর পুনরুদ্ধার হতে যাচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কিছুটা অবনমন ঘটবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো শুরু করবে সুদহার কমানোর যাত্রা।
চীনের আবাসন খাত ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ধাতুর বাজার। বিশ্বব্যাপী পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার ধকল গেছে সরবরাহ চেইনের ওপর দিয়ে। পণ্যের প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। তবে ২০২৪ সালের বাণিজ্য নিয়ে আশাবাদী বিশ্লেষকরা। ডব্লিউটিওর প্রধান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের মন্থরতার কারণে বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবনমান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশের মানুষের জন্য সংকুচিত হয়েছে বাজার। সরবরাহ চেইনে ভঙ্গুরতা সে অবস্থাকে আরো জটিল করে তুলেছে।
২০২২ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ২ দশমিক ৮ শতাংশ থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। ডব্লিউটিও জানিয়েছে, আগামী বছরের প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বাণিজ্য। বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি আগামী বছর ৩ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়াবে। এর আগে গত এপ্রিলেও ডব্লিউটিও একই পূর্বাভাস দিয়েছিল।
পূর্বাভাসে পরিষেবা খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০২২ সালে পুনরুদ্ধারের পর বৈশ্বিক পর্যটন খাতও যথেষ্ট গতিশীল ছিল। বৈশ্বিক পরিষেবা খাত ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে বেড়েছে ৯ শতাংশ। ২০২২ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৯ শতাংশ কমেছে। রফতানির দিক থেকে ইউরোপ ও এশিয়ার রফতানি যথাক্রমে দশমিক ৪ এবং দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। তবে সে তুলনায় উত্তর আমেরিকার রফতানি থাকবে কিছুটা বেশি। উত্তর আমেরিকার রফতানি চলতি বছর ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
ডব্লিউটিওর প্রধান অর্থনীতিবিদ রালফ ওসা বলেন, ‘উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ায় ২০২৩ সালে আমদানির পরিমাণ দশমিক ৪ থেকে ১ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে।’










