ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর কাছ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যদিও সম্প্রতি পাওয়া তথ্যানুযায়ী, অঞ্চলটিতে রুশ এলএনজি আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। খবর ইউরোনিউজ।
পরিবেশ পর্যবেক্ষক সংস্থা গ্লোবাল উইটনেস প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইইউ ২ কোটি ১৬ লাখ কিউবিক মিটার রুশ এলএনজি কিনেছে। ২০২২ সালে ২ কোটি ১৩ লাখ কিউবিক মিটার কেনা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের আমদানির সঙ্গে যুদ্ধপূর্ববর্তী ২০২১ সালের পরিমাণ তুলনা করলে দেখা যায় এর হার ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। ইউক্রেনে জোরপূর্বক প্রবেশ, হামলা চালানো ও নৃশংসতার জন্য মস্কোর সমালোচনা করে আসছে ইইউ। যদিও একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে অঞ্চলভুক্ত দেশগুলো।
বছরের প্রথম সাত মাসে রুশ এলএনজি আমদানিতে পাঁচটি দেশ শীর্ষে রয়েছে। এর মধ্যে চীন ৮৭ লাখ, স্পেন ৭৫ লাখ, বেলজিয়াম ৭১ লাখ, জাপান ৭০ লাখ ও ফ্রান্স ৪৫ লাখ কিউবিক মিটার এলএনজি আমদানি করেছে। উপকূলীয় দেশ হিসেবে স্পেন, বেলজিয়াম ও ফ্রান্স এখন এলএনজি সরবরাহকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। রুশ এলএনজি ব্যবহারকারী হিসেবে নেদারল্যান্ডস, গ্রিস, পর্তুগাল, ফিনল্যান্ড, ইতালি, সুইডেনকেও তালিকাবদ্ধ করেছে গ্লোবাল উইটনেস। বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের কাছ থেকে জাহাজীকরণের তথ্য পাওয়া গেছে। সামগ্রিকভাবে ইইউ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রফতানীকৃত রুশ এলএনজির ৫২ শতাংশই কিনেছে বলে তথ্যে জানা গেছে, যা ২০২২ সালের ৪৯ শতাংশ ও ২০২১ সালের ৩৯ শতাংশ বাজার হিস্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।
গ্লোবাল উইটনেস জানায়, চলতি বছর ৫২৯ কোটি ইউরোর এলএনজি কিনতে পারে ইইউ। ইউক্রেনে পরিচালিত সামরিক আগ্রাসনের বিষয়ে ক্রেমলিনের ওপর চাপ তৈরিতে যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এলএনজি ক্রয়ের হিসাব সেটিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইইউ রুশ কয়লা ও পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এলএনজি সেভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসেনি।
জাতীয় পর্যায়ে গৃহীত পদক্ষেপ ও পুতিনের প্রতিশোধের কারণে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ অনেকটাই কমে এসেছে। কিন্তু ইউরোপের বন্দরগুলোয় এলএনজি বহনকারী রুশ ট্যাংকারগুলোকে স্বাগত জানানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এক বিবৃতিতে গ্লোবাল উইটনেসে জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে ক্যাম্পেইন পরিচালনাকারী জোনাথন নরনহা-গ্যান্ট জানান, ইউরোপিয়ান দেশগুলো যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান করলেও তারা পুতিনকে অন্যভাবে অর্থায়ন করছে।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্যেও একই বিষয় উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে ইইউতে এলএনজি সরবরাহের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রাশিয়া।
ব্রাসেলসভিত্তিক ইকোনমিক থিংক ট্যাংক ব্রয়েগেল রুশ এলএনজি সরবরাহে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখতে পায়নি। বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনে পরিচালিত নৃশংসতার কারণেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২০২২ সালের মার্চে ইইউ ১৯ লাখ ৯০ হাজার কিউবিক মিটার ও ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ১৫ লাখ ৯০ হাজার কিউবিক মিটার রুশ এলএনজি কিনেছে।
সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) সিনিয়র অ্যানালিস্ট আইস্যাক লেভি সতর্কবার্তায় জানান, এলএনজি বাহকদের জন্য উপকূলীয় দেশগুলো কেন্দ্র হলেও মূল ভোক্তারা ইউরোপজুড়েই অবস্থান করছে।










