আগামী ২০২৩-২৪ মৌসুমে তুলার বৈশ্বিক উৎপাদন ৩ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ব্যবহারের পরিমাণ স্থিতিশীল থাকতে পারে। মৌসুম শেষে পণ্যটির মজুদও কমতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মার্কিন কৃষি বিভাগ এসব তথ্য জানিয়েছে। 

তুলার বাজারদরে উত্থান পতনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে চীন। দেশটিতে চাহিদা কমে গেলে পণ্যটির দাম নিম্নমুখী চাপে পড়তে পারে। চলতি বছরের বাকি সময়জুড়ে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ৮০ সেন্টের কাছাকাছি অবস্থান করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য বলছে, চলতি বছরের অক্টোবরে তুলার বৈশ্বিক উৎপাদন মৌসুম শুরু হবে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে মৌসুম শেষ হবে। এ মৌসুমে ১১ কোটি ৪১ লাখ  বেল তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও উজবেকিস্তানে উৎপাদন বিপুল পরিমাণে কমে যাওয়ার আশঙ্কায় এ পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ। এদিকে ভারতেও পণ্যটির উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। 

তবে চলতি মৌসুমে বিশ্বজুড়ে তুলা উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১১ কোটি ৮৩ লাখ বেলে। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে। 

ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি গত মাসে এক পূর্বাভাসে জানায়, আগামী মৌসুমে তুলার বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়াবে ২ কোটি ৪৫ লাখ ১০ হাজার টনে, যা ১১ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার বেলের সমান। 

ফিচ সলিউশনের গবেষণা এজেন্সি বিএমআই জানায়, আগামী মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ১১ কোটি ৬৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদন হতে পারে। চলতি মৌসুমে উৎপাদন হতে পারে ১১ কোটি ৭৬ লাখ বেল। সে হিসেবে উৎপাদন প্রায় দশমিক ৯ শতাংশ কমবে।  

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, আগামী মৌসুমে ব্রাজিলে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, চীনে ১২ দশমিক ১ ও ভারতে ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমবে উৎপাদন। এ তিন দেশই মূলত বৈশ্বিক উৎপাদন কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। 

বর্তমানে বিশ্ববাজারে তুলার দাম কম। এ কারণে অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম লাভজনক। তার ওপর সারের সরবরাহ সংকটও চাষীদের তুলা উৎপাদনে নিরুৎসাহিত করছে। এসব কারণে মূলত ব্রাজিল, চীন ও ভারতে তুলার আবাদ কমছে, নিম্নমুখী হয়ে উঠছে উৎপাদন। 

মার্কিন কৃষি বিভাগ জানায়, আগামী মৌসুমে তুলার বৈশ্বিক ব্যবহার দাঁড়াতে পারে ১১ কোটি ৬৯ লাখ বেলে। চীনে এর ব্যবহার ব্যাপক বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উজবেকিস্তানে ব্যবহার কমে যেতে পারে। 

ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটির হিসাব মতে, আগামী মৌসুমে তুলার ব্যবহার ২ কোটি ৩৭ লাখ ৯০ হাজার টনে উন্নীত হতে পারে। অন্যদিকে বিএমআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, ব্যবহার ৫ শতাংশ বেড়ে ১১ কোটি ৬৪ লাখ বেলে পৌঁছতে পারে। 

মার্কিন কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি মৌসুম শেষে তুলার মজুদ দাঁড়াতে পারে ৯ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার বেলে। চলতি মৌসুমে মজুদের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার বেল। 

বিএমআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর তুলার গড় দাম দাঁড়াতে পারে পাউন্ডপ্রতি ৮৬ দশমিক ৫ সেন্টে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৭ সেন্টে। চীনের মূল ভূখণ্ডে প্রত্যাশার চেয়ে কম চাহিদার কারণে দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম।