আগামী বছর থেকে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ওপর করপোরেট কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সিঙ্গাপুর। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হাব তৈরিতে আরো বিনিয়োগ বাড়াবে দেশটি। সিঙ্গাপুরের অর্থমন্ত্রী লরেন্স ওং ঘোষিত বাজেটে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তিনি ২০২৪ সালের জন্য ১১ কোটি ১৭ লাখ ৬০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার (৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার) বাজেট রূপরেখা দিয়েছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৫০০ কোটি সিঙ্গাপুর ডলার বেশি। খবর নিক্কেই এশিয়া।
সিঙ্গাপুর সরকার ২০২৪ অর্থবছরে দশমিক আট বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলারের সমান বাজেট উদ্বৃত্তের প্রত্যাশা করছে, যা সিঙ্গাপুরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় দশমিক ১ শতাংশের সমান। এ উদ্বৃত্ত ২০২৩ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড করা ৩৫৭ কোটি সিঙ্গাপুর ডলার বাজেট ঘাটতির বিপরীত। প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের স্থলাভিষিক্ত হতে যাওয়া লরেন্স ওং জানান, আগামী বছরগুলোয় সুষম বাজেট বজায় রাখতে পর্যাপ্ত রাজস্ব নিশ্চিত করে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি ব্যয় জিডিপির প্রায় ২০ শতাংশের কাছে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সিঙ্গাপুর তার কর নীতিকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করছে, যাতে দেশজুড়ে কর অসঙ্গতিগুলোকে দূর করা যায়। এ সংস্কারের লক্ষ্য হচ্ছে দেশজুড়ে ১৫ শতাংশ ন্যূনতম করপোরেট করহার নির্ধারণ করা। এতে বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যায্য কর প্রতিযোগিতা কমে আসবে। ফলে এ অঞ্চলের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুর এ লক্ষ্যে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে সক্রিয়ভাবে বহুজাতিক কোম্পানির গ্রুপগুলোর জন্য একটি ডোমেস্টিক টপ-আপ ট্যাক্স (ডিটিটি) বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। যেসব বহুজাতিক কোম্পানির বৈশ্বিক আয় বার্ষিক ৮০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি, সিঙ্গাপুরের পরিচালিত সেসব বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফার ক্ষেত্রে এ কর প্রযোজ্য হবে।
কর সমন্বয় ছাড়াও সিঙ্গাপুর আগামী বছরের জন্য ৫০ শতাংশ করপোরেট আয়কর ছাড়সহ কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন সুবিধা সরবরাহ করবে। এআইনির্ভর কারখানা, গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে করা ফেরতযোগ্য বিনিয়োগ ক্রেডিট স্কিমও চালু করা হবে।
কর সংস্কার ছাড়াও এআই শিল্পের বিকাশ ও প্রবৃদ্ধি জোরদার করতে সিঙ্গাপুর পাঁচ বছরে ১০০ কোটি সিঙ্গাপুরি ডলার বিনিয়োগ করবে, যার মাধ্যমে উন্নত এআই চিপগুলোয় অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি শ্লথ হয়ে আসার প্রেক্ষাপটে বাজেটে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৩ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ১ দশমিক ২ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়ে মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। চলমান ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে একটি মিশ্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত করেছেন লরেন্স ওং। তিনি আসন্ন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাগরিকদের ব্যয়ের চাপ কমানোর একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নগদ অর্থ প্রদান ও পরিবারের জন্য ইউটিলিটি বিল ছাড় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সিঙ্গাপুরবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় কমিয়ে আনতে সহায়তা করছি, যা আমাদের অর্থনীতি বাড়াতে সাহায্য করবে।’










