ভারতের পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোর সম্পদ মূল্য দেশটির জিডিপি (৪ ট্রিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে। গতকালই ভারতীয় স্টক এক্সচেঞ্জে (বিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সম্পদ মূল্য ৩৩৩ লাখ কোটি রুপির মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এ লেনদেন বৈশ্বিক পুঁজিবাজারগুলোর মধ্যে ভারতকে পঞ্চম স্থানে এনে দিয়েছে। ভারতের সামনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও হংকং। খবর দি ইকোনমিক টাইমস।
ন্যাশনাল সিকিউরিটিস ডিপোজিটরি লিমিটেডের (এনএসডিএল) তথ্যানুসারে, বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যারা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বিক্রেতা ছিল, তারা এখন ভারতীয় স্টকের নিট ক্রেতা হতে শুরু করেছে। নভেম্বরে এখন পর্যন্ত নিট বিদেশী ক্রয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯০১ কোটি রুপিতে।
২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিদেশী বিনিয়োগের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ কোটি রুপিতে। যেখানে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ১৭৭ দশমিক ৫ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছেন।
মরগান স্ট্যানলির চেতন আহিয়া বলেন, ‘বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো মূল্যায়ন। শুরুটা হয় দুর্দান্ত। তবে আমাদের যে পরিমাণে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রবাহ রয়েছে এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীরা কিনছে, এটা বাজারকে কিছুটা ব্যয়বহুল করে রাখছে।’
ভারত বিশ্বের বৃহৎ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদেশী ব্রোকিং ফার্ম সিএলএসএর পূর্বাভাস অনুসারে, ভারতীয় জিডিপির দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেশটিকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির শীর্ষ তিনটিতে নিয়ে যাবে। আজকের ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি ২০২৭ সালের মধ্যে জাপানের চেয়ে বড় হবে। ২০৪৭ সালের মধ্যে এটি ২৯ ট্রিলিয়নে গিয়ে ঠেকবে এবং ২০৫২ সালের মধ্যে ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলার হবে। ওই সময় ভারতীয় অর্থনীতি আকারের দিক দিয়ে মার্কিন অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
নিফটি ও সেনসেক্স উদ্বিগ্ন হলেও দালাল (মুম্বাই) স্ট্রিট বুলসের পূর্বাভাস, ভারতের মূল সূচকগুলো পরবর্তী পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হবে।
মার্কেট গুরু রামদেও আগরওয়াল সম্প্রতি বলেন, ‘ভারত এখন একটি ভিন্ন চক্রের মধ্যে রয়েছে।
যেখানে আমরা করপোরেট আপগ্রেড দেখতে পাচ্ছি। ইন্ডিয়া ইনকরপোরেটেডের সামগ্রিক আয় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আমাদের প্রত্যাশিত ২৬ শতাংশের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। ভারত এমন একটি ভূমিকায় আছে, এখান থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরে সূচক দ্বিগুণ হতে পারে এবং ১০ বছরে চার গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে।’
গোল্ডম্যান স্যাকসের জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্যমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে ভারতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের অবস্থান দৃঢ় করার সুপারিশ করা হয়েছিল।










