আমাদের এমন একজন অর্থমন্ত্রী ছিলেন যিনি প্রায়ই মজার মজার অথচ বেশ ব্যতিক্রমী কথা বলতেন। তিনি তৈরি পোশাক শিল্পকে পাত্তা দিতেন না। একে তিনি ‘দর্জি শিল্প’ বলে ডাকতেন। এর নেতাদের সঙ্গে পারতপক্ষে কথা বলতেন না। বলতেন এটা কোনো শিল্প নয়। এ দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। এতদসত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে আজ তৈরি পোশাক শিল্পই (আরএমজি) বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। বছরে ৪০-৪২ বিলিয়ন ডলার (১ বিলিয়ন সমান শতকোটি) তার রফতানি। অবশ্য এর ‘ভ্যালু অ্যাডিশন’ নিয়ে অনেক কথা আছে। এদিকে তিনি কৃষি খাত নিয়েও অনেক কথা বলতেন। তিনি সারের দাম বৃদ্ধির পক্ষে ছিলেন।
কারণ তিনি মনে করতেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসস্পূর্ণ হলে বৈদেশিক সাহায্য পাওয়া যাবে না। অথচ বৈদেশিক সাহায্য আমাদের দরকার। তা ছাড়া আমাদের চলবে না। অতএব কৃষিতে বেশি মনোযোগ দেয়ার দরকার নেই। কৃষিতে যা হবে তা কৃষকরা এমনিতেই করবেন। দেখা যাচ্ছে তার এসব ব্যাখ্যার পরও আমরা আজ খাদ্যশস্য বিশেষ করে চালে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। এর আমদানির পরিমাণ খুবই কম। বিপরীতে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ আমাদের খুবই কম। আমরা বৈদেশিক ঋণ নেয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি। শুধু সরকার নয়, বেসকারি খাতও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ নিচ্ছে। বস্তুত বৈদেশিক ঋণ যত পাওয়া যায়, বৈদেশিক ‘সাহায্য’ এখন তত পাওয়া যায় না। এবার আসা যাক তার আরেকটি বক্তব্যে। একবার তাকে উত্তরবঙ্গের ‘মঙ্গা’ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তখন উত্তরবঙ্গে খাদ্য পরিস্থিতি খারাপ যাচ্ছিল। মন্ত্রী মহোদয় উত্তরে বলেছিলেন, ‘মঙ্গা’ কী? তিনি ‘মঙ্গার’ কথায় যারপরনাই আশ্চর্য হয়েছিলেন, যেন তিনি এই প্রথম ‘মঙ্গার’ কথা শুনেছেন। মঙ্গা যে খাদ্যাভাব, মঙ্গা যে ভাতের অভাব, মঙ্গা যে এমনকি ভিক্ষারও অভাব তা তিনি জানেন না, এমন একটা ভাব তার চোখে-মুখে। অথচ আজ উত্তরবঙ্গে ‘মঙ্গা’ নেই। কুড়িগ্রাম ইত্যাদি অঞ্চলের লোক ‘মঙ্গা’ শব্দ থেকে বহুদূরে। দেশে এখন না খেয়ে আছে এমন লোক পাওয়া যায় না। অথচ এ অবস্থা দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় ছিল না। তখন অভুক্ত লোক, দারিদ্র্য জর্জরিত লোক ছিল অনেক। বস্তুত দারিদ্র্যের আবহেই বাংলাদেশের জন্ম। তখনকার দিনে ঘরে ঘরে দারিদ্র্য ছিল।
এমন সময়ও গেছে যখন গ্রামের মানুষ ভাতের মাড়ের জন্যও বাড়ি বাড়ি গিয়েছে। এমনকি ২০০০ সালেও দারিদ্র্য পরিস্থিতি খারাপ ছিল। তখনো ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ ছিল দারিদ্র্যসীমার নিচে। এ সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে কমতে ২০২২ সালের জরিপে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশে নেমেছে। আবার অতিদরিদ্রের সংখ্যাও বেশ কমেছে। ২০০০ সালে অতিদরিদ্র লোকের সংখ্যা ছিল ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২২ সালে তা নেমে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে এসেছে। খুবই বড় অগ্রগতি সন্দেহ নেই। তবু কথা থাকে। স্বাধীনতার ৫০-৫২ বছর পরও দেশের প্রায় তিন কোটি লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। আর কোটি খানেক লোক অতিদরিদ্র। মুশকিল হচ্ছে এ সংখ্যা কমতে বেশ সময় লাগবে। কারণ দেখা যাচ্ছে দারিদ্র্য হ্রাসের ‘হার’ দিন দিন কমছে। এটা কি অতিরিক্ত ‘ব্যবসাবান্ধব’ বাজেটের কারণে? এটা কি দারিদ্র্য নিরসনের কর্মকাণ্ডে গাফিলতির কারণে? এসব কারণ খুঁজে বের করতে হবে। বলাই বাহুল্য, স্বাধীনতার এত বছর পরও এতসংখ্যক লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করবে তা কাম্য নয়। দারিদ্র্যসীমার নিচে মানে একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য দৈনন্দিন যা প্রয়োজন তা তার নেই। প্রকারান্তরে একে আধপেটা অবস্থা বলা যেতে পারে। মুশকিল আরো আছে, কারণ যে হিসাব ২০২২ সালের খানা জরিপ আমাদের দিচ্ছে তা গড়ের (অ্যাভারেজ) হিসাব। গড়ের হিসাব প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। যেমন সারা দেশের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ লোক। এ কথা কি দেশের দরিদ্রতম অঞ্চল উত্তরবঙ্গ (কুড়িগ্রাম), কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ইত্যাদি অঞ্চলের বেলায় সত্য? আমরা জানি এসব অঞ্চল দেশের দরিদ্রতম অঞ্চল। সেখানকার অবস্থা গত পাঁচ-ছয় বছরে কি উন্নত হয়েছে? এখন বলা হয় ‘পকেট দারিদ্র্যের’ কথা। সারা দেশের গড় তথ্য আশাপ্রদ। কিন্তু দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল রয়েছে যেখানে দারিদ্র্যের অবস্থা সুখকর নয়। দেখা যায়, যেসব অঞ্চলে ‘ রেমিট্যান্স’ আসে সাধারণত সেখানকার অবস্থা ‘ভালো’, কিন্তু যেসব অঞ্চলে রেমিট্যান্স নেই সেখানকার অবস্থা তত ভালো নয়। ২০২২ সালে দেশের কোন অঞ্চলে দারিদ্র্যের অবস্থা কী সে সম্পর্কে এবারের খানা জরিপ এখনো কিছু বলেনি। বললে আমরা বুঝতে পারতাম দেশে দারিদ্র্য নিরসনের কাজ সব জায়গায় সমানভাবে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চলছে কিনা। দ্বিতীয় একটি প্রশ্নও আছে। সেটা কারিগরি প্রশ্ন। দারিদ্র্যের ‘সংজ্ঞার’ প্রশ্ন। কী কী দ্রব্যকে প্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করা হয়, কোন দ্রব্যের ‘ওয়েট’ কোন অঞ্চলে কত, বার্ষিক মূল্যস্ফীতি হিসাবে নেয়া হয়েছে কিনা ইত্যাদি কারিগরি প্রশ্ন রয়েছে। এসবের উত্তর বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসকে দিতে হবে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ছাপার সময়। যেমন ‘খানাপ্রতি আয়ের’ যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে তাতে এমন কোনো আয় নেই যা তাতে নেই। এখানে নগদে অথবা অন্যভাবে যে আয় পরিবার বা খানা বছরে বা মাসে গ্রহণ করেছে তার সবটাই খানার আয়। খানা বা পরিবারের (হাউজহোল্ড) জনসংখ্যা হচ্ছে ৪ দশমিক ২৬। অর্থাৎ প্রতি পরিবারে লোক আছে সোয়া চারজনের ওপরে। বলা বাহুল্য এর মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। রয়েছে বৃদ্ধ, কর্মক্ষম নয় এমন লোকও। অসুবিধা হচ্ছে সবাইকে ধরেই মাসিক/বার্ষিক আয়ের হিসাব করা হয়েছে। অথচ পরিবারে সবাই কর্মক্ষম নয়, সবাই রোজগার করে না। দেখা যাচ্ছে জরিপে বলা হয়েছে পরিবারপিছু ২০২২ সালে মাসিক আয় ছিল ৩২ হাজার ৪২২ টাকা। এই টাকা আয়কে যদি পরিবারের দুজনের আয়কেও ধরে নিই তাহলে একজনের মাসিক আয় হয় ১৬ হাজার ২১১ টাকা। এটা গড়ের হিসাব। বাস্তবের সঙ্গে এর সম্পর্ক টানা খুবই কঠিন। কারণ মাসিক ১৬ হাজার টাকা রোজগারি লোকের সংখ্যা কত? আমি যেখানে বাস করি সেটা একটা হাউজিং কমপ্লেক্স। এখানে বেশ কয়েকজন সিকিউরিটি গার্ড আছেন। তাদের মাসিক বেতন ৮-১২ হাজার টাকা। দোকান কর্মচারীদের বেতন-মজুরিও এমনই। অথচ এদের সংখ্যা দেশে প্রচুর। গড়ের হিসাবে তাদের আয়ও যোগ হয় বড় বড় রোজগারির সঙ্গে। তাই নয় কি? এজন্যই বলছিলাম গড়ের হিসাবে চিত্র ভালো, কিন্তু ভেতরে ভেতরে প্রশ্ন থেকে যায়।
দ্বিতীয় ইস্যু দুটো। প্রথমে হচ্ছে বৈষম্য। দ্বিতীয়টি হচ্ছে ঋণ। বৈষম্যের অবস্থা দিন দিনই খারাপ হচ্ছে। বৈষম্য মাপা হয় ‘জিনি সহগ’ দ্বারা। এটা ১০০ নম্বরের একটা স্কেল। স্কেলের যত ওপরে উঠবে তত বেশি হচ্ছে বৈষম্য। দেখা যাচ্ছে ২০১০ সালে জিনি সহগ (কোইফিশিয়েন্ট) ছিল শূন্য দশমিক ৪৫৮। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় শূন্য দশমিক ৪৮২। ২০২২ সালে এর পরিমাণ/সংখ্যা হচ্ছে শূন্য দশমিক ৪৯৯। তার মানে আমরা ধীরে ধীরে বৃহত্তর বৈষম্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ‘জিডিপি’ যত বাড়ছে, দেশের অর্থনীতি যত বড় হচ্ছে, আমদানি-রফতানি ব্যবসা যত বড় হচ্ছে ততই বাড়ছে বৈষম্য, আয়বৈষম্য। একই চিত্র ‘ ভোগবৈষম্যেও’। বৈষম্য যে বাড়ছে সে ব্যাপারে কি আমরা সচেতন? আমার সন্দেহ আছে। সন্দেহ জাগে কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্য শুনে। তারা অবিরাম বলে চলেছেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রথম পর্যায়ে বৈষম্য বাড়ে। বলাই বাহুল্য এসব কথা আমাদের একশ্রেণীর পণ্ডিত পাকিস্তান আমলে (১৯৪৭-৭১) বলতেন। ‘পূর্ব পাকিস্তান’ (আজকের বাংলাদেশ) এবং পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুই অঞ্চলের লোকের আয়বৈষম্য নিয়ে যখন কথা হতো তখনো তারা বলতেন ‘পাকিস্তান’ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন বৈষম্য বাড়বে। বৈষম্য বাড়লে কিছু লোক বড়লোক হবে, টাকার মালিক হবে। তারা উদ্যোক্তা হবে, শিল্প করবে। দেশের আরো উন্নতি হবে। তখন তার সুবিধা সবাই পাবে। কী মনে হয়, সেটা কি হয়েছিল পাকিস্তানে? বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। ভিন্নভাবে বলা যায় বৈষম্য ‘পাকিস্তান’-কে টুকরো টুকরো করেছে। ইতিহাস সাক্ষী সেই একই বৈষম্যের শিকার বর্তমান পাকিস্তান এখনো ধুঁকে ধুঁকে মরছে। অতএব, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথমদিকে বৈষম্য বাড়ে এবং পরে তা কমে—এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা। বৈষম্য করে ধনী লোক সৃষ্টি করার নীতি একটা বস্তাপচা নীতি। এ কথা এখন সবাই স্বীকার করে বৈষম্য উন্নয়নের শত্রু। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর সর্বশেষ সভায়ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও এ কথা বলে জানি। অতএব, করণীয় হচ্ছে সত্যকে স্বীকার করা এবং সেইভাবে নীতি গ্রহণ করা। জিনি সহগে যে বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে এটা হচ্ছে গড়ের হিসাব। বাস্তবে বৈষম্য আরো বেশি। আমরা একশ্রেণীর লোক দেখছি যারা সিঙ্গাপুর থেকে পানীয় জল এনে পান করে। হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়ে দুবাই-মালয়েশিয়া চলে যাচ্ছে। বিঘার পর বিঘা জমিতে তাদের বাড়িঘর। তাদের ব্যাংক লোনের টাকার কোনো খবর নেই। তারা ঋণখেলাপি। তারা করখেলাপি। সবকিছুতেই তারা খেলাপি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথম ধাপে বৈষম্যের মাধ্যমে এমন একটা আত্মধ্বংসী গোষ্ঠী তৈরি করা কি বুদ্ধিমানের কাজ? বৈষম্যের মাধ্যমে কিছু মানুষের হাতে টাকা ধরিয়ে দিয়ে খেলাপি সৃষ্টি, অর্থ পাচারকারী সৃষ্টি কি কোনো বিবেচকের কাজ হতে পারে? নিশ্চিতভাবে নয়। অবিলম্বে সরকারের উচিত বৈষম্য নিরসনের উদ্দেশ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হচ্ছে জরুরি ব্যবস্থা। এটা নয়, ব্যবস্থাটা নিতে হবে বৈষম্য সৃষ্টির গোড়ায় আঘাত করে।
আসা যাক ঋণের প্রশ্নে। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মানুষ দিন দিন ধনী হচ্ছে। পরিবারগুলো ঋণগ্রস্ত হচ্ছে। খানা জরিপের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০১০ সালে পরিবারপিছু ঋণের পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার ৬২ টাকা। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ৩৭ হাজার ৭৬৩ টাকা। ২০২২ সালে এই পরিবারপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭০ হাজার ৫০৬ টাকায়। দেখা যাচ্ছে ঋণের প্রবৃদ্ধির হার দিন দিন বাড়ছে। ২০১০-১৬ সময়কালে যে হারে পরিবারপিছু ঋণ বেড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি হারে তা বেড়েছে ২০১৬-২২ সময়ে। এমনিতে ঋণ দোষের কিছু নয়। ঋণ যদি হয় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য তাহলে এ সম্পর্কে প্রশ্ন থাকে না। বস্তুত অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঋণের ভূমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংকঋণ এক বড় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। অতএব ঋণ বৃদ্ধিতে আপত্তি নেই। কিন্তু প্রশ্ন এ ঋণ কিসের জন্য? জরিপে দেখা যাচ্ছে, গড়ের হিসেবে পরিবারপিছু মাসিক আয় ২০২২ সালে ছিল ৩২ হাজার ৪২২ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় ছিল পরিবারপিছু ৩১ হাজার ৫০০ টাকা। এ হিসেবে ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি। অতএব পরিবারের সঞ্চয় হওয়ার কথা। তাহলে ঋণ কেন? অবশ্য গ্রামের চিত্র আলাদা। সেখানে দেখা যাচ্ছে গ্রামীণ পরিবারগুলোর মাসিক আয় ছিল ব্যয়ের চেয়ে কম। এখানে বোঝা যায়, ভরণপোষণের জন্যই তাদের ঋণের দরকার, অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো করার জন্য নয়। এসব বাস্তব প্রশ্নের উত্তর দরকার। পরিশেষে বলা দরকার, খানা জরিপের সর্বশেষ কাজই একটি ভালো কাজ। তারা এ কাজ বছর বছর করতে পারলে দেশবাসী সর্বশেষ তথ্য পায়। এতে সবারই উপকার। আরেক কথা হচ্ছে বিস্তারিত প্রতিবেদন নিয়ে। এটা যত শিগগির প্রকাশ হবে ততই আমাদের জন্য ভালো। দরকার বেশি দেশের কোন অঞ্চলের দারিদ্র্যের অবস্থা কী তা জানা। উন্নয়নের সুবিধা দেশের সব অঞ্চল সমানভাবে পাচ্ছে কিনা তা জানা একটা জরুরি বিষয়। আশা করি তা আমরা অচিরেই জানতে পারব।
ড. আর এম দেবনাথ: অর্থনীতি বিশ্লেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক










