ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোয় সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণ অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে গুরুত্ব দিচ্ছে। অথচ হংকংয়ের ২০১৯ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ইউক্রেনের ২০১৪ সালের অভ্যুত্থানকে পশ্চিমা বিশ্ব প্রধানত গণতন্ত্রের সংগ্রাম হিসেবে উপস্থাপন করেছে। পশ্চিমা গণমাধ্যমের এ দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্বিচারিতা রয়েছে।
হংকংয়ের আন্দোলনে গণতন্ত্রের দাবি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই একমাত্র কারণ ছিল না। একইভাবে ফ্রান্সের অস্থিরতাকেও শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক অসন্তোষসহ নানা বিষয় গণবিক্ষোভের পেছনে কাজ করে। কিন্তু প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রে অস্থিরতা দেখা দিলে পশ্চিমা রাজনীতিক ও গণমাধ্যম প্রায়ই বিদেশী হস্তক্ষেপ এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নকে সামনে আনে। এর পেছনে রয়েছে অন্য সমাজ সম্পর্কে অজ্ঞতা, কৌশলগত স্বার্থ ও আদর্শিক পক্ষপাত।
প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কাজে লাগানোর নীতি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। হংকংয়ের অভিবাসীদের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর পরবর্তী আচরণও তাদের নীতিগত অসংগতির উদাহরণ। তাই বৈশ্বিক অস্থিরতা বিশ্লেষণে একপক্ষীয় ব্যাখ্যা পরিহার করে সামাজিক বাস্তবতা, অভ্যন্তরীণ সংকট ও আন্তর্জাতিক শক্তির ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করা জরুরি।
[সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক নিবন্ধে]
অ্যালেক্স লো: সাবেক সাংবাদিক; সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের কলামিস্ট










