এ বছর
৪
এপ্রিল
নারায়ণগঞ্জের
শীতলক্ষ্যা
নদীতে
রাফিত
আল
হাসান
নামে
মুন্সীগঞ্জগামী
একটি
লঞ্চ
যাত্রী
নিয়ে
ডুবে
যায়
এসকে
৩
কোস্টার
জাহাজের
ধাক্কায়।
সর্বশেষ
তথ্য
অনুযায়ী
৩৫
জনের
লাশ
উদ্ধার
হয়।
গত
বছর
২৯
জুন
ঢাকায়
বুড়িগঙ্গা
নদীতে
এমভি
ময়ূর-২-এর
ধাক্কায়
কয়েক
সেকেন্ডের
মধ্যে
একটি
যাত্রীবাহী
ছোট
লঞ্চ
মর্নিং
বার্ড
ডুবে
ব্যাপক
প্রাণহানি
ঘটে।
ঘটনার
ভিডিও
ফুটেজ
দেখে
মাননীয়
নৌ-পরিবহন
প্রতিমন্ত্রী
মন্তব্য
করেন,
এটা
কোনো
দুর্ঘটনা
নয়,
এটা
হত্যাকাণ্ড।
এ
ঘটনা
নিয়ে
তদন্ত
কমিটি
গঠন
করা
হয়।
কমিটি
এরই
মধ্যে
প্রতিবেদন
দাখিল
করেছে।
এ
ঘটনায়
৩৪
জনের
লাশ
উদ্ধার
করা
হয়েছিল
এবং
১
জুন
২০২০
কেরানীগঞ্জ
থানায়
মামলা
করা
হয়।
গত
বছরের
৩০
জুনের
দৈনিক
সমকালের
তথ্যমতে,
১৯৯৪
সাল
থেকে
গত
২৬
বছরে
৬৬১টি
লঞ্চ
দুর্ঘটনায়
৭
হাজারের
বেশি
মানুষ
নিহত
হন।
সরকারি
হিসাবে
নিহতের
সংখ্যা
৫৪৩১
ও
নিখোঁজ
প্রায়
১৫০০
জন।
নদী
নিরাপত্তাবিষয়ক
সামাজিক
সংগঠন
নোঙ্গরের
তথ্যমতে,
২০০৪
থেকে
২০১৮
পর্যন্ত
১৪
বছরে
৫৩৫টি
বড়
নৌ-দুর্ঘটনা
ঘটেছে
এবং
এ
সময়ে
দুর্ঘটনা
তদন্তে
৮৬৩টি
কমিটি
গঠন
করা
হয়েছে।
(সূত্র: বাংলা
ট্রিবিউন,
২৫
জানুয়ারি,
২০১৯)
এত
কমিটি
করার
পরও
নৌ-দুর্ঘটনা
কমাতে
সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষ
সক্ষম
হয়নি।
বাংলাদেশ
যাত্রী
কল্যাণ
সমিতির
বার্ষিক
প্রতিবেদন
অনুসারে
সদ্য
পেরিয়ে
আসা
২০২০
সালে
দেশে
কেবল
নৌ-দুর্ঘটনায়ই
নিহত
হয়েছেন
অন্তত
৩১৩
জন।
পরিসংখ্যান
বলছে,
নিহতের
এ
সংখ্যা
অন্যান্য
বছরের
তুলনায়
কম
ছিল।
কয়েক
বছর
আগে
২০১৭
সালে
‘জাতীয় নৌ-নিরাপত্তা
সপ্তাহ’
উপলক্ষে
নৌ,
সড়ক
ও
রেলপথ
রক্ষা
জাতীয়
কমিটি
‘৫০ বছরে
নৌ-দুর্ঘটনার
পরিসংখ্যান’
প্রকাশ
করে।
পরিসংখ্যান
অনুসারে
পূর্ববর্তী
৫০
বছরে
দেশে
নৌ-দুর্ঘটনায়
প্রাণ
হারিয়েছে
অন্তত
২০
হাজার
৫০৮
জন।
ওই
৫০
বছরে
দেশে
অন্তত
২
হাজার
৫৭২টি
নৌ-দুর্ঘটনা
ঘটে।
এসব
দুর্ঘটনায়
সম্পদের
ক্ষতি
হয়েছে
প্রায়
৩
হাজার
৪১৭
কোটি
২০
লাখ
টাকার।
দীর্ঘ
এ
সময়ে
দুর্ঘটনাকবলিত
নৌযানের
সংখ্যা
২
হাজার
৬৭২।
এর
মধ্যে
৯০১টি
নৌযান
কোনোদিনই
উদ্ধার
সম্ভব
হয়নি।
(সূত্র: দৈনিক
দেশ
রূপান্তর,
৭
এপ্রিল,
২০২১)
নৌ-পরিবহন
পরিচালনা
ও
চলাচলসংক্রান্ত
বিষয়ে
এবং
এ-সংক্রান্ত
অপরাধের
তদন্ত
ও
বিচার
দ্য
ইনল্যান্ড
শিপিং
অর্ডিন্যান্স,
১৯৭৬
(আইএসও ১৯৭৬)
অনুযায়ী
চলছে।
ওই
আইনের
৪৭
ধারা
অনুযায়ী,
সরকার
কর্তৃক
নৌ-পরিবহন
সংক্রান্ত
অপরাধের
বিচারের
জন্য
এক
বা
একাধিক
মেরিন
কোর্ট
(নৌ-আদালত)
প্রতিষ্ঠার
কথা
বলা
আছে।
মেরিন
কোর্টের
বিচারক
প্রথম
শ্রেণীর
ম্যাজিস্ট্রেটের
ক্ষমতাপ্রাপ্ত
হন।
বর্তমানে
বাংলাদেশ
জুডিশিয়াল
সার্ভিসের
যুগ্ম
জেলা
ও
দায়রা
জজ
পদমর্যাদার
কর্মকর্তাকে
এ
পদে
পদায়ন
করা
হয়।
এ
আইনের
সর্বোচ্চ
শাস্তি
হিসেবে
৭০
নং
ধারায়
পাঁচ
বছরের
কারাদণ্ড
ও
১০
হাজার
টাকা
অর্থদণ্ডের
বিধান
আছে।
আইনের
৫২
(২) ধারা
অনুযায়ী
মেরিন
কোর্টের
অতিরিক্ত
হিসাবে
৫
লাখ
টাকা
পর্যন্ত
ক্ষতিপূরণ
আদেশ
দেয়ার
ক্ষমতা
আছে।
এছাড়া
নৌযান
চলাচলের
অনুমোদন,
নদীদূষণ,
অতিরিক্ত
যাত্রী
বোঝাই,
অন্য
নৌযানের
সঙ্গে
সংঘর্ষসহ
নৌ-দুর্ঘটনা
হতে
পারে
এ
রকম
অন্যান্য
অপরাধের
বিষয়ে
পৃথকভাবে
শাস্তির
বর্ণনা
আছে।
অভিযুক্ত
হিসেবে
নৌযানের
চালক,
সহকারী,
প্রকৌশলী,
মালিক
পক্ষ
ও
কোম্পানিকে
শাস্তি
দেয়ার
বিধান
আছে।
১০
হাজার
টাকার
ঊর্ধ্বে
অর্থদণ্ডের
ক্ষেত্রে
পরিশোধ
ব্যর্থতায়
কারাদণ্ড
প্রদানের
বিধান
আছে।
শাস্তির
মাত্রা
খুবই
লঘু
এবং
জরিমানার
পরিমাণও
অনেক
কম।
এ
আইনে
ক্ষতিগ্রস্ত
নৌযান
ও
ব্যক্তিদের
ক্ষতিপূরণ
প্রদানের
পৃথক
কোনো
বিধান
নেই।
বর্তমান
সরকার
সড়ক
পরিবহন
আইন
২০১৮
প্রণয়ন
করে
সড়ক
দুর্ঘটনায়
কারো
মৃত্যু
বা
গুরুতর
আহত
হওয়ার
ক্ষেত্রে
দ্য
পেনাল
কোড
১৮৬০-এর
৩০৪-এ
ধারার
সঙ্গে
সড়ক
পরিবহন
আইনের
১০৫
ধারা
যুক্ত
করে
শাস্তি
কঠোর
করে
এবং
ইচ্ছাকৃত
দুর্ঘটনায়
মৃত্যু
হলে
হত্যা
হিসেবে
গণ্য
করার
বিধান
করে।
তদ্রূপ
১৯৭৬
সালের
অভ্যন্তরীণ
নৌ-পরিবহন
আইনে
দুর্ঘটনার
ক্ষেত্রে
কঠোর
সাজা
প্রবর্তন
করা
উচিত।
বর্তমানে
১৯৭৬
সালের
আইনের
৭০
ধারা
অনুযায়ী
কোনো
নৌযানকে
বিপজ্জনকভাবে
আঘাত,
জীবনকে
মৃত্যুর
মুখে
ঠেলে
দেয়া,
গুরুতর
আহত
করা
বা
কোনো
নৌযানের
গুরুতর
ক্ষতি
করা
এবং
ওই
ঘটনার
ফলে
কোনো
মানুষের
মৃত্যু,
আহত
অথবা
কোনো
সম্পদের
ক্ষতি
হলে
তার
সর্বোচ্চ
শাস্তি
হিসেবে
পাঁচ
বছরের
কারাদণ্ড
অথবা
১০
হাজার
টাকা
পর্যন্ত
অর্থদণ্ড
বা
উভয়
দণ্ডে
দণ্ডিত
করার
বিধান
আছে।
যা
অপরাধের
তুলনায়
শাস্তির
মাত্রা
অনেক
কম।
২০০৯
সালের
কোকো-৪
লঞ্চডুবির
ঘটনায়
২৫
এপ্রিল,
২০১৮
ঢাকার
মেরিন
কোর্টে
রায়
হয়
এবং
নয়জন
আসামিকে
চার
বছরের
কারাদণ্ড
দেয়া
হয়।
সরকার
নৌ-দুর্ঘটনার
বিচারের
জন্য
ঢাকায়
সারা
বাংলাদেশের
জন্য
শুধু
একটি
মেরিন
কোর্ট
(নৌ আদালত)
গঠন
করে।
ওই
আদালতে
বর্তমানে
১৫৭০টি
মামলা
বিচারাধীন।
তার
মধ্যে
নৌ-দুর্ঘটনায়
প্রাণহানির
অভিযোগে
শুধু
১৮টি
মামলা
চলমান
আছে।
(সূত্র: দৈনিক
সমকাল,
১০
জুলাই,
২০২০)
১৯৭৬
সালে
আইন
কার্যকর
হলেও
৪৪
বছর
ধরে
শুধু
একটি
মেরিন
কোর্ট
প্রতিষ্ঠা
করা
হয়েছে।
বাংলাদেশের
নৌ-দুর্ঘটনাগুলোর
অন্যতম
আলোচিত
ঘটনা
হলো
২০০৩
সালের
৮
জুলাই,
ভোলাগামী
এমভি
নাসরিন-১
লঞ্চ
চাঁদপুরে
এসে
নদীতে
ডুবে
গেলে
৪০২
জন
যাত্রীর
মৃত্যু
হয়।
ওই
ঘটনা
নিয়ে
মানবাধিকার
সংগঠন
ব্লাস্ট
২০০৪
সালে
ঢাকার
যুগ্ম
জেলা
ও
দায়রা
জজ
আদালতে
যাত্রীদের
মৃত্যুর
ঘটনায়
ক্ষতিপূরণ
চেয়ে
মামলা
দায়ের
করে।
২০১৬
সালের
২
ফেব্রুয়ারি
বিজ্ঞ
আদালত
১৭
কোটি
১১
লাখ
টাকার
ক্ষতিপূরণ
প্রদানের
রায়
দেন।
ওই
রায়ের
বিপক্ষে
বিবাদী
পক্ষ
হাইকোর্ট
বিভাগে
আপিল
করে।
৫
জুন
২০১৮
হাইকোর্ট
বিভাগ
নিম্ন
আদালতের
রায়
বহাল
রাখেন।
বিবাদী
পক্ষ
ওই
রায়ের
বিরুদ্ধে
আপিল
বিভাগে
লিভ
টু
আপিল
দায়ের
করলে
তা
সর্বোচ্চ
আদালতে
এখন
বিচারাধীন।
এটি
ক্ষতিপূরণ
আদায়ের
লক্ষ্যে
দায়ের
হওয়া
একমাত্র
মামলা,
যা
এখনো
নিষ্পত্তি
হয়নি।
বাংলাদেশ
নদীমাতৃক
দেশ।
বাংলাদেশ
পানি
উন্নয়ন
বোর্ডের
প্রতিবেদন
অনুযায়ী,
বর্তমানে
২৩০টি
সক্রিয়
নদী
বহমান
আছে
ও
প্রায়
৪৫০টি
নদী
দখল
ও
দূষণের
কারণে
ক্রিটিক্যাল
অবস্থায়
আছে।
আমাদের
সংবিধানের
১৮ক
অনুচ্ছেদ
অনুযায়ী
রাষ্ট্র
কর্তৃক
নদী
ও
পরিবেশ
সংরক্ষণ
ও
উন্নয়নের
জন্য
প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা
গ্রহণের
নির্দেশনা
আছে।
বর্তমান
সরকার
নদীদূষণ
প্রতিরোধ
ও
নদীর
সীমানা
দখল
উদ্ধারের
উদ্দেশ্যে
বিভিন্ন
ব্যবস্থা
গ্রহণ
করেছে।
২০১৩
সালে
জাতীয়
নদী
কমিশন
আইন
কার্যকরের
মাধ্যমে
একটি
নদী
কমিশন
গঠন
করা
হয়েছে।
ওই
কমিশন
কর্তৃক
৪৯,১৬২
জন
নদী
দখলকারী
হিসেবে
তালিকা
প্রকাশ
করেছে।
হাইকোর্ট
বিভাগ
নদীকে
আইনি
ব্যক্তি
হিসেবে
স্বীকৃতি
দিয়ে
যুগান্তকারী
রায়
প্রদান
করেছেন।
ওই
রায়ে
হাইকোর্ট
নদী
রক্ষায়
পৃথক
আদালত
গঠনের
নির্দেশনা
দিয়েছেন।
২৩
এপ্রিল
২০১৮
জাতীয়
নদী
কমিশন
সারা
দেশের
নদী
রক্ষায়
আটটি
বিশেষ
আদালত
প্রতিষ্ঠার
সিদ্ধান্ত
গ্রহণ
করেন।
পরিবেশ
সংরক্ষণ
আইন
১৯৯৫
ও
পরিবেশ
আদালত
আইন
২০১০
অনুযায়ী,
পরিবেশের
দূষণ
রক্ষায়
পরিবেশ
আদালত
ও
স্পেশাল
ম্যাজিস্ট্রেট
আদালতের
বিধান
আছে।
৯
জুলাই
২০২০
জাতীয়
সংসদে
জিএম
কাদের
এমপি
নৌ-দুর্ঘটনা
বিচারের
জন্য
পৃথক
আদালত
প্রতিষ্ঠার
দাবি
করেন।
নদীপথকে
নিরাপদ
রাখার
উদ্দেশ্যে
সরকার
পৃথক
নৌ
পুলিশ
গঠন
করেছে।
একজন
ডিআইজি
ও
তিনজন
অতিরিক্ত
ডিআইজির
নেতৃত্বে
নৌ
পুলিশ
গঠন
করা
হয়েছে।
নৌ
পুলিশের
কার্যক্রমের
জন্য
একজন
পুলিশ
সুপারের
নেতৃত্বে
কয়েকটি
থানার
সমন্বয়ে
পৃথক
নৌ
এলাকা
গঠন
করা
হয়েছে।
সারা
দেশকে
আটটি
বিশেষ
নৌ
এলাকা
হিসেবে
চিহ্নিত
করা
হয়েছে।
যদি
সরকার
শুধু
নদী
এলাকায়
অপরাধ
দমন
করার
উদ্দেশ্যে
পৃথক
পুলিশ
ইউনিট
গঠন
করতে
পারে,
সেক্ষেত্রে
নদী
রক্ষা,
দূষণ
প্রতিরোধ
ও
নৌ-দুর্ঘটনা
বিচারের
উদ্দেশ্যে
সারা
দেশে
২০-৩০টি
নৌ
আদালত
গঠন
করা
উচিত।
এ
উদ্দেশ্যে
১৯৭৬
সালের
পুরনো
আইনকে
পুনর্বিবেচনা
করে
অপরাধের
মাত্রা
অনুযায়ী
অধিকতর
কঠোর
শাস্তি,
পর্যাপ্ত
অর্থদণ্ড
ও
ক্ষতিপূরণ
প্রদানের
ক্ষমতা
সংশ্লিষ্ট
আদালতকে
দেয়া
উচিত।
এছাড়া
নৌ-দুর্ঘটনার
বিষয়ে
নৌ
পুলিশ
ও
বিশেষায়িত
সংস্থকে
তদন্তক্ষমতা
দেয়া
উচিত।
বর্তমানে
ঢাকায়
অবস্থিত
নৌ
আদালতে
বেশির
ভাগ
মামলায়
সাক্ষী
উপস্থিত
হয়
না
এবং
রাষ্ট্রপক্ষের
দুর্বল
ব্যবস্থাপনার
কারণে
মামলা
নিষ্পত্তিতে
বিলম্ব
হয়
ও
সাজার
হার
খুবই
কম।
একটি
গতিশীল
ও
কার্যকর
নৌ
আইন,
তদন্ত
সংস্থা,
প্রসিকিউশন
ও
আদালতই
পারে
নৌ-দুর্ঘটনায়
কার্যকর
শাস্তি
নিশ্চিত
করতে
এবং
এর
মাধ্যমে
নৌ-দুর্ঘটনা
উল্লেখযোগ্যভাবে
কমানো
সম্ভব।
মো. জাকির হোসাইন: সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ফেনী










