গ্লোবাল সাউথে চীনের নেতৃত্ব দেয়ার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে এবং সহজাতভাবে আপত্তিকর কিছু নেই। দেশটির অর্থনৈতিক শক্তি ও কূটনৈতিক প্রভাব তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেছে। বিশেষ করে, আরো ন্যায়সংগত ও ন্যায্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে চীন উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে।
কিন্তু কোনো একটি দাবির পক্ষে অবস্থান নেয়ার মানে এই নয় যে সেই দাবির পক্ষে থাকা সব মানুষের হয়ে কথা বলার অধিকার দাবি করা যাবে। গ্লোবাল সাউথের কোনো নির্বাচিত নেতা নেই, অভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই, এমনকি সবার স্বার্থও এক নয়। তাই শুধু অর্থনৈতিক শক্তি থাকলেই অন্যদের প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার পাওয়া যায় না। অর্থনৈতিক প্রভাব থাকলেই যে কোনো দেশের রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত হয়, বিষয়টি এমনও নয়। কোনো দেশ চীনের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে স্বাগত জানাতে পারে, কিন্তু তাই বলে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক অবস্থান বা রাজনৈতিক মডেল অনুসরণ করতে চাইবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। চীনের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো, রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রত্যাশা না করে অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলোকে কীভাবে গঠনমূলক অংশীদারত্বে রূপ দেয়া যায়, তা নিশ্চিত করা।
[দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক নিবন্ধে]
লিজিয়া ঝাং: সমাজবিষয়ক বিশ্লেষক ও ঔপন্যাসিক










