অপচনশীল
পলিথিন ব্যবহারের
ফলে শহরাঞ্চলের
ড্রেনেজ ব্যবস্থা
বন্ধ হয়ে
জলাবদ্ধতার সৃষ্টি
হচ্ছে, জমির
কার্যকারিতা নষ্ট
হয়ে যাচ্ছে।
এসব কারণে
পরিবেশ নানা
ধরনের হুমকির
মুখে পড়ছে।
পলিথিন বন্ধে
সরকার কিছু পদক্ষেপ
নিয়েছিল। কিন্তু
সেগুলো যথাযথ
বাস্তবায়ন হয়নি।
টেকসই উন্নয়নের
লক্ষ্যে নতুনভাবে
এ পলিথিন
নিষ্পত্তীকরণে বিভিন্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের
মতামত তুলে
ধরেছেন বরিশাল
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান
বিভাগের শিক্ষার্থী
ফারহানা ইয়াসমিন—
পলিথিন
ব্যবহার বন্ধের
জন্য প্রয়োজন
সচেতনতা
আশির
দশকের
শুরুতে
যখন
পলিথিনের
ব্যবহার
শুরু
হয়,
তখন
সচেতন
মহল
হয়তো
বুঝতে
পারেনি
এর
নেতিবাচক
প্রভাব
কতটা
বিস্তৃত।
উল্লেখ্য,
এ
সময়টায়
বাংলাদেশের
পাটের
বাজারে
ধস
নামে।
পাটের
স্থান
দখল
করে
নেয়
পলিথিন।
তবে
পলিথিনের
ব্যাপক
ব্যবহার
ও
আমাদের
অসচেতনতায়
যখন
বাংলাদেশের
গ্রাম
থেকে
শহরে,
বাড়ি
থেকে
নদীতে
বা
পুকুরে
এ
অপচনশীল
পলিথিনের
ক্ষতিকর
প্রভাব
সম্পর্কে
পরিবেশবিদ
ও
সচেতন
মহল
বুঝতে
পারে
যে
পলিথিন
মাটির
উর্বরা
শক্তি
ও
ফসলের
ফলন
বৃদ্ধিতে
প্রতিবন্ধক
এবং
পরিবেশের
জন্য
ভয়ংকর
ক্ষতিকারক,
তখন
থেকেই
পলিথিন
ব্যবহার
বন্ধের
ব্যবস্থা
নেয়া
হয়।
ফলে
২০০২
সালের
জানুয়ারিতে
ঢাকা
শহরে
এবং
ওই
একই
বছরের
মার্চ
থেকে
সারা
বাংলাদেশে
পলিথিন
উৎপাদন
ও
বাজারজাত
নিষিদ্ধ
ঘোষণা
করা
হয়।
দীর্ঘদিনের
অভ্যাসের
কারণে
পলিথিন
ব্যবহার
হঠাৎ
করেই
বন্ধ
হওয়ার
ঘোষণায়
সবাই
বেশ
সমস্যায়
পড়েছিল।
কিন্তু
পরিবেশের
বৃহৎ
সুফলতা
মাথায়
রেখে
পলিথিনের
পরিবর্তে
পাটের
ব্যাগ,
কটনের
ব্যাগ
ও
কাগজের
ব্যাগ
এগুলো
বাজারজাত
শুরু
হয়।
এত
কিছু
করার
পরও
পলিথিনের
ব্যবহার
বেড়েই
চলেছে।
চিপস,
বিস্কুটসহ
নানা
রকমের
খাবার
পলিথিনের
উন্নত
মোড়কেই
পাওয়া
যাচ্ছে।
এক্ষেত্রে
পলিথিন
ব্যবহার
বন্ধের
জন্য
প্রয়োজন
সুন্দর
ব্যবস্থাপনা।
যেমন
আমরা
যখন
ময়লা
ফেলি
তখন
ময়লার
জন্য
দুটো
ডাস্টবিন/ঝুড়ি
ব্যবহার
করব।
একটি
ঝুড়িতে
পচনশীল
বর্জ্য
রাখতে
হবে,
অন্যটিতে
অপচনশীল
বর্জ্য
রাখতে
হবে
এবং
অপচনশীল
বর্জ্যগুলো
নিরাপদ
ও
অল্প
জায়গায়
ফেলে
পুড়িয়ে
ফেলতে
হবে,
যাতে
এর
প্রভাব
অন্য
কোনো
ভূমির
ওপর
না
পড়ে।
বাসাবাড়ি
থেকে
শুরু
করে
সমাজের
প্রতিটি
কোনায়
এ
ব্যবস্থা
বাস্তবায়ন
করতে
হবে।
তার
জন্য
প্রয়োজন
সরকারের
সহযোগিতা।
ব্যক্তি
পর্যায়ে
সচেতনতা
ও
পলিথিন
ব্যবহারের
ক্ষতিকর
প্রভাব
সম্পর্কে
সবাইকে
অবহিত
করা
প্রয়োজন।
রেডিও,
টেলিভিশন
ও
মিডিয়ায়
পলিথিন
ব্যবহারের
কুফল
সম্পর্কে
বিজ্ঞাপন
ও
জনসচেতনতামূলক
বার্তা
প্রচার
করতে
হবে।
এলাকাভিত্তিক
সামাজিক
ক্লাব
ও
যুব
সংগঠনগুলোর
অগ্রণী
ভূমিকা
পালন
করতে
হবে।
পট
ও
নাটিকা
তৈরি
করে
এ
বিষয়ে
সচেতনতা
বৃদ্ধি
সম্ভব।
এছাড়া
বৃহৎ
স্বার্থে
সিটি
করপোরেশনের
মাধ্যমে
যদি
পুরস্কার
ঘোষণা
করা
হয়
যে
ময়লা
বা
বর্জ্য
সংগ্রহ
ও
ফেলার
ওপর
ভিত্তি
করে
পুরস্কার
দেয়া
হবে,
সেক্ষেত্রে
অনেকেই
আগ্রহী
হয়ে
অগ্রণী
ভূমিকা
রাখবে।
তাছাড়া
প্লাস্টিকের
বোতল
ও
পলিথিন
এবং
অন্যান্য
কাগজ,
কাচের
বোতল
এগুলো
বাজারেও
নির্দিষ্ট
দামে
বিক্রি
করা
যায়।
এ
বিষয়ও
সবাইকে
জানাতে
হবে।
এতে
ময়লা
সংগ্রহকারী
বা
এ
রকম
ভ্রাম্যমাণ
জীবিকার
সঙ্গে
সম্পৃক্ত
ব্যক্তিদের
উপার্জন
আরো
বাড়বে।
এ
পদ্ধতির
মাধ্যমে
একদিকে
তাদের
জীবিকার
পথ
যেমন
নিশ্চিত
হবে,
অন্যদিকে
পরিবেশের
সুরক্ষা
নিশ্চিত
হবে।
সর্বোপরি
এসব
সুন্দর
ব্যবস্থাপনায়
ব্যক্তি
ও
প্রতিষ্ঠানের
সামষ্টিক
প্রচেষ্টার
মাধ্যমে
পলিথিনের
ব্যবহার
বন্ধ
করা
সম্ভব।
এক্ষেত্রে
জনসচেতনতার
বিকল্প
নেই।
ড. হানিফ মিয়া:
সহযোগী
অধ্যাপক
সমাজতত্ত্ব
বিভাগ,
চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়
পরিবেশ
বাঁচাতে চাই
বিকল্প
ব্যবস্থা
পলিথিন
আর
প্লাস্টিক
মিলেমিশে
মাটি,
পানি,
বায়ু
অতিমাত্রায়
দূষিত
করছে।
তাছাড়া
পলিথিনে
মাটির
উর্বরা
শক্তি
কমে
যায়,
সহজেই
ভরাট
হয়ে
যায়
নদ-নদী,
জলাবদ্ধতায়
সংকটাপন্ন
হয়
নাগরিক
জীবন।
এমন
বীভৎস
রূপের
কারণ
পলিথিনের
মৃত্যু
নেই,
অথচ
সবার
মৃত্যুকে
সহজ
করে
দেয়।
এর
প্রক্রিয়াজাত
অতিসহজ
বলে
সহজেই
মুনাফার
স্ফীতি
সম্ভব।
এতে
ব্যবসায়ীরা
আর্থিকভাবে
লাভবান
হলেও
পলিথিনের
বিষে
তাদেরও
স্বাস্থ্যহানি
প্রকট।
এর
সহজ
সমাধান
পলিথিনের
উৎপাদন
ও
বাজারজাত
সম্পূর্ণ
বন্ধ
করা,
সঙ্গে
বিকল্প
হিসেবে
পাটজাত
দ্রব্যের
সহজলভ্যতা
নিশ্চিত
করা।
এজন্য
দরকার
আইনি
ব্যবস্থা
ও
প্রয়োগ।
২০০২
সালের
মার্চে
সারা
দেশে
পলিথিন
উৎপাদন
ও
বাজারজাত
বন্ধ
করতে
আইন
জারি
করা
হয়।
এও
বলা
হয়,
বিকল্প
হিসেবে
যেন
সবাই
পাটজাত
দ্রব্য
ব্যবহার
করে।
আশ্চর্যের
দিক
হলো,
একই
বছর
(২০০২) জুনে
দেশের
সেরা
পাটকল
আদমজী
জুট
মিল
বন্ধ
করে
দেয়
তত্কালীন
সরকার।
এর
পর
থেকে
সরকারি
পাটকলগুলোর
বেসরকারীকরণ
অব্যাহত
থাকে।
পাট
চাষে
সরকারি
প্রণোদনা
কমে
যায়,
পাট
হয়ে
যায়
দুর্লভ
বস্তু।
পাটজাত
দ্রব্যের
সহজলভ্যতা
নিশ্চিত
করতে
পাটকলের
সরকারীকরণ
ও
পাট
চাষে
সরকারি
অনুদান
বৃদ্ধি
জরুরি।
সঙ্গে
সঙ্গে
পলিথিন
উৎপাদন
ও
বিপণন
বন্ধে
দৃঢ়
পদক্ষেপ
নিতে
হবে।
আইন
অমান্যকারীদের
শাস্তি
দিতে
হবে।
পলিথিনের
অনাকাঙ্ক্ষিত
কিছু
ব্যবহার
হলেও
যত্রতত্র
পলিথিন
যেন
পড়ে
না
থাকে,
তার
জন্য
প্রত্যেক
এলাকায়
পলিথিন
নিষ্কাশন
কমিটি
গঠন
করে
প্রয়োজনীয়
পদক্ষেপ
নেয়া
অত্যাবশ্যক।
আমরা
চাই
সুস্থভাবে
বেঁচে
থাকার
অধিকার।
ড. আশেক মাহমুদ: সহযোগী
অধ্যাপক
সমাজবিজ্ঞান
বিভাগ,
জগন্নাথ
বিশ্ববিদ্যালয়,
ঢাকা
আমরা
প্রকৃতির সহ্যসীমার
দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি
‘রিভেঞ্জ
অব
ন্যাচার’
বলে
একটা
বিষয়
আছে।
আমরা
যদি
প্রকৃতির
সঙ্গে
অন্যায়
করি,
প্রকৃতি
একটা
সীমা
পর্যন্ত
নিজেকে
খাপ
খাইয়ে
নেয়।
কিন্তু
সীমা
লঙ্ঘন
হলে
সে
তার
প্রতি
করা
অন্যায়ের
প্রতিশোধ
গ্রহণ
করে।
আমরা
হয়তো
প্রকৃতির
সহ্যসীমার
দ্বারপ্রান্তে
চলে
এসেছি।
বর্তমান
সময়ে
সারা
বিশ্বে
প্রাকৃতিক
বিপর্যয়ের
আধিক্য
আমাদের
চোখে
আঙুল
দিয়ে
দেখিয়ে
দিচ্ছে
চারপাশের
পরিবেশকে
আমরা
কতটা
ক্ষতিগ্রস্ত
করেছি।
বাংলাদেশসহ
সারা
বিশ্বে
পরিবেশ
দূষণ
ও
প্রাকৃতিক
দুর্যোগের
আধিক্য
বেড়েছে।
কিছুটা
পরিবেশ
চক্রের
কারণে
হলেও
মূল
কারণ
মনুষ্যসৃষ্ট।
শিল্প
বিপ্লবের
আগ
পর্যন্ত
পৃথিবী
মানুষের
বসবাসের
সবচেয়ে
উপযোগী
গ্রহ
ছিল।
বর্তমান
সময়ে
বায়ুমণ্ডলে
উষ্ণতা
বৃদ্ধির
হার
হয়েছে
+০.৮২
ডিগ্রি
সেলসিয়াস,
যা
গত
চার
বছরসহ
২০২১-কে
এ
শতাব্দীর
সবচেয়ে
উষ্ণতর
বছরের
খেতাব
এনে
দিয়েছে।
অন্যান্য
বিষয়ের
সঙ্গে
আমাদের
অত্যধিক
ভোগবাদিতা
পরবর্তী
প্রজন্মকে
ক্ষতির
সম্মুখীন
করছে
বলে
আমি
মনে
করি।
বাজারে
অধিক
প্রতিযোগিতা,
স্বল্পস্থায়ী
মান,
প্লাস্টিক
পণ্যের
সহজলভ্যতা
আমাদের
অনুৎপাদনশীল
দ্রব্য
ব্যবহারে
উৎসাহী
করছে,
সেই
সঙ্গে
মানুষের
বিলাসদ্রব্যের
প্রতি
আকর্ষণ
ও
অধিক
ক্রয়ক্ষমতা
বাজারে
প্রয়োজনের
অতিরিক্ত
মজুদকে
প্রভাবিত
করছে।
অথচ
একথা
সত্য,
পৃথিবীর
কোনো
ডাস্টবিন
নেই।
আমাদের
বাজার
ব্যবস্থাকে
টেকসই
ও
রিসাইক্লিং
মেথডে
যেতে
হবে।
চাহিদাকে
প্রয়োজনের
ভিত্তিতে
সীমিত
করতে
হবে।
নইলে
অত্যধিক
ভোগবাদী
জীবন
ব্যবস্থা
আমাদের
সন্তানদের
জীবনকে
হুমকির
মুখে
ঠেলে
দেবে,
যদিও
সবার
চাওয়া
কিন্তু
সন্তানের
সুস্থ
ভবিষ্যৎ।
রিতু কুণ্ডু: সহকারী
অধ্যাপক,
লোকপ্রশাসন
বিভাগ
জগন্নাথ
বিশ্ববিদ্যালয়,
ঢাকা
আইনের
যথাযথ প্রয়োগ
নিশ্চিত করতে
হবে
পলিথিন
উৎপাদন
ও
মাত্রাতিরিক্ত
ব্যবহারের
কারণে
বাংলাদেশের
নাগরিক
জীবন
দুর্বিষহ
হয়ে
উঠেছে।
শহরের
জলাবদ্ধতা
ও
পরিবেশের
ভারসাম্য
নষ্টের
ক্ষেত্রে
এ
পলিথিনের
ভূমিকা
মুখ্য।
সারা
বিশ্বে
পলিথিন
ও
প্লাস্টিক
পণ্যের
ব্যবহারই
পরিবেশ
বিপর্যয়ের
অন্যতম
প্রধান
কারণ
হিসেবে
দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ
২০০২
সালে
বিশ্বের
প্রথম
দেশ
হিসেবে
‘পরিবেশ
সংরক্ষণ
আইন,
১৯৯৫’
সংশোধন
করে
নতুন
ধারা
(৬ক) সংযোজন
করে
পলিথিন
নিষিদ্ধ
করে।
এ
আইনের
ধারা
অনুযায়ী
পলিথিন
ব্যবহার
করা
শাস্তিযোগ্য
অপরাধ।
আইন
অনুযায়ী
পলিথিনের
ব্যবহার
নিষিদ্ধ
হলেও
অপরিকল্পিতভাবে
প্লাস্টিক
পণ্য
উৎপাদন
ও
ব্যবহারের
দিক
থেকে
বাংলাদেশের
অবস্থান
বিশ্বে
দশম।
পরবর্তী
সময়ে
বাংলাদেশ
সরকার
২০১০
সালে
পলিথিন
ব্যবহারের
ওপর
নিয়ন্ত্রণ
আরোপের
লক্ষ্যে
‘বাধ্যতামূলক
পাট
প্যাকিং
আইন
২০১০’
প্রণয়ন
করে।
ওই
আইন
অনুযায়ী
পাটের
ব্যাগ
ব্যবহার
বাধ্যতামূলক
করা
হয়।
কিন্তু
আইনের
যথাযথ
প্রয়োগ
না
হওয়ায়
বাংলাদেশে
এখনো
পলিথিনের
উৎপাদন
ও
ব্যবহার
লাগামহীনভাবে
চলছে।
যদিও
২০২০
সালে
মাননীয়
হাইকোর্ট
আদেশ
জারি
করেন
পলিথিনের
ব্যবহার
কমানোর
জন্য।
যেখানে
উল্লেখ
করা
হয়,
২০২২
সালের
মধ্যে
উপকূলীয়
এলাকা,
শপিংমল
ও
খাবারের
দোকানগুলোয়
পলিথিন
ব্যাগ
নিষিদ্ধ
করা
হবে।
কিন্তু
করোনা
মহামারীর
কারণে
এ
সময়সীমা
বৃদ্ধি
করা
হয়।
ধারণা
করা
হচ্ছে,
অচিরেই
পলিথিন
নিষ্পত্তি
করা
না
হলে
এর
বিরূপ
প্রভাব
ভয়াবহ
আকার
ধারণ
করবে।
সুতরাং
এখনই
দরকার
এর
লাগাম
টেনে
ধরা।
সুরাইয়া জেবিন: সহকারী অধ্যাপক, আইন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ










