বাংলাদেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাস ৩০ বছরের। এত লম্বা সময় পরেও খাতটি নিয়ে নানা বিতর্ক শোনা যায়। এ বিতর্কের সবই যে অমূলক, তা হয়তো বলা যাবে না। এর মাধ্যমে সর্বসাধারণ্যে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের অনাস্থা। অথচ সামান্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি পাল্টে দেয়া যায়। এতে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা যেমন বাড়বে তেমনি প্রতি বছর চিকিৎসার নামে যে বিপুল অর্থ চলে যাচ্ছে, সেটাও রক্ষা করা সম্ভব হবে। দেশে মানুষ তার সব চিকিৎসা নেবে।  

দেশে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের পথচলা সেই নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু হলেও এটা বিকশিত হতে থাকে আসলে ২০০০ সালের পর থেকে। গত ১৫-২০ বছরে দেশে প্রায় ২০০ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেগুলোর শয্যা সংখ্যা ১০০-এর ওপরে। বর্তমানে বেসরকারি পর্যায়ে শয্যা সংখ্যা আছে প্রায় ৮০ হাজার, আর ডাক্তার কাজ করছেন প্রায় ৫০ হাজার। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকার মতো। আর বার্ষিক টার্নওভার প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কাজ করে ১২ লাখ মানুষ। আর বাংলাদেশের সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত ভূমিকা রাখে দুই-তৃতীয়াংশ সেবার।

বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ লোক দেশের বাইরে যায় চিকিৎসার জন্য। এই রোগীদের প্রত্যেককে আবার ফলোআপ চিকিৎসার জন্য গড়ে বছরে দুই থেকে তিনবার করে বিদেশে যেতে হয়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ বার রোগীরা বিদেশে যায় চিকিৎসার জন্য। এই যে বিদেশে যায়, এদের ৮৫ শতাংশেরই গন্তব্য থাকে ভারত। বাকিরা যায় থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর বা অন্য কোনো দেশে। মোট খরচের হিসাব করতে গেলে এর বাইরে রোগীর সঙ্গে যে অ্যাটেন্ডেন্ট যায়, তাদের ব্যয়টাও ধরতে হবে। রোগীর সঙ্গে যে আত্মীয়স্বজন যায়, তারা আসলে সেখানে কী করে? বিদেশ দেখে, বেড়ায়, কেনাকাটা করে। এভাবে অনেক সময় এমনও দেখা যায় যে চিকিৎসা ব্যয়ের চেয়ে পারিপার্শ্বিক খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে। এই ১০ লাখ রোগীর প্রতিবার বিদেশ যাওয়ার যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয় হয় ১ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি। আর  চিকিৎসা ছাড়া যাতায়াত খরচ, থাকা-খাওয়া, বাজার করা ইত্যাদিতে আরো ব্যয় হয় দেড় হাজার ডলারের মতো। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ২ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা প্রতিটি রোগীর প্রতিবার বিদেশে যাওয়ার সময় ব্যয় হয়। এ হিসাবে প্রতি বছর ১০ লাখ রোগীর জন্য ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়।

এই টাকার একটা বড় অংশ আসে বিদেশে আমাদের যে এক কোটি শ্রমিক থাকেন, তাদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা থেকে। আমরা জানি, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীদের আয় প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার এবং গার্মেন্ট খাত থেকে আমরা বছরে পাই প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। এ দুটোই আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস। বর্তমানে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতকে আমরা আরো সুবিন্যাস্ত এবং জনমানুষের কাছে সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য করতে পারলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ খাতের মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলার আয় বা রক্ষা করা সম্ভব হবে। তখন এটি জাতীয় আয়ের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানে ভূমিকা রাখবে।

প্রত্যাশিত এই ফল পেতে হলে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাড়াতে হবে এর গ্রহণযোগ্যতা ও সহজলভ্যতা। নিশ্চিত করতে হবে এ খাতের জবাবদিহিতা। আর এসব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কতগুলো বিশেষ প্রস্তাবনা আনা যেতে পারে।

স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি

রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করাকে বর্তমান সময়ে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে রোগ প্রতিরোধ এবং এ লক্ষ্যে সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, সুষম ও পরিমিত খাদ্যগ্রহণের কথা বলা হয়। সুষম খাদ্যের জন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না। শারীরিক পরিশ্রম, পরিমিত আহার এবং এর বিপরীতে ধূমপান, জাংক ফুড, দীর্ঘ সময় বসে থেকে কাজ করা—এসব পরিহার করা গেলে অনেক রোগ এমনিতেই শরীরকে আক্রান্ত করতে পারে না। এসবের জন্য অতিরিক্ত কোনো বাজেটও লাগে না। বরং সোস্যাল ক্যাম্পেইনিং, বিলবোর্ড, টিভি-পত্রিকার বিজ্ঞাপন এবং বিভিন্নভাবে সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়ে ছোট-বড়, গরিব-ধনী সবাইকে ‘ফিউচার হেলদি নেশন’-এর আওতায় আনা সম্ভব।

এক্ষেত্রে পারিবারিক রোগের ইতিহাস, জেনেটিক রোগ, লাইফ স্টাইল—এসবও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হাইপারটেনশন, অ্যাজমা, ডায়াবেটিস—এ রোগগুলো বলে কয়ে আসে না; বরং পারিবারিক রোগ তল্লাশি এবং ওই ব্যক্তির জীবনযাপনই বলে দেয় রোগের আক্রমণের আভাস। ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ইত্যাদি ব্যাপার বহু রোগের আক্রমণকে প্রভাবান্বিত করে। সময়মতো উপদেশ গ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করা, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, একটি মানুষের বার্ষিক স্বাস্থ্যের খরচ অনেক অংশে কমিয়ে দেয়। মানুষের মধ্যে প্রচলিত রোগ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা থাকাটাও জরুরি। 

এক্ষেত্রে আমরা বিশ্বের অন্য অনেক দেশের সাফল্যের দিকে তাকাতে পারি। ইউরোপ, আমেরিকার মতো ধনী দেশগুলোর দিকে তাকালে হবে না; বরং আমাদের মতো অর্থনৈতিক অবস্থার দেশ থেকেই কিন্তু শেখার অনেক কিছু আছে। যেমন কিউবা, রুয়ান্ডা কিংবা ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বেশ ভালো। তারা সীমিত সামর্থ্য নিয়েও একটা গণমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পেরেছে। কিউবা ও রুয়ান্ডায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিটি মানুষকে শৈশব থেকেই স্বাস্থ্যের ব্যাপারে একটা সাধারণ শিক্ষা দিয়ে দেয়া হয়। কিউবায় সাধারণ মানুষের এক-দশমাংশকে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে পার্টটাইম ট্রেনিং দেয়া হয়। গুচ্ছ গ্রাম বা কমিউনিটি ক্লিনিকের আদলে সাধারণ কিছু চিকিৎসা সেই প্রান্তিক পর্যায়েই করে ফেলা হয়। সেখানে আছে পারিবারিক ডাক্তার ও নার্স, যারা রোগীর প্রাথমিক সব চিকিৎসা করেন। আর বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতাল আছে। প্রতিটি মানুষ তার বেতনের একটা অংশ জমা দেয়, তার সঙ্গে যুক্ত হয় সরকারি বরাদ্দকৃত টাকা—এই দুইয়ের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়।


ডিজিটাল প্লাটফর্ম

এবার কভিড-১৯ প্যানডেমিকের সময় আমরা টেলিমেডিসিনের কার্যকারিতা দেখেছি। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে অনলাইনের মাধ্যমেও চিকিৎসা সম্ভব। বিষয়টিকে আমরা আরো একটু বিস্তৃত করে চিন্তা করতে পারি। দেশে এখন জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি আছে। এতে প্রতিটি নাগরিকের পরিচিতি ছাড়াও জরুরি অনেক তথ্য রয়েছে। এই ডাটাবেজে আমরা যদি প্রতিটি ব্যক্তির স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য জুড়ে দিতে পারি তাহলে অনেক সমস্যারই সমাধান সহজ হয়ে যাবে। সেই ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ডের মধ্যে ব্যক্তির কখন কী রোগ হয়েছিল, কোন রোগে কী ওষুধ খেয়েছেন, কী কী টেস্ট কখন করেছেন, বর্তমানে কী কী রোগ আছে, কী ওষুধ নিচ্ছেন—এ রকম সবকিছু থাকে। রোগীর এ রকম ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের বিস্তারিত তথ্য জানা গেলে চিকিৎসকের পক্ষে রোগীর চিকিৎসা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে। প্রয়োজনে রোগীর অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে।

পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞদের জড়িত করা

উন্নত দেশগুলোয় স্বাস্থ্য খাতের বাজেট, স্বাস্থ্য ব্যয় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা, রোগ অনুযায়ী হাসপাতাল চিহ্নিত করা, চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণ এবং ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট, স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, গুরুত্ব অনুযায়ী সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার ইত্যাদি কাজ পাবলিক হেলথ এক্সপার্টরা করেন। এখানে ব্যুরোক্র্যাসি বা প্রশাসনিক ক্যাডারের লিডারশিপ কাজ করে না।

আমাদের দেশে ধারাটি অনুপস্থিত। এখানে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ন্ত্রণে বা নীতিনির্ধারণে হেলথ ক্যাডারের মানুষ নেই বললেই চলে। অথবা যারা আছেন, তারা যতটা না পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ, তার চেয়েও বেশি ক্লিনিক্যাল এক্সপার্ট। আসলে চিকিৎসাশিক্ষা ব্যবস্থায় ভর্তির শুরু থেকেই এই ক্লিনিক্যাল ও  নন ক্লিনিক্যাল দুটি আলাদা ধারা করে দিতে হবে। যারা অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে পড়বেন, সারা জীবন তারা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করবেন। যারা ক্লিনিক্যাল কাজ করবেন, তারা কখনো প্রশাসনে যাবেন না। একইভাবে পাস করার পর সরকারি ও বেসরকারি খাতকেও সম্পূর্ণ আলাদা করে দিতে হবে। এভাবে সরকারি ও বেসরকারি বা শিক্ষকতা—এসব পেশা আর কেরিয়ার নিশ্চিত হয়ে যাবে।

বেসরকারি হাসপাতালের মান উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা

মান উন্নয়ন এবং এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা না গেলে স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নেবে না। সেই সঙ্গে দরকার জবাবদিহিতা। উন্নত বিশ্ব, এমনকি ভারতেও এখন সব হাসপাতাল ও ল্যাবের জন্য ন্যাশনাল অ্যাক্রিডিটেশন বডি ফর হসপিটাল (এনএবিএইচ) ও ন্যাশনাল অ্যাক্রিডিটেশন বডি ফর ল্যাবরেটরির (এনএবিএল) সার্টিফিকেট গ্রহণ বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়েছে। এই সার্টিফিকেট আবার প্রতি দুই বছর পর অডিটের মাধ্যমে নবায়ন করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রতিনিয়ত উন্নতি সাধন এবং মান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থাকে। এভাবে যখনই একটা ধারাবাহিক উন্নতির ব্যবস্থা থাকে, তখন ভুল চিকিৎসা, অতিচিকিৎসা, বিনা চিকিৎসা, ম্যালপ্র্যাকটিস ইত্যাদি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।  এতে সাধারণ জনগণও বিড়ম্বনাহীন স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে। পাশাপাশি ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীরাও তাদের মর্যাদা নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারেন।

আমাদের দেশে মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) বলে একটা সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে। ভুল চিকিৎসা বা অপচিকিৎসা, ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের ম্যালপ্র্যাকটিস—এসব দেখার দায়িত্ব আসলে এই বিএমডিসির। কেউ অন্যায় করলে এমনকি তার রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত বাতিলের ক্ষমতা বিএমডিসিকে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিএমডিসি কখনই তার ওপর অর্পিত সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। তাদের মধ্যে সবসময়ই এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা দেখা গেছে। বিএমডিসি যদি সক্রিয় হয়, তারা যদি চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও হাসপাতালের কর্মকাণ্ডকে ঠিকভাবে মনিটরিং করতে পারে, আমার তো মনে হয় সেক্ষেত্রে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহিতা অনেকটাই বাড়তে পারে এবং এতে স্বাস্থ্যকর্মী ও ডাক্তারদের সম্মান নিশ্চিত হবে।

হাসপাতালগুলোর মান উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে গবেষণার বিষয়টিও। উন্নত দেশগুলোয় এটি অতিস্বাভাবিক একটা বিষয় হলেও স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে গবেষণা আমাদের দেশে হয় না বললেই চলে। শুধু আইসিডিডিআরবি,র ওপর ভরসা করলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন আরো উন্নত, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা অসম্ভব। প্রতিটি চিকিৎসাশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) বিভাগ থাকা আবশ্যকীয় করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে এটিকে উৎসাহিত করতে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইনকাম ট্যাক্সসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়ার কথাও ঘোষণা করা যেতে পারে।

সরকারি সহযোগিতা

বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার আয় বা ব্যয় কমানো যেখানে উদ্দেশ্য, সেখানে অবশ্যই সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। অল্প সুদে লম্বা সময়ের জন্য ঋণ, প্রণোদনা প্যাকেজ, ট্যাক্স হলিডের সুযোগ থাকা দরকার। বেসরকারি কোনো হাসপাতালে সিএসআর কর্মকাণ্ড নিয়মিতভাবে করলে তাদের জন্য বিশেষ সম্মাননার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। হাসপাতালের জন্য নানা ধরনের লাইসেন্স করা লাগে। এসব করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হয় নানা ভোগান্তির। তাই সব লাইসেন্সের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা দরকার। এছাড়া সরকার রেমিট্যান্স ও গার্মেন্ট শিল্পের জন্য যা যা করেছে, স্বাস্থ্যসেবার বেসরকারি খাতের জন্যও সেসব করতে পারে।

এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে, এই ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে শুধু রেমিট্যান্স ও গার্মেন্ট খাতের ওপর নির্ভর না করে আমাদের আরো নতুন নতুন খাতের সন্ধান করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি শুধু টাকা আয় বা সম্পদ বৃদ্ধি নয়। মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে এবং উন্নত বিশ্বের অধিবাসীদের মতো স্বাস্থ্যনিরাপত্তার সেলফ কনফিডেন্সের বিস্তৃতি ঘটাবে। শুধু আইন করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করা সম্ভব নয়। উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সফল করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাতে হাত রেখে কাজ করতে হবে। এবার কভিড-১৯ সংক্রমণ আমাদের জানান দিয়ে যাচ্ছে যে চিকিৎসা দেশেই করতে হবে। কেবল তাই নয়, ধনী-গরিব সবার জন্য দেশেই যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাই এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই আমাদের অগ্রসর হতে হবে। স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে এনে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন সফল করতে হবে। 

 

ডা. এএম শামীম: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ল্যাবএইড গ্রুপ