বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) চলতি বছর সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক সেবা বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতি অনুধাবনের জন্য একটি সূচক প্রকাশ করেছে। সার্ভিসেস ট্রেড ব্যারোমিটার (এসটিবি) নামের এ সূচক বছরে দুবার প্রকাশ করা হবে। প্রথমবারের মতো প্রকাশিত এ সূচকে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সেবা বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বৈশ্বিক সেবা বাণিজ্য অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হবে। তবে আশার কথা, যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্কযুদ্ধের তেমন কোনো প্রভাব এ বাণিজ্যের ওপর পড়বে না, বরং পড়বে পণ্য বাণিজ্যের ওপর। কেননা শুল্কসংক্রান্ত বিষয়টি প্রধানত পণ্য বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

সেবা বাণিজ্য বা সেবা খাতের বাণিজ্য বলতে মূলত উৎপাদক ও ব্যবহারকারী কিংবা ভোক্তার মধ্যে ‘অদৃশ্য’ বা ‘স্পর্শহীন পণ্যের’ লেনদেনকে বুঝিয়ে থাকে, যদিও কখনো কখনো তা স্পর্শযোগ্য বস্তুর মাধ্যমে প্রকাশ হয়। পোশাক, মোবাইল ফোন বা ক্রিকেট ব্যাটের মতো দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য কোনো কিছু এখানে উপস্থিত। ফলে বিষয়টি বহুলাংশে উপলব্ধি করার। মানুষের হাতে থাকা মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেটটি যখন পণ্য, তখন এ পণ্য ব্যবহার করে দুই দেশের দুজন মানুষ ই-মেইল চালাচালি করে একজন আরেকজনের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নিলে ও তার বিনিময়ে অর্থ প্রদান করলে তা হবে সেবা বাণিজ্য। একজন স্থপতি যখন পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোনো একটি ভবনের নকশা করে দেন, তখন নকশা করার কাজটি হলো সেবা আর নকশাটি হলো সেবার বহিঃপ্রকাশ। বিমানে ভ্রমণ করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গেলে তা হলো ভ্রমণ সেবা, যা বাণিজ্যিকভাবে সম্পন্ন হয়।

ডব্লিউটিওর অন্যতম চুক্তি হলো সেবা বাণিজ্য চুক্তি, যেখানে সেবা বাণিজ্যকে এটি সম্পন্ন বা সরবরাহ হওয়ার ধরনের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়। চারভাবে এ সেবা সরবরাহ হতে পারে। প্রথমটি হলো (মোড-১) আন্তঃসীমান্ত সরবরাহ (ক্রস-বর্ডার সাপ্লাই), যেখানে সেবা সরবরাহকারী ও সেবা গ্রহণকারী যার যার দেশে অবস্থান করেই যথাক্রমে সেবা সরবরাহ ও সেবা গ্রহণ করে। যেমন বাংলাদেশের একজন ভবন নির্মাতা সিঙ্গাপুর থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে সেখানকার কোনো এক স্থপতির কাছ থেকে ভবনের নকশা গ্রহণ করলেন ও তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক দিলেন। দ্বিতীয়টি হলো (মোড-২) বিদেশে ভোগ (কনজাম্পশন অ্যাব্রড), যেখানে সেবা গ্রহণকারী নিজ দেশ ছেড়ে আরেক দেশে গিয়ে সেবা গ্রহণ করে। যেমন বাংলাদেশের একজন পর্যটক ভারতে বেড়াতে গেল। এ বেড়াতে যাওয়া বা পর্যটনই হলো একটা সেবা। আবার সে যদি বেড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নেয়, তাহলে তা হলো চিকিৎসা পর্যটন। তৃতীয়টি হলো (মোড-৩) বাণিজ্যিক উপস্থিতি (কমার্শিয়াল প্রেজেন্স), যেখানে সেবা প্রদানকারী কোনো একটি দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত থেকে সেবা সরবরাহ বা বিক্রি করে। যেমন একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কার্যালয় খুলে তাদের প্রকৌশলী ও নির্মাতাদের মাধ্যমে বাংলাদেশে এসব সেবা বিক্রি করে। এ তৃতীয় ধরনটি বা সরবরাহ পদ্ধতিটি আবার প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) সঙ্গে সম্পৃক্ত। সর্বশেষ বা চতুর্থ ধরনটি (মোড-৪) হলো স্বাভাবিক মানুষের গমনাগমন বা উপস্থিতি (মুভমেন্ট অর প্রেজেন্স অব ন্যাচারাল পারসনস), যেখানে সেবা প্রদানকারী অস্থায়ী ভিত্তিতে আরেক দেশে গিয়ে সেবা প্রদান করে। যেমন বাংলাদেশ থেকে নির্মাণ শ্রমিক কাতারে গিয়ে কাজ করেন। এটি কোনো দেশের প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) সঙ্গে সম্পৃক্ত।

আবার সেবা বাণিজ্যের আয়কে উপাদান সেবা (ফ্যাক্টর সার্ভিসেস) ও অ-উপাদান সেবা (নন ফ্যাক্টর সার্ভিসেস) এ দুই