বিশ্বব্যাপী
চলমান
কভিড
অতিমারীর
মধ্যেই
২০২১
সালের
ডিসেম্বরে
বাংলায় পাট
চাষ ১৮৫৫-১৯৪৭ শিরোনামে পুস্তকটি
প্রকাশিত
হয়।
বাংলায়
পাট
চাষের
প্রমাণ
প্রাচীন
যুগ
থেকেই
পাওয়া
গেলেও
তা
ছিল
সীমিত
পরিসরে
কৃষিজ
ফসল
হিসেবে।
উনিশ
শতকের
মাঝামাঝি
সময়ে
এটি
লাভজনক
অর্থনৈতিক
কৃষিজ
পণ্যদ্রব্যে
পরিণত
হয়।
পাটকে
কেন্দ্র
করে
গড়ে
ওঠে
শিল্প-কারখানা,
বাজার,
মোকাম
ইত্যাদি।
বইটি
অর্থনীতির
সূত্র
ধরে
চাহিদা
ও
বাজার
তত্ত্বের
‘গ্লোবাল’
ও
‘লোকাল’
পরিসরে
পাট
চাষ,
বিপণন,
পাটচাষী
কৃষকের
জীবন
ও
স্থানীয়
প্রতিবেশের
ইতিহাস
পরিক্রমা।
উনিশ
শতকের
বিশ্ব
রাজনীতির
দুটি
ঘটনা—ক্রাইমীয়
যুদ্ধ
(১৮৫৪-৫৬)
ও
মার্কিন
মুলুকের
গৃহযুদ্ধ
(১৮৬১-৬৫)
বাংলার
কৃষি
ও
অর্থনীতিকে
ভীষণভাবে
আলোড়িত
করেছিল।
শিল্প
বিপ্লব
পরবর্তী
বিশ্বে
পণ্য
প্যাকেটজাত
এবং
পরিবহন
প্রক্রিয়ায়
শন
ছিল
অন্যতম
কাঁচামাল।
কিন্তু
এ
দুটি
ঘটনার
ফলে
শনের
সরবরাহ
অনিশ্চিত
এবং
চাহিদা
অনুযায়ী
সংকুচিত
হয়ে
যায়।
বিকল্প
কাঁচামাল
হিসেবে
পাটকে
বিবেচনা
করা
হয়।
অতি
অল্প
সময়ের
মধ্যেই
বাংলার
বিভিন্ন
জেলায়
বিশেষত
পূর্ব
বাংলার
উর্বর
ব-দ্বীপাঞ্চলজুড়ে
পাট
চাষ
জনপ্রিয়
কৃষি
কর্মকাণ্ডে
পরিণত
হয়।
পাট
চাষে
লাভবান
কৃষকদের
বিরাট
অংশই
ছিল
পূর্ব
বাংলার
গ্রামীণ
মুসলিম
জনগোষ্ঠীর
অংশ।
কৃষি
ক্ষেত্রে
এ
নতুন
আর্থিক
জোগান
স্থানীয়
সমাজের
মানসজগতেও
পরিবর্তন
ঘটায়।
আর্থিক
সচ্ছলতার
ফলে
উচ্চবিত্ত
ও
মধ্যবিত্ত
হিন্দুদের
সমান্তরালে
পিছিয়ে
থাকা
পূর্ব
বাংলার
মুসলিম
কৃষকদের
অনেকেই
ইউরোপীয়
শিক্ষা
ও
জ্ঞান
অর্জনের
প্রক্রিয়ায়
অংশী
হন;
শুরু
হয়
রাজনীতির
নতুন
সমীকরণ।
১৯৩০-এর
দশকে
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রে
সৃষ্ট
মহামন্দার
প্রভাব
তার
ভৌগোলিক
সীমানা
ছাড়িয়ে
পুরো
পৃথিবীতেই
ছড়িয়ে
পড়ে।
বাংলার
পাটের
বাজারও
এর
ব্যতিক্রম
ছিল
না।
শুরু
হয়
দরপতন
এবং
টনক
নড়ে
পাটকেন্দ্রিক
সব
স্টেকহোল্ডার/ইন্টারেস্ট
গোষ্ঠীর।
ব্রিটিশ
সরকারের
পাশাপাশি
রাজনীতির
দাবা
খেলায়
কংগ্রেস
ও
মুসলিম
লীগের
নেতারা
পাটকে
নিজেদের
এজেন্ডাভুক্ত
করেন।
গবেষক
রেজাউল
করিম
এ
প্রকাশনায়
অর্থনৈতিক
ইতিহাসের
কাঠামোকে
প্রাধান্য
দিয়ে
উনিশ-বিশ
শতকের
বাংলার
রাজনীতি
ও
সমাজের
প্রাণবন্ত
চিত্রায়ণে
সক্ষম
হয়েছেন।
প্রাক-কথন,
ভূমিকা
ও
উপসংহার
ছাড়াও
১৪৩
পৃষ্ঠার
প্রকাশনাটি
তিনটি
অধ্যায়ে
বিন্যস্ত।
গ্রন্থটি
উনিশ
শতকের
মাঝামাঝি
(১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দ)
সময়
থেকে
পরবর্তী
প্রায়
এক
শতক
তথা
ব্রিটিশ
ভারতের
স্বাধীনতার
বছর
(১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ)
পর্যন্ত
কালপর্বে
বাংলা
অঞ্চলের
অতি
প্রাচীন
কৃষিজ
ফসল
পাট
চাষের
ইতিহাস।
এটি
পাটকেন্দ্রিক
অর্থনৈতিক
বলয়,
পাট
চাষনির্ভর
সমকালীন
রাজনীতির
টানাপড়েন,
সমাজ
ও
মানসজগৎ,
বৈশ্বিক
পটভূমিতে
স্থানীয়
বাজার
অর্থনীতির
একটি
প্রামাণ্য
গবেষণা
সংকলন।
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক
ইতিহাসের
পুরোধা
গবেষক
মান্যবর
অধ্যাপক
ড.
এম.
মোফাখখারুল
ইসলাম
গ্রন্থটির
মুখবন্ধে
মন্তব্য
করেছেন,
‘বাংলার
অর্থনৈতিক
ইতিহাস
অধ্যয়ন
ও
গবেষণায়
আগ্রহী
পাঠকরা
গ্রন্থটি
থেকে
নতুন
ভাবনার
খোরাক
পাবেন।’
গ্রন্থটি
পাঠের
পর
বাংলার
অর্থনৈতিক
ইতিহাসের
গবেষক
কিংবা
সাধারণ
পাঠকও
অনুরূপ
চিন্তার
অনুসারী
হবেন।
প্রথম অধ্যায়ের
শুরুর
দিকে
উপস্থাপিত
বাংলা
ভাষার
বাইরে
ভারতবর্ষের
বিভিন্ন
আঞ্চলিক
ভাষাসহ
ইউরোপীয়
ভাষাগোষ্ঠীর
একাধিক
ভাষায়
ব্যবহূত
পাটের
প্রতিশব্দবিষয়ক
আলোচনাটি
পাঠককে
এর
ভৌগোলিক
পরিমণ্ডল
নির্ধারণে
প্রস্তুত
করবে।
উপস্থাপিত
পাট
গাছের
পরিচায়ন,
প্রকরণ
ও
বৈজ্ঞানিক
সংজ্ঞায়ন
সাধারণ
পাঠকের
কাছে
সহজবোধ্য
ভঙ্গিমায়
তুলে
ধরা
হয়েছে।
বাংলার
বিভিন্ন
এলাকায়
চাষকৃত
পাটের
বৈশিষ্ট্য
ও
তার
স্থানীয়
নাম
যেমন
নারায়ণগঞ্জী,
মীরগঞ্জী,
সিরাজগঞ্জী
ইত্যাদি
ছিল।
স্থান
ও
বৈশিষ্ট্যভেদে
পণ্যদ্রব্যের
এ
ধরনের
নামকরণ
অর্থনৈতিক
ইতিহাসের
অতিপ্রাচীন
একটি
রীতি।
‘পাট
চাষের
সম্প্রসারণ’
শিরোনামে
দ্বিতীয়
অধ্যায়টিতে
আন্তর্জাতিক
ঘটনার
প্রভাবে
দেশীয়
কৃষি
ও
শিল্পবাজারে
পাটের
ত্বরিত
গতির
ক্রমবর্ধমান
চাহিদার
আলোকে
বাংলার
শিল্পায়ন
ও
বাজার
ব্যবস্থার
খুঁটিনাটি
উপস্থাপন
করা
হয়েছে।
এ
সময়
স্থানীয়
বাজারেও
পাটের
চাহিদা
দেখা
যায়।
কলকাতা
শহর
ও
হুগলি
নদীর
তীরঘেঁষে
প্রতিষ্ঠিত
হতে
থাকে
পাটের
কলকারখানা।
১৮৫৫
সালে
রিষড়ায়
স্থাপিত
হয়
প্রথম
কারখানাটি।
ব্রিটিশ
ভারতের
রাজধানী
শহর
কলকাতার
নাগরিক
জীবনযাপন,
অর্থনৈতিক
কর্মচাঞ্চল্য
ও
বাণিজ্যিক
বলয়ে
পাটের
জনপ্রিয়তা
বৃদ্ধির
গতি
ছিল
চূড়ান্ত
পর্যায়ের।
১৮৭৪
সালে
যেখানে
ছিল
মাত্র
পাঁচটি
পাটকল,
তা
১৯৩৮-৩৯-এ
দাঁড়ায়
১১০-এ।
একইভাবে
এ
সময়
তাঁতের
সংখ্যা
৩
হাজার
৫০০টি
থেকে
বৃদ্ধি
পেয়ে
দাঁড়ায়
৬৯
হাজারে।
পাট
চাষের
ক্রমবর্ধমান
চাহিদা
ও
পাটজাত
শিল্প-কারখানার
সম্প্রসারণের
নানা
পরিসংখ্যান
এ
গ্রন্থের
গবেষণা
প্রস্তাবনার
অন্যতম
স্তম্ভ।
বিশ শতকের
তৃতীয়
দশকে
এসে
বিশ্বব্যাপী
অর্থনৈতিক
মহামন্দার
প্রভাবে
বাজারে
পাটের
চাহিদা
ও
দর
উভয়েরই
পতন
হয়।
এ
দরপতনের
প্রভাবে
প্রশ্ন
ওঠে
পাট
চাষ
সম্প্রসারণ
হবে,
না
সংকুচিত
হবে?
সৃষ্টি
হয়
নানা
প্রতর্কের।
সমসাময়িক
দলিলাদি
বিশ্লেষণপূর্বক
লেখকের
সিদ্ধান্ত
‘বিশ
শতকের
পাট
চাষ
নিয়ন্ত্রণ
প্রচারণার
মূল
বক্তব্য
ছিল
পাট
চাষ
সীমিত
করে
কৃষকের
স্বার্থ
রক্ষা
করা’
(পৃ. ৫৩)।
অর্থনীতির
সঙ্গে
রাজনীতির
গভীর
সম্পর্কের
একটি
ঐতিহাসিক
চিত্র
এ
অধ্যায়ের
(পৃ. ৫২-৬২)
অন্যতম
আলোচনা।
বিশ্ববাজারে
পাটের
চাহিদা
কমার
কারণে
দরপতনে
বাংলার
পাটচাষী,
কৃষক
ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছেন-এ
সংকট
উত্তরণের
জন্য
গৃহীত
রাজনৈতিক
উদ্যোগের
খবর
পাওয়া
যায়
তত্কালীন
পূর্ব
বাংলার
বিখ্যাত
পত্রিকা
ঢাকা প্রকাশ-এ।
ঔপনিবেশিক
ভারতে
গঠিত
প্রথম
ও
অন্যতম
প্রভাবশালী
রাজনৈতিক
দল
কংগ্রেস
এ
বিষয়ে
অত্যন্ত
সক্রিয়
ভূমিকা
পালন
করেছিল।
১৯২৮
সালে
নেতাজি
সুভাষচন্দ্র
বসু—তিনি
তখন
কংগ্রেসের
বেঙ্গল
প্রেসিডেন্সির
সভাপতি—পাটের
চাষ
সীমিত
পরিসরে
করার
জনমত
গড়ে
তোলার
উদ্দেশ্যে
বাংলার
বিভিন্ন
জেলায়
প্রচার
চালিয়েছিলেন।
সে
বছরের
২৫
মার্চ
ঢাকা প্রকাশ
পত্রিকায়
লেখা
হয়,
‘বঙ্গীয়
কংগ্রেস
কমিটির
সভাপতি
শ্রীযুক্ত
সুভাষচন্দ্র
বসু
বাংলায়
পাট
সমস্যার
সমাধানে
উদ্যোগী
হইয়াছেন।
তিনি
সম্প্রতি
এক
ইশতেহারে
পাট
চাষ
প্রধান
জেলাগুলোর
কংগ্রেস
প্রতিষ্ঠানগুলোকে
পাট
চাষ
কমানোর
প্রয়োজনীয়তা
সম্পর্কে
চাষীদের
ভেতর
অবিলম্বে
প্রচারকার্য
আরম্ভ
করিতে
অনুরোধ
করিয়াছেন।’
পাট চাষ
সীমিত
করার
মাধ্যমে
চাষীদের
লাভবান
করার
কংগ্রেসীয়
প্রচারণা
ও
উদ্যোগটি
সর্বোতভাবে
গ্রহণযোগ্য
ছিল
না।
মূল্যপতন
ও
উৎপাদন
হ্রাস-বৃদ্ধির
তাত্ত্বিক
গণিত
বাস্তবে
সবসময়
সঠিক
নাও
হতে
পারে।
১৯২২-২৩
থেকে
১৯৩৬-৩৭
কালপর্বের
সরকারি
নথিতে
প্রাপ্ত
পরিসংখ্যান
সারণির
মাধ্যমে
ব্যবহার
করে
লেখক
বিষয়টি
যাচাই
করেন।
উল্লেখ্য,
কংগ্রেস
ও
ব্রিটিশ
সরকার
পাট
চাষ
নিয়ন্ত্রণের
বিষয়ে
একমত
হয়েছিল।
পারস্পরিক
স্বার্থবিরোধী
দুটি
প্রতিষ্ঠানের
একমত
হওয়ার
পেছনে
ব্রিটিশ
সরকারের
রাজনৈতিক
ও
প্রশাসনিক
অভিসন্ধি
অনুসন্ধানে
গবেষক
মুনশিয়ানার
পরিচয়
দিয়েছেন।
সরকার
১৯৩৪
ও
১৯৩৮
সালে
যথাক্রমে
মি.
ফিনলো
ও
মি.
ফাওকাসকে
প্রধান
করে ‘Bengal
Jute Enquiry Committe’ নামে
দুটি
কমিটি
গঠন
করেছিল।
কমিটিদ্বয়
বিশ্বমন্দা
পরিস্থিতি
বিবেচনা
করে
পাটের
বিকল্প
অর্থকরী
শস্য
এবং
পাট
চাষ
নিয়ন্ত্রণ
আইন
প্রস্তাব
করেছিল।
এরই
ধারাবাহিকতায়
The
Bengal Jute Regulating Act, 1940 নামে
১৯৪০
সালের
৯
আগস্ট
বঙ্গীয়
আইন
পরিষদে
একটি
আইন
পাস
হয়।
অধ্যায়টি
সমাপ্তি
হয়
‘পাট
চাষ
ও
দাদন
ব্যবস্থা’
এবং
‘পাটের
বিকল্প
আঁশের
অনুসন্ধান’—এ
দুটি
উপশিরোনামের
মাধ্যমে।
বিভিন্ন
বিকল্প
অনুসন্ধান
ও
চাষাবাদ
পরীক্ষা-নিরীক্ষা
ব্যর্থ
হয়।
কেননা
কমিটি
কর্তৃক
প্রস্তাবিত
কোনো
ফসলের
উৎপাদন
পাট
চাষের
মতো
সুলভে
করা
সম্ভব
হয়নি।
তৃতীয় অধ্যায়টি
অর্থনৈতিক
ইতিহাসের
চেয়ে
সমকালীন
পূর্ব
বাংলার
মানসজগৎ,
সমাজ
ও
উদীয়মান
মধ্যবিত্তের
উত্থানের
ইতিহাস।
‘পাট
চাষ
ও
ঢাকা
প্রকাশ
পত্রিকা’
শিরোনামে
গবেষক
সমাজ
ও
পরিবেশের
ওপর
পাট
চাষের
প্রভাব
সম্পর্কিত
ইতিবাচক
ও
নেতিবাচক
প্রতিক্রিয়াগুলোকে
সমকালীন
সূত্রের
চোখে
বর্তমানের
পাঠকের
কাছে
উপস্থাপনের
প্রয়াস
নিয়েছেন।
শিরোনামে
স্পষ্ট
যে ঢাকা
প্রকাশ পত্রিকাটি গবেষকের
বিশ্লেষণের
মূল
হাতিয়ার।
কিন্তু
অধ্যায়টিতে
উত্থাপিত
প্রশ্ন
ও
বক্তব্যের
তথ্যসূত্র
জরিপ
করলেই
পাঠক
সহজেই
বুঝতে
পারবেন
গবেষক
বঙ্গবাণী পত্রিকাটিকেও আকর
সূত্র
হিসেবে
ব্যবহার
করেছেন।
শুধু
তা-ই
নয়,
সমসাময়িক
ব্রিটিশ
সরকারি
নথিতে
প্রাপ্ত
তথ্যাদি
ব্যবহার
করেছেন
অত্যন্ত
কৌশলী
উপায়ে।
তিনটি
উপশিরোনামে
অধ্যায়টি
বিন্যাস
এবং
ঢাকা প্রকাশে উপস্থাপিত
সংবাদগুলোর
বিশ্লেষণ
করা
হয়েছে।
উপশিরোনামগুলো
হলো:
‘উনিশ
শতকে
পাট
চাষের
বিরুদ্ধে
অভিযোগসমূহ’,
‘পাট
চাষের
বিরুদ্ধে
উত্থাপিত
অভিযোগসমূহের
বিশ্লেষণ’
এবং
‘বিশ
শতকে
পাট
চাষ
নিয়ন্ত্রণ
প্রচারণা
ও
প্রতিক্রিয়া’।
পত্রিকাটিকে
হিন্দু
মধ্যবিত্তের
কোলঘেঁষা
হিসেবে
চিহ্নিত
করে
গবেষক
রেজাউল
করিম
এতে
প্রকাশিত
সংবাদ
ও
সম্পাদকীয়র
আলোকে
বাংলায়
পাট
চাষের
বিরুদ্ধে
উত্থাপিত
পাঁচটি
অভিযোগ
তুলে
ধরে
সেগুলোর
যথার্থতা
বিশ্লেষণের
প্রয়াস
নিয়েছেন।
অভিযোগগুলো
ছিল:
(১) ধান
উৎপাদন
হ্রাস,
(২) মশার
প্রজনন
বৃদ্ধি
এবং
ম্যালেরিয়া
রোগের
প্রাদুর্ভাব,
(৩) সম্পদশালী
হওয়ার
ফলে
পাটচাষী
কৃষকগোষ্ঠীর
চাকরি
ও
ব্যবসার
ক্ষেত্রে
উচ্চবিত্ত
ও
ভদ্রলোকের
মধ্যে
তীব্র
প্রতিযোগিতা,
(৪) সচ্ছল
কৃষক
পেশা
ত্যাগ
করায়
কৃষিতে
শ্রম
সংকট
এবং
(৫) জমির
উর্বরা
শক্তি
হ্রাস।
গ্রন্থকার ঢাকা প্রকাশে উত্থাপিত
উপর্যুক্ত
অভিযোগগুলোকে
সমসাময়িক
অন্যান্য
আকর
সূত্রে
প্রাপ্ত
তথ্যাদির
আলোকে
খণ্ডানোর
চেষ্টা
করেছেন
এবং
সফল
হয়েছেন।
উপরের
তালিকায়
দ্বিতীয়
অবস্থানে
থাকা
অভিযোগটির
সুলুক
সন্ধান
এবং
খণ্ডানোর
প্রক্রিয়াটি
বিশ
শতকের
বাংলার
অর্থনৈতিক
ইতিহাসের
চেয়ে
অনেক
বেশি
প্রকৃতি,
পরিবেশ
ও
জনস্বাস্থ্যের
ইতিহাস।
১৮৭৪ সালের
৩০
আগস্ট
প্রকাশিত
সম্পাদকীয়তে
পত্রিকাটির
অভিযোগ
ছিল:
‘পাট
জাগ’
দেয়ার
ফলে
পানিদূষণ,
দুর্গন্ধময়
পরিবেশ
এবং
নানা
রকম
রোগ
সৃষ্টি
হচ্ছে।
এছাড়া
১৮৯১
সালের
২৭
সেপ্টেম্বর
পত্রিকাটিতে
লেখা
হয়,
‘এ
দেশে
যখন
এত
পাট
ছিল
না,
ম্যালেরিয়ার
কথা
তখন
বড়
কেহ
শুনে
নাই।’
‘পাট
চাষের
ফলে
বাংলা
ক্রমশ
মত্স্যহীন
হচ্ছে’-এ
রকম
অভিযোগও
পত্রিকাটিতে
ছাপা
হয়।
লেখক
ম্যালেরিয়া
রোগের
কারণ,
ভৌগোলিক
পরিমণ্ডল,
বাংলার
সমকালীন
জলবায়ু
ও
প্রতিবেশের
নানা
উপাদান
বিশ্লেষণ
করার
মাধ্যমে
অভিযোগটি
খণ্ডন
করেছেন।
তিনি
প্রমাণ
করেছেন,
‘পরিবেশগত
কারণে
মশার
বংশবৃদ্ধি
হলেও
পাট
চাষ
বৃদ্ধির
সাথে
তার
কোনো
আবশ্যিক
সম্পর্ক
নেই
(পৃ. ৯০)।’
ব্রিটিশ
প্রশাসক
এলএসএস
ও’ম্যালির
প্রতিবেদন
এ
যুক্তি
খণ্ডনের
প্রধান
হাতিয়ার
বা
আকর
সূত্র।
পত্রিকাটিতে
প্রকাশিত
অন্যান্য
অভিযোগ
বিশ্লেষণ
ও
নাকচ
প্রস্তাবনায়
গবেষকের
মুনশিয়ানার
ছাপ
অত্যন্ত
স্পষ্ট।
অধ্যায়টির শেষ
অংশে
পত্রিকাটির
পাট
চাষবিরোধী
মনোভাব
থেকে
পাট
চাষ
সম্প্রসারণের
স্ববিরোধী
চরিত্রের
ভেতর-বাহির
তুলে
ধরা
হয়েছে।
বিশ
শতকের
শুরুতে
ভারতবর্ষজুড়ে
চলমান
হিন্দু-মুসলিম
পরিচয়
সত্তা
ও
রাজনৈতিক
দ্বন্দ্বের
জটিল
অবয়বের
একটি
ক্ষুদ্র
সূত্রে
পরিণত
হয়
বাংলার
পাট
চাষ।
ধর্ম
পরিচয়ভিত্তিক
রাজনৈতিক
সমীকরণে
পক্ষ-বিপক্ষ
অবস্থানের
বহিঃপ্রকাশ
এ
স্ববিরোধী
সংবাদ।
সংবাদের
বা
আলোচনার
কেন্দ্র
কৃষিপণ্য
পাট
হলেও
এর
বাতাবরণে
ছিল
জটিল
রাজনৈতিক
গণিত।
বিশ শতকের
প্রথম
দুই
দশকে
বর্তমান
বাংলাদেশ
তথা
উনিশ
ও
বিশ
শতকের
পূর্ব
বাংলার
উদীয়মান
মুসলিম
কৃষকসমাজের
অর্থনৈতিক
জীবনের
অন্যতম
উপাদান
ছিল
পাট
চাষ।
পরবর্তী
সময়ে
বৈশ্বিক
মহামন্দার
প্রভাবে
পাটের
দরপতন
ও
পাট
চাষ
ক্রমে
সংকুচিত
হতে
থাকে।
অর্থনীতির
হাওয়া
ছুঁয়ে
যায়
রাজনীতি
ও
মানসজগেক।
পাটকেন্দ্রিক
অর্থনৈতিক
ও
রাজনৈতিক
প্রক্রিয়ার
প্রাঞ্জল
চিত্রায়ণ
হয়েছে
এ
গবেষণাকর্মে।
বাংলাদেশের
অতীত
অনুসন্ধানে
বিশ
শতকীয়
পটভূমিতে
নতুন
ঝলক
পাঠকসমাজে
উপস্থাপনের
এ
মহতী
উদ্যোগের
জন্য
লেখককে
জানাই
সাধুবাদ
ও
আন্তরিক
ধন্যবাদ।
শহিদুল হাসান: সহকারী অধ্যাপক
ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়










