আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতি এখন আর শুধুমাত্র লাভ-লোকসানের টাকার অংকের হিসাব-নিকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এরসঙ্গে এখন গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সমরকৌশল ও নানা জোটগত কলাকৌশলের হিসাব-নিকাশও। বাংলাদেশ যে গত ১৯ জুলাই চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাককে করোনা টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নীতিগত অনুমোদন দিয়েও পরে আবার তা থেকে পিছিয়ে আসে, তার পেছনে যেমন কূটনীতি ছিল, তেমনি আবার ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার আকস্মিক বাংলাদেশ সফরের পরও এখন যে আবার সিনোভ্যাকের সে অনুমোদন নিশ্চিত করা হলো, সেটিও সুক্ষ্ণ কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশেরই অংশ। সরকারের এ পরিবর্তিত সিদ্ধান্ত করোনাকালে স্বাস্থ্যখাতে গৃহীত অসংখ্য ভুল ও অদক্ষ সিদ্ধান্তের বিপরীতে একটি ভালো ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত বলে মনে করি।
সরকারের এ পরিবর্তিত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে করোনা টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে সুবিধাগুলো ভোগ করবে তা হচ্ছে: ১) অন্যদেশের টিকা বাজারে আসার আগেই বাংলাদেশ তা পেয়ে যাবে; ২) উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টিকা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে; ৩) টিকা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভোগ করবে; ৪) সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা কেনার সুযোগ থাকবে; ৫) ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কোম্পানি এ টিকা উৎপাদনের সুযোগ পাবে; এবং সর্বোপরি ৬) দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের বিবেচনায় বর্ধিত পরিসরে লাভবান হবার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
উল্লিখিত এ সুবিধাসমূহের মধ্যে টিকা সংক্রান্ত প্রথমোক্ত পাঁচটি সুবিধা এমন বড় কিছু নয়। খানিকটা কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে পারলে কমবেশি কাছাকাছি শর্তে এগুলো অন্যদেশ থেকেও পাওয়া সম্ভব। রাশিয়া থেকে টিকা আমদানির প্রস্তাবও ইতিবাচক অগ্রগতির পথে এগুচ্ছে বলে জানা যায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ও বহুমাত্রিক কূটনৈতিক বিবেচনায় লাভবান হওয়ার জন্য শেষোক্ত যে বিষয়টি, তা অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতোটা সফল হতে পারবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষতা, দূরদৃষ্টি ও বিচক্ষণতার সঙ্গে কতোটা উদ্যমী ও ধারাবাহিক ভূমিকা গ্রহণ করতে পারবে তার উপর।
উদাহরণ হিসেবে বলি: ভারতের প্রচণ্ড চাপ ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ-যে সিনোভ্যাককে করোনা টিকার চূড়ান্ত ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি দিলো, সে বিষয়টি দক্ষতাপূর্ণ কূটনীতির আদলে চীনের সামনে তুলে ধরে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে তার কাছ থেকে বর্ধিত সহযোগিতা চেয়ে সফল হতে পারলে সেটিই হবে বাংলাদেশের এ সংক্রান্ত বিচক্ষণতার একটি উৎকৃষ্ট নমুনা।
আঞ্চলিক বাণিজ্যস্বার্থ, আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক ও অন্যান্য ভূরাজনৈতিক কারণে মিয়ানমারকে যেমন চীনের দরকার, তেমনি ভারতের সঙ্গে তার চলমান বিরোধ ও সেই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার বিবেচনা থেকে বাংলাদেশও যে চীনের জন্য গুরুত্বহীন নয়, সে বিষয়টি তাদের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে। (এখানে চীন ও ভারতের মধ্যকার বিরোধিতা টিকে থাকাকে সমর্থন করা হচ্ছে না। বরং অভিমত হচ্ছে, বিশ্ববাণিজ্য ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এশিয়ার তথা উন্নয়নশীল দেশসমূহের গুরুত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীন-ভারত সুসম্পর্কই বরং অধিক জরুরি। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ইচ্ছা করলে এ দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে বিরোধমুক্ত করার কাজে দূতিয়ালীর ভূমিকাও পালন করতে পারে)। আর কাজটি যত দ্রুত শুরু করা যাবে ততোই মঙ্গল। কারণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ইতোমধ্যে তিন বছর পেরিয়ে গেছে এবং এ সময়ের মধ্যে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে খুব সামন্যই অগ্রগতি অর্জন করা গেছে। তদুপরি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৃহৎ অংশের মধ্যে দিন দিন নির্লিপ্ততা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ যদি উপযুক্ত ও কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতার আওতায় কঠোর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারকে এখনই সম্মত করতে না পারে, তাহলে দূর ভবিষ্যতে তা আদৌ না পারার আশঙ্কাই প্রবল হয়ে ওঠতে পারে বলে মনে করি। ফলে বিষয়টি উপলব্ধি করে এ ক্ষেত্রে যেখানে যার মাধ্যমে যতটুকু সুযোগই পাওয়া যাকনা কেন, তার প্রতিটি কণা ব্যবহার করা উচিৎ। আর এ রকমই একটি সুযোগ হচ্ছে সিনোভ্যাককে করোনা টিকার চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনার অনুমতিদান-উত্তর বর্তমান পরিস্থিতি।
বাংলাদেশ এখন চীনকে বলতেই পারে যে, ভারতের জোর কূটনৈতিক তৎপরতাকে উপেক্ষা করে সিনোভ্যাককে যেভাবে এখানে তাদেরকে টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি দেয়া হলো, তাতে চীনের অবশ্যই উচিৎ হবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো। আর চীন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ালে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের হিসাব-নিকাশের সুবাদে পৃথিবীর আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ দেশও হয়তো এ ক্ষেত্রে এ ধারায় এসে সামিল হতে পারে, যা বাংলাদেশের এ সংক্রান্ত বর্তমান নাজুক অবস্থার পরিবর্তনে অনেকখানি সহায়ক হবে। তদুপরি নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সর্বসাম্প্রতিক টেলিফোন ও টেলিফোন আলাপের সময় তাদেরকে ৫০ হাজার টন সার প্রদানের শুভেচ্ছা অঙ্গীকারকে চীনের পক্ষে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত উল্লেখ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদেরকে তাদের পূর্ববর্তী অবস্থান পরিবর্তনের দাবি করা যেতে পারে।
এছাড়া বাংলাদেশ যে চীনের বাইরে ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোম্পানির কাছ থেকে টিকা না কিনে রাশিয়া থেকে তা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে, সেটিও এই মেরুকরণের ধারণাকেই সমর্থন করে এবং সেটিও চীনের সামনে তুলে ধরা যেতে পারে।
মোটকথা, এই করোনাকালে টিকা বা টিকা বহির্ভূত বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের বড় অংশই যেহেতু চীনের পক্ষে গিয়েছে, সেহেতু রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে তাদের সমর্থন সংগ্রহ করতে না পারার কোনোই কারণ নেই। এখন দেখা যাক, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কতোটা কী করতে পারে।
রোহিঙ্গা সমস্যার প্রকৃতি ও ধরন এবং বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টি এখন প্রায় সর্বজনবিদিত। আর এ নিয়ে আলোচনাও কম হয়নি। ফলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মোটামুটি প্রায় সবাই এখন জানেন যে: ক) ১৫ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর ভার বহনের আর্থিক তথা সম্পদ সামর্থ বাংলাদেশের নেই; খ) এই ছোট্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী ১৮ কোটি মানুষের দেশে অতিরিক্ত ১৫ লাখ শরণার্থীর আবাসন এবং তাদের মধ্যকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির অতি উচ্চ হার সত্যি সত্যি সুস্থ ধারার জনঘনত্বের ধারণাকে সমর্থন করে না এবং বাস্তবতা এই যে, রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেয়া না গেলে অচিরেই এরা শরণার্থী শিবির ছেড়ে সাধারণ জনপদে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে নতুনতর সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করবে; গ) শরণার্থী শিবিরগুলো ক্রমেই খুনখারাবি, মাদক, মানবপাচার, যৌন নিপীড়ন ইত্যাদি নানা অপরাধের কেন্দ্র হয়ে উঠছে; ঘ) জঙ্গিবাদী তৎপরতা স্থান করে নেয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে; ঙ) শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্যের পরিমাণ ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে; এবং সর্বোপরি চ) শরণার্থী রোহিঙ্গারা বস্তুই এক চরম মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে নিপতিত হচ্ছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে এমন একটি করুণ পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকা এবং অন্যদিকে মিয়ানমার সরকার কর্তৃক চরম অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়ে অন্যায়ভাবে রোহিঙ্গাদেরকে নিজ মাতৃভূমি থেকে বিতাড়ন করা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসেনি এবং এখনো তাদের মধ্যে এ ব্যাপারে তেমন কোনো আগ্রহ লক্ষ্য যাচ্ছে না। বরং তিন বছর আগে এ বিষয়ে তাদের যেটুকু আগ্রহ ছিল, এখন সেটুকুও অনেকখানি ম্লান হয়ে এসেছে। এ অবস্থায় একটি স্বল্প দূরত্বের এশীয় প্রতিবেশী এবং সর্বোপরি বড় মাত্রার বাণিজ্যিক লেনদেন ও ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত চীন এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে এগিয়ে আসবে, সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু চীন এতদিন পর্যন্ত তা না করলেও পরিবর্তিত নতুন প্রেক্ষাপটে তাদের পক্ষে তা করার যথেষ্ট যুক্তি ও কারণ রয়েছে। তবে মনে রাখা দরকার যে, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে সব সময়ই সবকিছু যুক্তি মেনে ঘটে না। এমতাবস্থায়, চীন যাতে এ ব্যাপারে যুক্তি, ন্যায্যতা ও মানবাধিকার রক্ষণের বাইরে যেয়ে কিছু করতে না পারে, সে ব্যাপারে যথাযথ কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিকভাবে লেগে থাকতে হবে। বস্তুত সেটিই হচ্ছে দক্ষ ও বিচক্ষণ কূটনীতি। আশা করবো, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সে দক্ষতা ও বিচক্ষণতা প্রদর্শনে সক্ষম হবে।
বলা হয়ে থাকে যে, কূটনীতি এখন আর শুধুমাত্র সাধারণ আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক নয় কিংবা কেবল কোনো সামরিক জোটের প্রয়োজনেই তা গঠিত হয় না। বরং বাণিজ্যিক লেনদেন ও অর্থনৈতিক স্বার্থই এখন কূটনীতির মূল কথা। সেদিক থেকে দেখলেও ১৮ কোটি জনসংখ্যার বাজারকে বাংলাদেশের বাজারকে চীনের পক্ষে উপেক্ষা করা সহজ নয়। তদুপরি ভারত মহাসাগর থেকে সামান্য ভেতরে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবস্থিত বাংলাদেশের ভৌগোলিক কৌশলগত গুরুত্বতো রয়েছেই। এছাড়া বাংলাদেশে বর্তমানে যতগুলো চীনা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং সে দেশের যত সংখ্যক প্রকৌশলী ও অন্যান্য জনবল এখানে কাজ করছে, তাতেও চীনের কাছে বাংলাদেশের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করি। আর আসিয়ানের সদস্য হিসেবে চীনের কাছে মিয়ানমারের যেরূপ গুরুত্ব, তেমনি ভারতভুক্ত দক্ষিণ এশিয়ার সদস্য হিসেবে বাংলাদেশেরও একটি আলাদা গুরুত্ব রয়েছে বৈকি! তবে সে গুরুত্বের বিষয়টি কূটনৈতিক পরিভষায় চীনের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে আমাদেরকে অবশ্যই পারঙ্গম হতে হবে। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, ভারতের সঙ্গেও আমাদের ভালো সম্পর্ক থাকা জরুরি। তবে একইসঙ্গে উভয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রক্ষার কাজটি খানিকটা কঠিন হলেও মোটেও অসম্ভব নয়। আর সেখানেই আসে বিচক্ষণ কূটনীতির প্রসঙ্গ, যা নানা যৌক্তিক-অযৌক্তিক কারণে আমরা সবসময় রক্ষা করে চলতে পারিনি।
করোনার কারণে গত ৮ মাস ধরে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গটি প্রায় ধামাচাপাই পড়ে আছে। করোনা আমাদেরকে ভোগাচ্ছে বটে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে রোহিঙ্গা সমস্যাতো আমাদেরকে ভোগাবে করোনার চেয়েও বেশি করে। তাছাড়া করোনা ভোগাচ্ছে বলে রোহিঙ্গাদেরকে ঘিরে সৃষ্ট সমস্যাতো আর স্থির হয়ে থাকছে না; বরং এই ক'মাসে সমস্যা আরো ব্যাপকতা লাভ করেছে। কিন্তু সে দিকটির প্রতি আমরা পর্যাপ্ত মনোযোগ দিতে পেরেছি কি? এমনকি গত ২৩ জানুয়ারি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালত (আইসিজে) রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে গণহত্যা থেকে রক্ষা করার বিষয়ে বার্মার প্রতি যে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে, সেটির সূত্র ধরে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির ব্যাপারে বাংলাদেশ যা যা করতে পারতো বা এখনো পারে, সম্ভবতঃ সেখানটাতেও ভাটা পড়ে আছে। এমনি পরিস্থিতিতে আবারো বলবো, সিনোভ্যাককে বাংলাদেশে করোনা টিকার তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতিদানের মাধ্যমে চীনকে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের পক্ষে টানার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, আমরা যেন তার পূর্ণ সদ্ব্যবহারে সচেষ্ট হই। মনে রাখতে হবে, সুযোগ বার বার আসে না, কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিবিধি নির্ধারণের ক্ষেত্রেতো আসেই না। ফলে এ ক্ষেত্রে সফল হতে পারলে সেটি হবে করোনার নানা কষ্টের মধ্যেও এর উছিলায় পাওয়া একটি বড় উপহার।
আবু তাহের খান
পরিচালক
ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
সাবেক পরিচালক
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন
atkhan56@gmail.com










