যুক্তরাজ্যের
অর্থমন্ত্রী
ঋষি
সুনাক
গত
মার্চে
উপস্থাপিত
বাজেটে
ব্যাংক
অব
ইংল্যান্ডের
(বিওই) ক্ষমতা
বাড়িয়েছেন।
২০৫০
সাল
নাগাদ
গ্রিনহাউজ
গ্যাস
নিঃসরণ
শূণ্যে
নামিয়ে
আনার
সরকারি
লক্ষ্যমাত্রা
অর্জনে
সব
ধরনের
সমর্থন-সহায়তা
প্রদানে
তিনি
প্রতিষ্ঠানটিকে
যুক্ত
করেছেন,
এখতিয়ার
দিয়েছেন।
তবে
গত
৮
জুন
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত
একটি
চিঠিতে
এ
পদক্ষেপের
ব্যাপারে
বিওইর
সাবেক
গভর্নর
মার্ভিন
কিংয়ের
অবস্থান
বেশ
সমালোচনামূলক
ছিল।
তিনি
সতর্ক
করেছেন
যে
‘জলবায়ু পরিবর্তনের
মতো
রাজনৈতিক
ক্ষেত্রে
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের
দায়িত্ব
সম্প্রসারণ
উচ্চমূল্যস্ফীতির
সংকেত
প্রদান-সংক্রান্ত
সংস্থাটির
তত্পরতা
ধীর
করবে
এবং
প্রকৃত
প্রস্তাবে
নিয়ন্ত্রক
সংস্থাটির
স্বাধীনতা
দুর্বল
করবে,
হুমকিতে
ফেলবে।’
কাজেই
এসব
আসলে
হচ্ছেটা
কী?
বিষয়গুলো
বোঝার
জন্য
একটি
ছোট্ট
ইতিহাস
সহায়ক
হতে
পারে।
১৯৮০-এর
দশকের
দিকে
নীতিনির্ধারকরা
একটি
ঐকমত্যে
পৌঁছেছিলেন
যে
প্রধান
সামষ্টিক
অর্থনৈতিক
সমস্যা
হলো
মূল্যস্ফীতি।
স্বাভাবিক
হারের
চেয়ে
বেকারত্বের
হার
নামিয়ে
আনতে
সরকারগুলোর
‘কেইনসীয়’ প্রচেষ্টা
অর্থের
মূল্যের
অনির্ভরযোগ্য
অভিভাবকে
পরিণত
করেছিল
তাদের।
অতএব,
মূল্যস্ফীতি
নিয়ন্ত্রণে
সরকারগুলো
‘অরাজনৈতিক’ কেন্দ্রীয়
ব্যাংকারদের
নিযুক্ত
করেছিল।
১৯৯৭
সালে
যুক্তরাজ্যের
নতুন
লেবার
পার্টি
সরকার
যথার্থভাবে
দলটির
অপরিমিত
ব্যয়ের
বিষয়ে
বদনামের
প্রতি
সজাগ
থেকে
বিওইকে
২
দশমিক
৫
শতাংশের
মূল্যস্ফীতি
(পরে ২
শতাংশে
নামিয়ে
আনা
হয়)
লক্ষ্যমাত্রা
পরিপূরণে
দায়িত্ব
দিয়েছিল।
আনুষ্ঠানিক
সুদহার
(ব্যাংক হার)
নির্ধারণে
ক্ষমতা
অর্থ
মন্ত্রণালয়
থেকে
বিওইর
মুদ্রানীতি
প্রণয়নবিষয়ক
কমিটির
কাছে
হস্তান্তর
করা
হয়েছিল।
প্রত্যাশা
ছিল
নতুনভাবে
ক্ষমতায়িত
বিওই
যখন
মূল্যস্ফীতি
২
শতাংশের
উপরে
যাবে
তখন
তার
সুদহার
বাড়াবে
আর
যখন
মূল্যস্ফীতি
(বা দাম
মাত্রা)
কমবে
তখন
সুদহার
হ্রাস
করবে।
অধিকন্তু
মূল্যস্ফীতি
লক্ষ্যমাত্রার
মধ্যমেয়াদি
প্রকৃতি
বিওইকে
অর্থনৈতিক
কর্মকাণ্ডের
সঙ্গে
মিল
রেখে
সুদহার
নীতি
সমন্বয়ে
কিছুটা
পরিসর
বা
সুযোগ
দিয়েছিল।
এ
আর্থিক
ব্যবস্থাকে—যা
অধিকাংশ
ধনী
দেশের
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক
গ্রহণ
করেছিল—২০০৮
সাল
পর্যন্ত
স্থায়ী
হওয়া
তথাকথিত
‘গ্রেট মডারেশন’
সময়
পর্বে
দাম
স্থিতিশীলতা
বজায়
রাখার
জন্য
কৃতিত্ব
দেয়া
হয়।
তবে
নিম্ন
পণ্যমূল্য,
রক্ষণশীল
আর্থিক
নীতি
এবং
বিশ্ব
অর্থনীতিতে
চীনের
প্রভাব
প্রায়
নিশ্চিতভাবে
স্বাধীন
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকারদের
কারিগরি- প্রযুক্তিগত
হিসাব-নিকাশের
চেয়ে
অধিক
গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়
ছিল।
অবশ্য
২০০৮
সালের
বৈশ্বিক
আর্থিক
সংকটের
সময়ে
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকগুলো
শেষ
ভরসার
ঋণদাতা
হিসেবে
তাদের
গতানুগতিক
ভূমিকার
বাইরে
গিয়েছিল
এবং
দেউলিয়া
হওয়া
বাণিজ্যিক
ব্যাংকগুলোকে
উদ্ধারে
বেইলআউট
প্যাকেজ
নিয়ে
এগিয়ে
এসেছিল।
যেহেতু
ব্যাংকিং
সংকট
ভয়াবহ
অর্থনৈতিক
অধোগতিতে
রূপ
নিয়েছিল
এবং
আনুষ্ঠানিক
সুদহার
প্রায়
শূন্যে
নেমেছিল,
সেহেতু
মূল্যস্ফীতির
লক্ষ্য
অর্জনে
বাড়তি
আর্থিক
নীতি
উপকরণ-হাতিয়ার
প্রয়োজন
মনে
করা
হয়েছিল।
ফলে
প্রবর্তন
করা
হয়েছিল
কোয়ান্টিটেটিভ
ইজিং
(কিইউ) কিংবা
গ্রহণ
করা
হয়েছিল
‘অগতানুগতিক মুদ্রা
নীতি’,
যার
অর্থ
হলো
ব্যবসায়িক
সংকোচনের
প্রভাব
বদলে
অর্থনীতিকে
অর্থ
দিয়ে
ভাসিয়ে
দেয়া।
মূল্যস্ফীতি
নিয়ন্ত্রণে
ব্যবহূত
মুদ্রানীতিকে
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকগুলো
তখন
অর্থনৈতিক
পতন
ঠেকাতে
ব্যবহার
করেছিল,
যা
তাদের
এখতিয়ারের
মধ্যে
ছিল
না।
নিয়ন্ত্রক
সংস্থাগুলোর
ভূমিকার
প্রকৃতি
সম্পর্কে
আসন্ন
বিভ্রান্তির
মধ্যে
আর্থিক
নীতিনির্ধারকরা
দাবি
করেছিলেন
যে
তাদের
বিপুল
পরিমাণ
সরকারি
ঋণ
উপকরণ
(যেমন সরকারি
বন্ড)
ক্রয়ের—২০০৯
থেকে
২০১৬
পর্যন্ত,
যা
কয়েকশ
বিলিয়ন
ডলার,
ইউরো,
পাউন্ডে
উন্নীত
হয়েছিল—উদ্দেশ্য
ছিল
‘মূল্যস্ফীতির হার
নির্ধারিত
লক্ষ্যমাত্রার
মধ্যে
রাখা’।
কিন্তু
সবাই
জানত
যে
তাদের
মনে
মূল্যস্ফীতিই
ছিল
সর্বশেষ
অস্ত্র,
যেহেতু
অর্থনীতিগুলো
ক্রমে
স্থবির
হয়ে
পড়ছিল।
শেষ
ভরসার
উদ্ধারকারী
হিসেবে
নিজেদের
ভূমিকা
ঘোষণা
করা
কি
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের
উচিত
ছিল?
অধিকাংশ
মানুষ
বলবে
যে
এটা
ছিল
সরকারের
দায়িত্ব
এবং
তা
খুব
যুক্তিসংগত
কারণে।
জন
মেইনার্ড
কেইনস
যেমনটা
৮০
বছর
আগে
বলেছিলেন,
‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
অর্থ-মুদ্রা
ছাপানো
নয়,
খরচই
অর্থনৈতিক
কর্মকাণ্ডের
জন্য
অধিক
গুরুত্বপূর্ণ।’
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকগুলো
কখনো
সন্তোষজনকভাবে
এ
প্রশ্নের
উত্তর
দিতে
পারেনি
যে
তাদের
বিপুল
অর্থপ্রবাহের
সঞ্চালন
(মনিটারি ইনজেকশন)
প্রকৃত
অর্থনৈতিক
কর্মকাণ্ড
কতটা
বাড়িয়েছিল।
অর্থনীতিগুলো
যেহেতু
অব্যাহতভাবে
স্থবির
হয়ে
গিয়েছিল,
সেহেতু
তাদের
জন্য
জুতসই
বিষয়
ছিল
কিইউ
ছাড়া
অবস্থা
কতটা
খারাপ
হতে
পারে
এ
তর্ক-বিতর্কটা
তোলা।
কাজটি
তারা
যথাযথভাবে
করেনি।
যেজন্য
অর্থনীতির
গভীরতর
কাঠামোগত
সমস্যাগুলো
এখনো
রয়ে
গেছে।
এদিকে
২০০৮-০৯
সালের
অর্থনৈতিক
সংকট
থেকে
পুরোপুরি
ঘুরে
দাঁড়ানোর
আগেই
বিশ্ব
কভিড-১৯
মহামারীতে
বিপর্যস্ত
হয়েছে।
এ
সময়ে
লকডাউনের
মুখে
মানুষের
ক্রয়ক্ষমতা
বজায়
রাখতে
সরকারগুলো
যথার্থভাবেই
বিপুল
মাত্রায়
ব্যয়
বৃদ্ধি
শুরু
করেছে।
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকগুলো
(আপাতভাবে মূল্যস্ফীতির
হার
নিয়ন্ত্রণে
রেখে)
এখন
সরকারের
ইচ্ছানুযায়ী
রাষ্ট্রীয়
ব্যয়
অর্থায়ন
করছে
তাদের
ম্যান্ডেটে
কোনো
ধরনের
পরিবর্তনের
তোয়াক্কা
না
করেই।
কিছু
নির্ভীক
ব্যক্তি
অবশ্য
জিজ্ঞাসা
করেছে,
বেড়ে
চলা
সরকারের
বাজেট
ঘাটতির
অর্থায়ন
কীভাবে
২
শতাংশ
মূল্যস্ফীতির
লক্ষ্যমাত্রা
অর্জনের
সঙ্গে
সংগতিপূর্ণ
হবে।
তবে
এ
প্রশ্নকে
খারাপভাবে
বিবেচনা
করা
হয়েছে,
যেহেতু
এটি
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের
মূল্যস্ফীতি
প্রতিরোধমূলক
ম্যান্ডেটের
বিশ্বাসযোগ্যতাকে
অবমূল্যায়ন
করে।
সুনাকের
জলবায়ু
পরিবর্তনসংক্রান্ত
নতুন
ম্যান্ডেটের
বিষয়টি
এভাবে
এমন
এক
সময়ে
এসেছে,
যখন
মুদ্রানীতির
পানি
এরই
মধ্যে
অনেকটা
ঘোলাটে
হয়েছে
এবং
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের
অর্থবহতা
নিষ্প্রভ
হয়েছে।
এ
ধরনের
প্রশ্নগুলোর
ব্যাপারে
বৃহত্তর
স্বচ্ছতা-স্পষ্টতা
প্রতিষ্ঠাই
মুদ্রানীতি
বিষয়ে
যুক্তরাজ্যের
হাউজ
অব
লর্ডসের
ইকোনমিক
অ্যাফেয়ার্স
কমিটির
সাম্প্রতিক
তদন্তের
অন্যতম
প্রধান
উদ্দেশ্য।
আলোচ্য
কমিটির
প্রতিবেদন
কোয়ান্টিটেটিভ ইজিং:
অ্যা ডেনজেরাস এডিকশন?-এ খুব
সুন্দরভাবে
সবিস্তারে
ব্যাংক
অব
ইংল্যান্ডের
এখতিয়ারের
সংহতিতে
ধারাবাহিক
অধঃপতনের
বিষয়টি
তুলে
ধরা
হয়েছে।
এতে
স্বীকার
করা
হয়েছে
জলবায়ু
পরিবর্তনের
বিপর্যয়
প্রতিরোধ
করা
সরকারি
নীতির
কেন্দ্রীয়
প্রাধিকার
হওয়া
উচিত।
এখন
কথা
হলো,
রাজনীতি
থেকে
প্রাপ্ত
স্বাধীনতার
বিশ্বাসযোগ্যতার
অবমূল্যায়ন
ছাড়া
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক
রাজনৈতিক
বিষয়-আশয়ে
কতটা
সম্পৃক্ত
হতে
পারবে।
কমিটির
প্রতিবেদনে
সুন্দরভাবে,
সাবধানে
উপসংহার
টানা
হয়েছে
যে
অর্থমন্ত্রীর
বিওইর
ম্যান্ডেট
সম্প্রসারণের
পদক্ষেপের
কারণে
‘কেন্দ্রীয় ব্যাংককে
রাজনৈতিক
ক্ষেত্রে
ঝুঁকিতে
পড়তে
হচ্ছে।’
তবে
গুরুত্বপূর্ণ
প্রশ্ন
এই
নয়
যে
বিওইর
সম্প্রসারিত
ম্যান্ডেট
প্রতিষ্ঠানটির
মূল্যস্ফীতি
প্রতিরোধমূলক
কৃতিত্ব
কতটা
অবমূল্যায়ন
করবে,
বরং
এটি
যে
তা
সরকার
ও
অর্থনৈতিক
নীতি
পরিচালনায়
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের
মধ্যকার
দায়িত্ব
কতটা
অস্পষ্ট
করবে।
বিদ্যমান
ব্যবস্থায়
মনে
করা
হয়
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকারদের
অর্থের
পরিমাণ
নিয়ন্ত্রণ
করা
উচিত,
যদিও
বাজেটের
মাধ্যমে
অর্থের
(বা পুঁজির)
বণ্টন
গণতান্ত্রিকভাবে
নির্বাচিত
সরকারগুলোর
হাতে
থেকে
যায়,
যাবে।
কিন্তু
‘সবুজায়ন’ সম্ভাবনার
ভিত্তিতে
সংশ্লিষ্ট
প্রতিষ্ঠান
কিংবা
খাতগুলোয়
অর্থ
বণ্টনে
(উদাহরণস্বরূপ তেল
কোম্পানি
ছাড়া
জলবিদ্যুৎ
উৎপাদনকারী
কোম্পানিগুলোর
ডেট
ইনস্ট্রুমেন্ট
কেনার
মাধ্যমে)
কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের
সম্পৃক্ততা
তাদের
রাজনৈতিক
সিদ্ধান্ত
তৈরিতে
বাধ্য
করবে,
যা
প্রধানত
সরকারেরই
কাজ।
কর
ব্যবস্থার
মাধ্যমে
অবশ্যই
এজন্য
সরকারের
জবাবদিহি
থাকা
উচিত।
এ
অবস্থায়
আইনগতভাবে
অ-জবাবদিহিমূলক
কোনো
সংস্থার
(নন-অ্যাকাউন্টেবল
বডি)
কাছে
পুঁজি
বণ্টনের
কাজ
ন্যস্ত
করার
ক্ষেত্রে
কিইউ
হাতিয়ার
ব্যবহারে
যুক্তরাজ্য
সরকারের
সাম্প্রতিক
তত্পরতা
এভাবে
একটি
স্বাস্থ্যবান,
টেকসই
অর্থনীতি
নিশ্চিতে
তার
দায়িত্ব
এড়ানোর
আরেক
ধাপ
বৈকি।
[স্বত্ব
:
প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
]
রবার্ট স্কিডেলস্কি: ব্রিটিশ
হাউজ
অব
লর্ডসের
সদস্য,
ওয়্যারউইক
বিশ্ববিদ্যালয়ের
রাজনৈতিক
অর্থনীতির
ইমেরিটাস
অধ্যাপক
ভাষান্তর: হুমায়ুন কবির










