সম্পদের হিসাবে বর্তমান বিশ্বের বড় পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে চারটিই চীনের এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন। এ চারটি ব্যাংক হলো চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক করপোরেশন, ব্যাংক অব চায়না, এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না। চীনের ব্যাংক খাতের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৪৯ লাখ কোটি (৪৯ ট্রিলিয়ন) মার্কিন ডলার, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক খাতের মোট সম্পদ ২০ লাখ কোটি মার্কিন ডলার এবং ইউরোজোনের (যেসব দেশের মুদ্রা ইউরো) ২৩ দশমিক ৪৬ লাখ কোটি মার্কিন ডলার। এ পরিসংখ্যান দেখলে যে কারোরই বিস্মিত হওয়ার কথা, কারণ চীনের চারটি ব্যাংকই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এবং উন্নয়নশীল দেশে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নসাপেক্ষ। দুই. ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে চীনের মোট দেশজ উৎপাদনের পরিমাণ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হলেও মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে চীন এখনো একটা উন্নয়নশীল দেশ। চীনের ব্যাংক খাতের এ উত্থান বিস্ময়কর বটে।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চীন ঈর্ষণীয় জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়েছে। প্রবৃদ্ধির এই অভাবনীয় হার দেশটিকে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছে। চীনের এ অর্জনের অন্যতম নিয়ামক হলো দেশটির আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা। একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থবিরতা বা সংকটের প্রধান উৎস তার আর্থিক খাত। আর্থিক খাতের বুনিয়াদ ভালো হলে অর্থনৈতিক সংকট বা স্থবিরতার শঙ্কা অনেক কমে যায়। চীনের আর্থিক খাত মূলত ব্যাংকনির্ভর, যদিও দেশটিতে দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ড মার্কেট বর্তমানে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু বন্ড মার্কেটের বেশির ভাগ ইস্যুই হচ্ছে ট্রেজারি (সরকারি) বন্ড। চীনের মোট আর্থিক সম্পদের অর্ধেকরও বেশি (৫৩ শতাংশ) ব্যাংক খাতের অবদান। করপোরেট ঋণের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করে ব্যাংক—রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক।
চীনের ব্যাংক খাতকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসার জন্য ধাপে ধাপে গ্রহণ করতে হয়েছে অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের বৈপ্লবিক সংস্কার, যার শুরু ১৯৭৮ সালে। ১৯৭৮ সালের শেষে চীনে শুধু একটি ব্যাংক ছিল—পিপলস ব্যাংক অব চায়না; যা দুটি সহায়ক সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত ব্যাংক অব চায়না ও পিপলস কনস্ট্রাকশন ব্যাংক অব চায়না। তাই ১৯৭৮-পূর্ব চীনের আর্থিক ব্যবস্থা সোভিয়েত আদলে একক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গঠিত হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে আর্থিক সংস্কারের মাধ্যমে একক ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয় এবং ১৯৮৪ সালের মধ্যে চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় (উল্লিখিত)। এ সংস্কার আর্থিক বাজার উন্মুক্ত করে এবং অবশেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকিং বিকাশের পথ প্রশস্ত করে। তবে ব্যাংকগুলো সম্পূর্ণরূপে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন থাকায় তাদের ঋণের সমুদয় অংশই চলে যেত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে, যেগুলো ছিল লোকসানি প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকগুলোর মুনাফা ও বাণিজ্যিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত ছিল, কারণ ব্যাংকের মুনাফা বা বাণিজ্যিক সক্ষমতা সরকারের কাছে মুখ্য ছিল না। পর্যবেক্ষণের অভাব ও নৈতিক স্খলনের ঝুঁকি ছিল ব্যাংকগুলোয়। এ কারণেই বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছিল অনেক গুণে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ, যদিও সে সময় চীনের নীতিনির্ধারকরা খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৫ শতাংশ স্বীকার করেছিলেন।
খেলাপি ঋণ থেকে উত্তরণের কৌশল নির্ধারণই ছিল ব্যাংকিং সেক্টরের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ১৯৮৪ সালে পিপলস ব্যাংক অব চায়নাকে সংস্কার করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব কাজ, যেমন দেশের মুদ্রানীতি দেখাশোনা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধান এবং ব্যাংক নোট ইস্যু করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পাওয়ার পর পিপলস ব্যাংক অব চায়না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। যেমন ১৯৮৬ সালে ‘ব্যাংক অব কমিউনিকেশন’ প্রতিষ্ঠা করেছিল, যা জয়েন্ট স্টক বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ ছিল না। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাংকিং সেবায় চীনা ব্যাংকগুলোর অংশ ছিল একেবারেই নগণ্য। প্রতিযোগিতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে ব্যাংক পরিচালনায় দক্ষতার যথেষ্ট কমতি ছিল। ফলে খেলাপি ঋণ থেকে উত্তরণের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। শেষমেশ খেলাপি ঋণের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকার ১৯৯৪ সালে তিনটি পলিসি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আংশিক হস্তান্তর করা হয়।
বড় ধরনের সংস্কার আসে ১৯৯৫ সালে, যখন বাণিজ্যিক ব্যাংক আইন প্রণয়ন করা হয়। যেখানে ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদানে আরো বিচক্ষণ হওয়া, ঋণ আবেদনের বাজারভিত্তিক মূল্যায়ন, ঋণগ্রহীতাদের ঋণযোগ্যতা মূল্যায়ন, ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর জোর দেয়া হয়। ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার মধ্যে সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক করার জন্য আইনটি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে একটি ঋণ চুক্তি শুরু করতে বাধ্য করে; যাতে ঋণের ধরন, পরিমাণ, উদ্দেশ্য, বার্ষিক সুদের হার, পরিশোধের সময়সূচি এবং ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে উভয় পক্ষের দায়সহ ঋণ চুক্তির বিবরণ উল্লেখ করে। সম্পদের গুণমান আরো ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ঋণ শ্রেণীবিন্যাস মানদণ্ড গৃহীত হয়।
২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেয়ার পর বিশ্বের আর্থিক বাজারে চীনের প্রবেশের পথ সুগম হয়। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি শুধু ব্যাংকগুলোর জন্যই অধিকতর আর্থিক লেনদেনের সুযোগ সৃষ্টি করেনি, বরং ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানেরও তাগিদ দেয়। এ সংস্কার নিঃসন্দেহে চীনের ব্যাংকিং ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের পথ সুগম করে, যদিও খেলাপি ঋণের পরিমাণ তখনো ছিল আশঙ্কাজনক। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ব্যাংকগুলোকে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করে শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে বেসরকারি মালিকানা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। তার আগে চাই খেলাপি ঋণের ভারমুক্তি। এই নিমিত্তে সরকারি মালিকানায় বড় আকারের চারটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠন করা হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের অকার্যকর ঋণের সিংহভাগ এ সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিতে স্থানান্তর করে উদ্বৃত্ত পত্রকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে আসে। ২০০৬ সালে ব্যাংকগুলোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের নির্দেশিকা প্রণয়ন করে, যা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্যাংকের তালিকাভুক্তিতে সহায়তা করে। ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে চীনের বড় চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হংকং ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়ে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ইস্যু করে। ২০১০ সালে এগ্রিকালচার ব্যাংক অব চায়না আইপিওর মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে, যা ছিল সেই সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম আইপিও।
উপরে বর্ণিত সংস্কার ব্যাংকের কাঠামোগত মানোন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। ব্যাংকের অকার্যকর ঋণের অনুপাত ১ শতাংশে নেমে আসে এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত এ অনুপাত ২ শতাংশের নিচেই অবস্থান করে, যা চীনা ব্যাংকের জন্য ছিল অভাবনীয়। অন্যদিকে ব্যাসেল কমিটির নির্ধারিত ন্যূনতম ৮ শতাংশ মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাতের বিপরীতে চীনের ব্যাংকগুলোর রয়েছে ১১-১২ শতাংশ, যা তাদের অধিকতর স্থিতিশীলতা নির্দেশ করে। একইভাবে তারল্য অনুপাত, যা স্বল্পমেয়াদি সচ্ছলতা নির্দেশ করে, বছরজুড়ে ৫০ শতাংশের ওপরে রয়েছে। ব্যাংক খাতের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করে চীন ২০২০ সাল থেকে সম্পূর্ণ বিদেশী মালিকানায় চীনের অভ্যন্তরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়, যা ছিল এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
চীনের ব্যাংক খাতের সংস্কারে উন্নয়নশীল দেশের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিকনির্দেশনা।
এক. ‘ব্যাংকের বাণিজ্যিক সক্ষমতা সবসময় কাম্য’—এমনতর নীতির উল্টো পথে হেঁটেছিল চীন। সংস্কারের একদম শুরুর দিকে ব্যাংকের বাণিজ্যিক সক্ষমতার চেয়ে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে শিল্পোন্নয়নই ছিল প্রধান নিশানা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ঋণের প্রবাহ অবাধ রেখেছিল দেশটি। পৃথিবীর অন্যান্য অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের মতো চীনে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের লোকসানের প্রধান কারণ হিসেবে অদক্ষ ব্যবস্থাপনা এককভাবে দায়ী ছিল না; বরং সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার ধারক হিসেবে চীন পণ্য ও সেবার দাম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সম্পদের পুনর্বণ্টন বহাল রেখেছিল। সেই লক্ষ্যে চীন অবশ্যই সফল হয়েছে। ধনী-গরিবের বৈষম্য চীনে অনেকটাই সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে।
দুই. বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পদের সুষম বণ্টনে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। চীন দেখিয়েছে যে রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার প্রধান কারণ রাষ্ট্রের মালিকানা নয়, বরং সঠিক নজরদারি ও পর্যাপ্ত জবাবদিহিতা। রাজনীতিতে একক পার্টির সুবিধা নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়নার নীতিনির্ধারকের আর্থিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার শীর্ষ স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছিল। শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সফল হলে পার্টিতে তার উত্থান ছিল সহজতর আবার পার্টিতে সফল কর্মীদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে উত্তরণের পথ ছিল সুগম। যারা কোথাও সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি, তাদের জায়গা হয়নি কোনো শীর্ষ পদে। এভাবেই চীন যোগ্যকে মূল্যায়ন করেছে এবং অযোগ্যকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।
তিন. অর্থনীতির সংস্কারে তাড়াহুড়া করেনি চীন মোটেও, যেটা দেখা গেছে অন্য অনেক উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকের দিকে বিশ্বায়নের স্রোতে গা ভাসিয়েছে অনেক দেশ, যদিও বিশ্বায়নকে মোকাবেলা করার পর্যাপ্ত অবকাঠামো তাদের ছিল না। তাই মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশীয় শিল্প-কারখানা। অন্যদিকে বহির্বিশ্বের জন্য চীনের আর্থিক ও বাণিজ্যের দুয়ার বন্ধ ছিল ১৯৭৮-পরবর্তী অনেকটা সময়। এ সময়ের মধ্যে দেশীয় শিল্পের প্রসারই ছিল চীনা অর্থনীতির মূল ভাবনা। রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকেই ছিল প্রতিযোগিতার অভাব। কারণ প্রতিটি ব্যাংকের কাজের ধরন ছিল ভিন্ন, যাতে একটি ব্যাংক অন্যটির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত না হয়। ব্যাংকগুলো যখন ধীরে ধীরে পরিণত হলো, প্রথমে অভ্যন্তরীণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিযোগিতার পথ তৈরি হলো। এ প্রতিযোগিতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই কেবল বিদেশী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য চীনের দরজা খোলা হলো। এতে দেশীয় খাত নিজেদের তৈরি করার সময় পেয়েছে পর্যাপ্ত।
চার. গত শতাব্দীর শেষ সিকি ভাগে অনেক দেশই ব্যাংক ব্যবস্থার পাশাপাশি একটা শক্ত পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছিল। তাই তো এসব দেশের পুঁজিবাজার দফায় দফায় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু অর্থপ্রবাহ স্থিতিশীল রাখার নিমিত্তে চীন শুধু ব্যাংক ব্যবস্থার ওপরই আস্থা রেখেছিল শুরুর দিকে। এখানেই চীনের সঙ্গে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তফাত। মাত্র ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে চীনে প্রথম পুঁজিবাজার চালু হয়, বলতে গেলে অনেক অনুন্নয়নশীল দেশেরও অনেক পরে। তাতে চীনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে তহবিলের কোনো সংকট তৈরি হয়নি। কারণ ব্যাংক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থার অভাব হয়নি, তাই সঞ্চয়ের প্রবাহ সবসময় বিরাজমান ছিল।
পাঁচ. উন্নয়নের শুরুর দিকে চীনা ব্যাংকের অকার্যকর ঋণের পরিমাণ ছিল পাহাড়সম। কিন্তু তাতে ভেঙে পড়েনি চীনের আর্থিক খাত। অন্যান্য দেশের মতো চীনের ব্যাংকগুলোয় মূলধনের জোগান দেয়া হয়েছে কয়েক দফায়। কিন্তু তা একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে। যেমন অকার্যকর ঋণ সম্পূর্ণ অবলোপন না করে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাতে ব্যাংকগুলোর ওপর ভবিষ্যতে ভালো করার একটা চাপ সবসময়ই ছিল। সে সুযোগে ধীরে ধীরে ব্যাংকগুলোকে তৈরি করা হয়েছে যেন পুঁজিবাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহ করতে পারে। পুঁজিবাজারের নিয়মকানুন ব্যাংকে সুশাসনের পথ তৈরি করেছে ক্রমান্বয়ে। ফলে বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষ পাঁচটি ব্যাংকের চারটিই চীনা।
ড.
মোহাম্মাদ দুলাল
মিয়া: সহযোগী অধ্যাপক, নিজওয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ওমান
ড. এম কবির হাসান: অধ্যাপক, নিউ অরলিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র; ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট প্রাইজ ইন ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স-২০১৬ বিজয়ী










