গত
৪ জুন
রাতে চট্টগ্রামের
সীতাকুণ্ডের বিএম
কনটেইনার ডিপোয়
এক ভয়াবহ
অগ্নিকাণ্ড ও
বিস্ফোরণের ঘটনা
ঘটেছে। এটি
জনআলোচনার অন্যতম
বিষয় এখন।
বিভিন্ন সূত্র
থেকে জানা
গেছে এ
দুর্ঘটনায় ৪৯
জন মারা
গেছে এবং
বিভিন্নভাবে আহত
হয়েছে চার
শতাধিক মানুষ।
আমদানি-রফতানি
পণ্য ব্যবস্থাপনার
জন্য ২৪
বছর আগে
চট্টগ্রামে কনটেইনার
ডিপো শিল্পের
যাত্রা। এর
আগে ছোটখাটো
অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও
এবারই প্রথম
কোনো কনটেইনার
ডিপোতে বড়
ধরনের অগ্নিকাণ্ডের
ঘটনা।
প্রাথমিকভাবে এ
ঘটনার কারণ
হিসেবে হাইড্রোজেন
পারঅক্সাইডকে চিহ্নিত
করা হচ্ছে।
মূলত বস্ত্র,
চামড়া, এভিয়েশন
প্রভৃতি শিল্পে
এর ব্যবহার
বেশি। এছাড়া
বাথরুম পরিষ্কার,
কাপড় ধোয়া
এবং কিছুটা
জীবাণুনাশক হিসেবে
ব্যবহার করা
হয়। শিল্পে
এর বহুল
ব্যবহার থাকায়
দেশে অল্প
পরিমাণ হাইড্রোজেন
পারঅক্সাইড উৎপাদন
হয়। চাহিদা
মেটাতে বেশির
ভাগই আমদানি
করা হয়।
বাজারে হাইড্রোজেন
পারঅক্সাইড যা
পাওয়া যায়,
বেশির ভাগ
ক্ষেত্রে তার
ঘনত্ব ৩০-৩৫
শতাংশের বেশি
থাকে না।
কিন্তু ঘনত্ব
৬০-৬৫
শতাংশ হলে
রাসায়নিকটি বিস্ফোরক
হতে পারে।
যেকোনো আগুন
ধরতে দাহ্য
বস্তু বা
জ্বালানি, অক্সিজেন
ও তাপ
লাগে। সরাসরি
বেশি ঘনত্বের
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
ব্যবহার বিপজ্জনক।
তাই নিরাপত্তাজনিত
কারণে সবসময়
এর জলীয়
দ্রবণ পরিমিত
পরিমাণে ব্যবহার
করা হয়।
বেশি ঘনত্বের
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
উচ্চতাপে ভেঙে
পানি ও
অক্সিজেন তৈরি
করে। সবাই
জানি, অক্সিজেন
আগুন জ্বলায়
সাহায্য করে।
কাজেই নিজে
দাহ্য না
হলেও আগুন
বা দাহ্য
পদার্থের সংস্পর্শে
এলে সেখানকার
অক্সিজেন প্রচণ্ড
দহন প্রক্রিয়া
শুরু করে,
যা মুহূর্তে
বিস্ফোরণে রূপ
নেয়। টেলিভিশনের
সংবাদে ৬০
শতাংশ ঘনত্বের
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
ভর্তি কনটেইনার
দেখা যায়।
সুতরাং বিস্ফোরণের
পেছনে এ
রাসায়নিক যৌগকে
যে দায়ী
করা হচ্ছে
তা মোটেই
অমূলক নয়।
সীতাকুণ্ডের ঘটনায়
সার্বিকভাবে নিরাপত্তা
ও নিয়ম
পরিপালনে ঘাটতির
বিষয়টি আবারো
সামনে এনেছে।
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
সংরক্ষণ, ব্যবহার
ও বাণিজ্যে
বৈশ্বিক নিয়ম
এবং ম্যাটারিয়াল
সেফটি ডাটা
শিট (এমএসডিএস)
অনুসরণ করতে
হয়। তাপমাত্রা,
চাপ, সূর্যের
আলো এবং
এক কনটেইনার
থেকে অন্য
কনটেইনারে নিরাপদ
দূরত্বে হাইড্রোজেন
পারঅক্সাইড সংরক্ষণ
করতে হয়।
বিস্ফোরণ ও
অগ্নিকাণ্ডের অবস্থাদৃষ্টে
মনে হয়েছে,
সংঘটনস্থলে এসবের
ঘাটতি ছিল।
অন্য কোনো
রাসায়নিকের উপস্থিতি
ছিল কিনা,
তাও খুঁজে
দেখা দরকার।
একটি রাসায়নিক
ডিপোতে বহু
ধরনের রাসায়নিক
পদার্থ থাকতে
পারে। এর
সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা
না থাকলে
বিপদ আসতেই
পারে। এ
দুর্ঘটনা বলে
দিচ্ছে রাসায়নিক
গুদাম যথাযথ
নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতা
বাড়াতে ও
পরিচালন পর্যায়ে
কর্মীদের সঠিক
প্রশিক্ষণ সম্পর্কে
সংশ্লিষ্টরা সচেতন
ছিলেন মনে
হয় না।
রাসায়নিক থেকে
শুরু করে
যেকোনো পণ্য
আমদানির ক্ষেত্রে
এলসি খুলতে
হয়। এলসি
খোলার সময়
কিছু নিয়মনীতি
আছে, যেগুলো
মেনে চলতে
হয়। এলসিতে
কোথা থেকে
পণ্য আনা
হবে, অর্থমূল্য
কত, কতটুকু
পরিমাণ আনবে,
কোথায়-কীভাবে
রাখবে ঘোষণা
দিতে হয়।
এর মধ্য
দিয়ে সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষ জানে
কোন পণ্য
কারা আমদানি
করছে, কোথায়
রাখা হচ্ছে।
কিন্তু হাইড্রোজেন
পারঅক্সাইড আমদানি
বা রাখার
ক্ষেত্রে মনে
হচ্ছে নিয়মনীতি
যথাযথভাবে পরিপালন
করা হয়নি।
এ রাসায়নিক
যৌগের ক্ষেত্রে
তাপমাত্রা ও
ঘনত্ব খুব
গুরুত্বপূর্ণ। এ
পদার্থ খুব
নিরাপদে কাচের
পাত্রে, স্টেইনলেস
স্টিল ও
অ্যালুমিনিয়াম কনটেইনারে
এবং খোলামেলা
পরিবেশে রাখতে
হয়। আমরা
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন
সূত্রে জেনেছি
হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
গাদাগাদি করে
প্লাস্টিকের পাত্রে
রাখা হয়েছে।
অনেকটা বদ্ধ
পরিবেশে সেগুলো
রাখা হয়েছে।
বলা চলে,
সংরক্ষণের সাধারণ
নিয়মগুলোও মেনে
চলা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সংস্থার
পরিদর্শনে তা
ধরা পড়ার
কথা। তার
মানে সেখানে
তদারকি পর্যায়ে
যে গাফিলতি
ছিল, সেটি
বোঝা যাচ্ছে।
দাহ্য রাসায়নিকে
অগ্নিকাণ্ড ও
বিস্ফোরণের ঘটনা
দেশে নতুন
নয়। গত
বছর আরমানিটোলায়ও
এ ধরনের
এক ঘটনা
ঘটে। এর
আগে ২০১৯
সালের ২০
ফেব্রুয়ারি রাতে
পুরান ঢাকার
চকবাজারের চুড়িহাট্টায়
ভয়াবহ বিস্ফোরণ
ও অগ্নিকাণ্ডে
প্রাণ হারান
৭১ জন।
ভবিষ্যতে যেন
এ ধরনের
আগুনের ঘটনা
আর না
ঘটে, সেজন্য
৩১ দফা
সুপারিশ করে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
গঠিত তদন্ত
কমিটি। যার
মধ্যে উল্লেখযোগ্য
হলো, জরুরি
ভিত্তিতে আবাসিক
এলাকা থেকে
বিপজ্জনক গুদাম
বা কারখানা
সরিয়ে নেয়া;
অবৈধ, অননুমোদিত
বা লাইসেন্সবিহীন
রাসায়নিক কারখানা
ও গোডাউন
ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে
প্রচলিত আইন
অনুযায়ী সমন্বিত
অভিযান পরিচালনা;
অগ্নিপ্রতিরোধ ও
নির্বাপণ আইন-২০০৩
ও ন্যাশনাল
বিল্ডিং কোড
অনুযায়ী ভবন
নির্মাণ নিশ্চিত
করা; একই
কক্ষে বিভিন্ন
ধরনের রাসায়নিক
মজুদ না
রাখা; রাসায়নিক
ট্রেড লাইসেন্স
নবায়নের সময়
ফায়ার সার্ভিসের
অনাপত্তি নেয়া;
নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা
নিশ্চিত করা;
ব্যর্থতায় ব্যবসার
লাইসেন্স বাতিল
করা ইত্যাদি।
মর্মান্তিক বিষয়
হলো, ঠিক
এ রকমই
কিছু সুপারিশ
করা হয়েছিল
চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের
নয় বছর
আগে, ২০১০
সালের ৩
জুন পুরান
ঢাকার নিমতলীতে
কেমিক্যাল গোডাউনে
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে
১২৩ জনের
প্রাণহানির পর।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরই
তদন্ত কমিটি
সে সময়
অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে
একই ধরনের
১৭ দফা
সুপারিশ করে।
ওই দুই
অগ্নিকাণ্ড-পরবর্তী
তদন্ত কমিটির
সুপারিশ মিলিয়ে
দেখলে বোঝা
যায়, নয়
বছরেও সুপারিশমালা
বাস্তবায়ন হয়নি
বলেই সুপারিশগুলো
তাদের আবার
করতে হয়েছে।
নিমতলীর সুপারিশগুলো
বাস্তবায়ন হলে
চুড়িহাট্টায় এত
মানুষকে প্রাণ
হারাতে হতো
না। একইভাবে
নিমতলী ও
চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ড
থেকে শিক্ষা
নিয়ে কলকারখানা,
গুদাম, কনটেইনার
ডিপো ইত্যাদি
স্থানে রাসায়নিক
দ্রব্যের মজুদ,
বাজারজাত এবং
আমদানি-রফতানি
ক্ষেত্রে তদারকি
প্রক্রিয়া জোরদার
করা হলে,
রাসায়নিক ও
দাহ্যবস্তু মজুদ,
অনুমোদন, লাইসেন্সিং
ইত্যাদি ক্ষেত্রে
অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা
ও ফায়ার
সেফটি প্ল্যান
নিশ্চিত করা
হলে আজ
সীতাকুণ্ডের রাসায়নিক
বিস্ফোরণটি হয়তো
ঘটত না
বা ঘটলেও
যথাযথ প্রস্তুতি
থাকার কারণে
এত মানুষের
প্রাণহানি হতো
না।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে
জানা যাচ্ছে,
চট্টগ্রাম বন্দরে
আমদানির পর
বিভিন্ন সময়
খালাস না
নেয়া হাইড্রোজেন
পারঅক্সাইডসহ বেশকিছু
রাসায়নিক পড়ে
রয়েছে। শুধু
চট্টগ্রাম বন্দর
নয়, বেনাপোলসহ
বিভিন্ন স্থলবন্দর
ও অভ্যন্তরীণ
কনটেইনার ডিপোতে
এ ধরনের
রাসায়নিকের বিপুল
মজুদ আছে
বলে খবর
মিলছে। এগুলো
যেকোনো মুহূর্তে
ঝুঁকির কারণ
হতে পারে।
এগুলো জরুরি
ভিত্তিতে সঠিক
ব্যবস্থাপনায় অপসারণ
বা খালাস
করা প্রয়োজন।
বিশ্বের বিভিন্ন
দেশে সুস্পষ্ট
আইন ও
নীতিমালা থাকলেও
বাংলাদেশের কনটেইনার
ডিপোগুলোয় রাসায়নিক
রাখার ব্যাপারে
এখন কোনো
আইন বা
নীতিমালা তৈরি
করা হয়নি।
শুধু বন্দর
কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে
এসব রাসায়নিক
ভর্তি কনটেইনার
রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে
ডিপো মালিকদের
সতর্ক করেছে।
যে কারণে
ডিপোতে অন্যান্য
সাধারণ পণ্যের
সঙ্গে রাসায়নিক
ভর্তি কনটেইনার
একসঙ্গে রাখা
হচ্ছে। উন্নত
দেশে রাসায়নিক
পরিবহন করা
গাড়িগুলোয় বিশেষ
চিহ্ন বা
সতর্কতামূলক বার্তা
লেখা থাকে।
আমাদের দেশে
শুধু জ্বালানি
তেল পরিবহনকারী
ট্যাংক-লরি
লাল রঙের
হয় এবং
এর গায়ে
সতর্কতামূলক বার্তা
লেখা থাকে।
এমনকি রাসায়নিক
বহন করা
কনটেইনার বা
গাড়ির চালকরা
বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
হন। আমাদের
দেশে এমন
কোনো নীতিমালা
নেই। রাসায়নিক
বহন করা
কনটেইনার বা
গাড়িগুলো একটি
নির্দিষ্ট রঙের
হবে এবং
এটাতে সতর্কতামূলক
বার্তা লেখা
থাকতে হবে।
যাতে যে
কেউ দেখলেই
বুঝতে পারবে
যে কনটেইনার
বা গাড়িতে
বিপজ্জনক রাসায়নিক
রয়েছে। বৈধ
বা অবৈধ
যে পথেই
রাসায়নিক আসুক
না কেন,
কোথায় মজুদ
করা হচ্ছে,
কারা আনছে,
কীভাবে পরিবহন
করা হচ্ছে,
কী কাজে
ব্যবহার করছে,
সেটা সরকারের
সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে
অবগত হতে
হবে। তবে
চট্টগ্রাম বন্দর
থেকে কেমিক্যাল
খালাসের পর
এর পরিবহন
ব্যবস্থা নিয়ে
সরকার বা
সংশ্লিষ্ট শিল্প
মন্ত্রণালয়কে সতর্ক
হওয়া জরুরি।
কারণ রাসায়নিকগুলো
অনেকটা অনিরাপদ
অবস্থায় পরিবহন
করা হয়।
পরিবহনের একটি
নীতিমালা থাকা
উচিত। রাসায়নিকগুলো
কীভাবে মজুদ
করা হচ্ছে,
সে বিষয়েও
নজরদারি থাকা
জরুরি।
রাসায়নিক মজুদ
কিংবা পরিবহনের
ক্ষেত্রে একটি
বৈশ্বিক চর্চা
হলো এমএসডিএ।
সব দেশে
এটি অনুসরণ
হলেও বাংলাদেশে
এটি যথাযথভাবে
অনুসরণ করা
হয় না।
নিরাপত্তা নিশ্চিতের
জন্য রাসায়নিক
বোঝাই ড্রামগুলোয়
সঠিকভাবে ট্যাগিং
ও মার্কিং
করা, দাহ্য
ও ক্ষয়কারক
হলে সে-বিষয়ক
সাংকেতিক চিহ্ন
দেয়ার পাশাপাশি
রাসায়নিকে ভর্তি
ড্রামগুলো ডিপোতে
স্থানান্তরের সময়
প্রতিটি রাসায়নিকের
এমএসডিএস ডিপোগুলোকে
বাধ্যতামূলকভাবে হস্তান্তর
করতে হবে।
কেননা এমএসডিএসে
প্রতিটি রাসায়নিকের
বিস্তারিত তথ্য
থাকে। যে
ডিপো এ
রকম ঝুঁকিপূর্ণ,
দাহ্য, দুর্ঘটনাপ্রবণ
ও ক্ষয়কারক
রাসায়নিক ও
অন্যান্য দ্রব্য
সংরক্ষণ বা
কনটেইনার বোঝাই
করে, তাদের
উচিত সেগুলোর
জন্য পৃথক
হ্যাজকম জোন
(ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের
আলাদা এলাকা)
তৈরি করা।
সেখানে সর্বোচ্চ
অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা
নিশ্চিত করতে
হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকে
আগুন যেন
না লাগে,
সেজন্য ডিপো
ও কারখানাগুলোয়
প্রতিরোধযোগ্য অগ্নিনিরাপত্তামূলক
ব্যবস্থা নিতে
হবে। প্রতিটি
ডিপোর নিজস্ব
অগ্নিনিরাপত্তা দল
থাকতে হবে।
যেকোনো পরিস্থিতিতে
আগুন লাগার
সঙ্গে সঙ্গে
সেটি নেভানোর
জন্য নিজস্ব
অগ্নিনিরাপত্তা দলকে
নিয়মিত পর্যাপ্ত
প্রশিক্ষণ দিতে
হবে। ফায়ার
সার্ভিসকে প্রথমেই
রাসায়নিকের এমএসডিএস
দিতে হবে।
যাতে অগ্নিনির্বাপণকারীরা
সতর্কভাবে এবং
সঠিক এক্সটিংগুইশার
ও রাসায়নিক
ব্যবহার করে
আগুন নেভাতে
পারেন। বাংলাদেশের
শিল্প খাতে
যেসব কেমিক্যাল
ব্যবহূত হয়
সেগুলোর ব্যবস্থাপনার
মূল দায়িত্ব
বিস্ফোরক অধিদপ্তরের।
যদিও বিস্ফোরক
অধিদপ্তর বলছে,
তারা যেসব
প্রতিষ্ঠানকে আমদানির
জন্য লাইসেন্স
দেয়, তাদের
একটি গাইডলাইন
দেয়া হয়
এবং কখনো
কখনো বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষণাগারগুলো
তারা পরিদর্শনও
করে। তবে
কোন ধরনের
রাসায়নিক দ্রব্য
কীভাবে হ্যান্ডেল
করতে হবে
কিংবা কোথায়
কীভাবে সংরক্ষণ
করতে হবে
সে-সম্পর্কিত
সুনির্দিষ্ট কোনো
বিধিবিধান না
থাকায় প্রায়ই
ছোট বড়
দুর্ঘটনা ঘটছে।
সীতাকুণ্ড ট্র্যাজেডি
আমাদের জন্য
ওয়েক আপ
কল। কারখানা
হোক, ডিপো
হোক, বিপজ্জনক
রাসায়নিক পদার্থ
নিয়ে যারা
কাজ করে,
তাদের উচিত
সেগুলোর ব্যাপারে
ব্যাপকভাবে জনসংযোগ
করা। ফায়ার
সার্ভিস, বিস্ফোরক
পরিদপ্তরসহ তদারকি
সংস্থাগুলোকে অংশীদারিত্ব
ও সহযোগিতা
বাড়াতে হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকেও
আরো সক্রিয়
হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন
দেশে টক্সিক
সাবস্ট্যান্স কন্ট্রোল
অ্যাক্ট আছে।
এমএসডিএস কোড
অনুসরণপূর্বক আমাদেরও
এ ধরনের
আইন করতে
হবে। একটি
সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া
থাকা দরকার,
যাতে প্রতিটি
কেমিক্যাল যথাযথভাবে
সংরক্ষণ ও
ব্যবহার নিশ্চিত
করা যায়।
প্রতিটি রাসায়নিক
পরিবহন, মজুদ
ও ব্যবহারের
জন্য সুনির্দিষ্ট
বিধিবিধান করতে
হবে এবং
কঠোরভাবে সেগুলোর
পরিপালন নিশ্চিত
করতে হবে।
শুধু সরকার
নয়, নাগরিক
সমাজ, নিয়োগদাতা,
শ্রমিক প্রতিনিধি,
গণমাধ্যমসহ সবাইকে
সম্মিলিতভাবে এ
ব্যাপারে সোচ্চার
ভূমিকা রাখতে
হবে।
ড. মো. নুরুল
আমিন:
অধ্যাপক, ফলিত
রসায়ন
ও কেমিকৌশল বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়










