কোনো দাপ্তরিক কাজে স্থায়ী ঠিকানা লেখা বা ব্যক্তিগত পরিচিতি আদান-প্রদানের এক পর্যায়ে আপনার ‘গ্রামের বাড়ি কোথায়?’, ‘দেশের বাড়ি কোথায়?’—এ ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা। এ পরিচয় আদান-প্রদানের মাঝে দুজনের গ্রামের বাড়ি মিলে গেলে অপরিচিত ব্যক্তিও কোনো না কোনোভাবে তার সঙ্গে অতীত খুঁজতে থাকেন, কাল্পনিক বা বাস্তবিক আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন—ক্ষেত্রবিশেষে শুরু হয়ে যায় গ্রাম বা গ্রামের অতীতকে ঘিরে নস্টালজিক স্মৃতিচারণ। মানুষ যতই শহুরে জীবনে অভ্যস্ত হোক না কেন, এ ধরনের অভিজ্ঞতায় মানুষ তার শিকড় খুঁজতে গ্রামকেই অনুসন্ধান করে। তবে গ্রাম নিয়ে মানুষের নানা ধরনের অর্থবোধও বিদ্যমান। প্রায় ১৪ বছর আগের একটি ঘটনা বলা যেতে পারে। নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের প্রথম ক্লাস। প্রথম ক্লাসে সাধারণত থাকে পরিচিতি পর্ব। শিক্ষার্থীরা কেউ কাউকে চেনেন না, শিক্ষকের সঙ্গেও কোনো শিক্ষার্থীর তেমন কোনো পরিচয় থাকে না। আমি কোর্স শিক্ষক হিসেবে নিজের পরিচয়, ‘গ্রামের বাড়ি’ এসব দিয়ে শুরু করলাম। শিক্ষার্থীরাও একজন করে বলতে থাকলেন। তবে একজন শিক্ষার্থী নাম বলার পর ইংরেজিতে বললেন, ‘আই নেভার বিন অ্যাট ভিলেজ, মাই এনসেস্টর নেভার বিন অ্যাট ভিলেজ, বর্ন অ্যান্ড ব্রট আপ অ্যাট ঢাকা। আই অ্যাম ফ্রম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল।’ তাত্ক্ষণিকভাবে তার কথায় একটু হোঁচট খেলেও বক্তব্যটি আমার চিন্তার খোরাক জুগিয়েছিল। কোর্সটি ছিল অন্য সংস্কৃতি। কোর্সের কনটেন্ট হিসেবে বিষয়টি ভাবতে শুরু করলাম। শহরের মানুষের কাছে গ্রামের ধারণা কী বা গ্রামকে কীভাবে আমরা কল্পনা করি কিংবা গ্রামের একাডেমিক সংজ্ঞাই বা কী? সাহিত্য বা সমাজবিজ্ঞানের চিরায়ত সংজ্ঞায়ন গ্রামের বর্তমান চরিত্রকে কীভাবে উপস্থাপন করে বা শহুরে মানুষের আবেগ অনুভূতি, কল্পনা, সাহিত্য, কাব্য কিংবা একজন শহুরে গবেষকের গ্রাম সংজ্ঞায়ন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর গ্রামবিষয়ক ভাবনাকে কতটা প্রতিফলিত করে?
সত্যিকার অর্থে গ্রাম শব্দটি শুনলেই মানসপটে এরূপ ধারণা তৈরি হয় যে সবুজ প্রান্তর, দিগন্তজোড়া জমিতে ধান চাষ, নদী বা পুকুরে মাছ চাষ, স্বল্পশিক্ষিত মানুষ, কৃষিকাজে ব্যস্ত মানুষ, নীরব রাস্তায় হাতেগোনা কিছু পথিক কিন্তু হাটবাজারকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম। বিষয়গুলো শুধু কল্পনা নয়, সাহিত্যে, কবিতায়, গল্পের ‘সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যমলা’, ‘গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছের’ বয়ান বা সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণায় গ্রামের সংজ্ঞায়নে গ্রামকে একভাবে কৃষিভিত্তিক সমাজ হিসেবেই উপস্থাপন করে। গ্রামের পরিবর্তন বোঝাটা জরুরি, যেখানে ধান থাকলেও রাইস মিল, বয়েল মিল, সরকারি-বেসরকারি গুদামের বহুল উপস্থিতিতে ‘গোলা’র দেখা পাওয়া খুব কঠিন। অনেক সময় দিগন্তজোড়া সবুজ প্রান্তরের মাঝে উঁচু দালান বা ইটভাটায় দৃষ্টি সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। সহজেই বোঝা যায়, গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি ও শিল্প পাশাপাশি অবস্থান করতে শুরু করেছে।
সমাজ গবেষণায় ভারতবর্ষে ‘গ্রাম’ সংজ্ঞায়নেরও ইতিহাস সুদীর্ঘ, যার ব্যাপকতা লাভ করে ঔপনিবেশিক শাসনামলে। ব্রিটিশ শাসকদের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য গ্রামের মানুষ সম্পর্কে জানা খুবই প্রয়োজনীয় ছিল। শুরুর দিকে ‘বর্ণ’ ও ‘ট্রাইব’ মানুষজন এবং ভূমি মালিকানার পরিসাংখ্যানিক তথ্য জানার আগ্রহ থাকলেও পরবর্তীকালে অনেক গবেষক গ্রামের সম্পদ ও কৃষি অর্থনীতি অনুসন্ধানে বিশেষভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। গ্রামীণ দারিদ্র্য, কৃষি ব্যবস্থা ও বর্ণ প্রথার মতো বিষয়গুলোকে সামাজিক গবেষণা রিপোর্টের মাধ্যমে প্রকাশিত হতে থাকে। ধনী বর্গাদারদের সঙ্গে ঔপনিবেশিক শাসকদের যোগাযোগ প্রান্তিক চাষীদের অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরো প্রান্তিকতার দিকে ধাবিত হওয়ার দিকটিও অনেক গবেষণায় উঠে আসে। দেশভাগের পরবর্তী সময়ে সমাজতাত্ত্বিকদের গ্রাম গবেষণায় জাতিবর্ণ ব্যবস্থা, বংশ কাঠামো, সামাজিক স্তরায়ণ, গ্রামীণ আর্থসামাজিক কাঠামোর ‘স্বনির্ভর’ ব্যবস্থার গুরুত্ব নিয়ে নিবিড় বিশ্লেষণ পরিলক্ষিত হয়। আশির দশকের গবেষণায় ভূমির পরিমাণের ভিত্তিতে গ্রামীণ শ্রেণীকাঠামো বিশ্লেষণ করার একটি প্রবণতা দেখতে পাওয়া যায়। স্বাধীনতার পর ভূমির পরিমাণের ভিত্তিতে গ্রামীণ শ্রেণীকাঠামো ও শ্রেণীবৈষম্যের স্বরূপ বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়। সমাজবিজ্ঞানের নগর গবেষণার সূত্রপাতও গ্রামকে একভাবে সংজ্ঞায়িত করে শহরের বিপরীত অবস্থানে, যেখানে গ্রাম হচ্ছে কৃষিভিত্তিক সমাজ আর শহর হচ্ছে শিল্পায়িত সমাজ। সমাজ গবেষণা নিয়ে এসব তথ্য হাজির করার উদ্দেশ্য আসলে গ্রাম সংজ্ঞায়নের স্বরূপ উদঘাটন করা। একাডেমিকভাবে সাহিত্য বা সমাজবিজ্ঞানের পদ্ধতিগত ভিন্নতা থাকলেও উভয় ক্ষেত্রে গ্রামের সংজ্ঞায়ন নির্ধারিত হয় কৃষি কাঠামো ও ভূমিকে কেন্দ্র করে। এখন প্রশ্ন হলো, শুধু কৃষি ও ভূমি ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের আর্থসামাজিক পরিবর্তনশীলতাকে বুঝতে পারা সম্ভব কিনা?
গ্রাম গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, গ্রামের ধারণা বাংলাদেশের সর্বত্র সমান নয়। ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোয় গ্রামের যে বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, তা দিয়ে উত্তরাঞ্চলের গ্রামকে বিবেচনা করা যাবে না। আবার যদি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার কথা চিন্তা করি সেখানকার মানুষের বাস্তবতা বাংলাদেশের অন্য যেকোনো গ্রামের বাস্তবতা থেকে ভিন্ন।
এবার আসা যাক বাস্তব গবেষণা অভিজ্ঞতায়। টাঙ্গাইলের একটি গ্রাম দিয়েই শুরু করি। গ্রামের আসল নামটি গবেষণার কারণে প্রকাশ না করে গবেষণায় দেয়া হয়েছিল বড়পাড়া। বড়পাড়া লিখিতভাবে এখনো ‘গ্রাম’ হিসেবে চিহ্নিত থাকলেও ‘কৃষি শিল্পে’র বিভাজিত সংজ্ঞার প্রেক্ষাপটে একে গ্রাম বলা যাবে কিনা, তা বিশদ বিশ্লেষণের দাবি রাখে। ঐতিহাসিকভাবে এ গ্রামের মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নগরায়ণের প্রভাবে স্থানটিকে আর গ্রাম ও শহরের বিভাজিত সংজ্ঞায়নে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠদের অভিজ্ঞতায় জানা যায়, কৃষিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় ভূমির মালিকানা অর্থনৈতিক শ্রেণীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখন অকৃষি পেশায় নিয়োজিত অনেক ব্যক্তিই অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে মর্যাদাবান। বিশেষত বঙ্গবন্ধু সেতু (যমুনা বহুমুখী সেতু) স্থাপনের পরবর্তীকালে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় নানা রকম পরিবর্তন আসে। যমুনা সেতুর জন্য সংযোগ সড়ক এলাকার ভূমি ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনে, যা এখানকার মানুষের পেশার পরিবর্তন ঘটায়। সংযোগ সড়কের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রচলিত বাজারমূল্য থেকে কয়েক গুণ বেশি দামে ভূমি অধিগ্রহণ করে। জমির উচ্চ দাম পেয়ে কিছু মানুষ কৃষি পেশা থেকে অকৃষি পেশায় অর্থ বিনিয়োগ করে। গবেষণাকালে একজন গ্রামবাসী বলেছিলেন,
‘২০-২৫ বছর আগেও যেখানে আমরা ক্ষেত-খামার করতাম, এখন সে জায়গা রাস্তাঘাট-দোকানপাটে পরিণত হয়েছে। একসময় গ্রামে গরুর গাড়ি, ভ্যান ছাড়া কোনো যান চলাচল করত না; আর এখন গাড়ির শব্দে রাতের বেলাতেও ঘুমাইতে পারি না। কৃষি জমিগুলার উপর দিয়া নানা রকমের গাড়ি চলে; ইট ভাটা বা পেট্রল পাম্প তৈরি হয়ে গেছে। এত গাড়ি যায়, যা কল্পনারও বাইরে। অনেক জমি সরকার নিয়া গেছে, রাস্তা তৈরি হইছে। আবার অনেক জমি শহরের মানুষ আইসা কিনা নিছে। জমির ব্যবসা এখন লাভজনক। ১০ বছরে এক জমি তিন-চারবার হাতবদল হয়। কৃষিজমির পরিমাণ কমে গেছে। আজকাল পোলাপাইনে চাষাবাদ করতে চায় না। খুব কম মানুষই চাষাবাদ করে, তা-ও আবার মেশিন দিয়া।’
গ্রামের যুবক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জানা গেছে যে এ গ্রামের নতুন প্রজন্মের অনেকেই কৃষি পেশাকে ‘সম্মানজনক’ মনে করেন না। কৃষি খাতের চেয়ে অকৃষিকাজের পেশাকেই তারা প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। বঙ্গবন্ধু সেতু স্থাপনের পরবর্তী সময়ে ভূমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জমি বিক্রি করে শহরে গিয়ে দোকান ক্রয় করে ব্যবসায় নিয়োজিত হওয়ার বিষয়টিও দৃশ্যমান। বড়পাড়া গ্রামে এখন কৃষিকাজের ব্যাপকতা নেই। যদিও এখানে শিল্পায়নও হয়নি। জমি বিক্রি করে ব্যবসার কারণে টাঙ্গাইল শহরে অভিবাসনের হারও বেড়ে গেছে। ভূমিহীন বা স্বল্প জমির পরিবারের সন্তানরা এলাকাগত পরিচিতির মাধ্যমে শহরের দোকানগুলোয় বিক্রয়কর্মী হিসেবে নিয়োজিত হচ্ছেন, যা স্থানীয়ভাবে ‘কর্মচারী’ পেশা হিসেবে পরিচিত। এক্ষেত্রে যুবসমাজের অনেকেই ধারণা পোষণ করেন কৃষিকাজে যে পরিমাণ শ্রম দিতে হয়, প্রযুক্তির জন্য নগদ অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়, ফসল বিক্রি করে সে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায় না, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আয়-ব্যয় সমান। তাই তারা কৃষিকাজে অংশগ্রহণ না করে চাকরিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন, যেখানে মাস শেষে নগদ অর্থের নিশ্চয়তা থাকে। জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় সেখানে কৃষিকাজ না করে জমি ভাড়া দিলেও ক্ষেত্রবিশেষে কৃষিকাজের চেয়ে অধিক উপার্জন সম্ভব হয়। আবার অনেক যুবককেই মোটরযান শ্রমিক বা মেকানিক হিসেবে কাজ করতে বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানোর কাজে নিয়োজিত হতে দেখা গেছে। স্বল্পশিক্ষিতদের অন্যান্য চাকরি নিয়েও অভিবাসনের প্রবণতা লক্ষ করা গেছে।
কেবল জমি বিক্রিকারীরাই পরবর্তীকালে অর্থনৈতিকভাবে অধিকতর সচ্ছল জীবনযাপন করছেন তা নয়, ভূমিহীন বা স্বল্প ভূমির মালিক, যারা আগে দিনমজুরের কাজ করতেন, পরবর্তী প্রজন্ম অকৃষি পেশায় নিয়েজিত হওয়ার ফলে তাদের জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন এসেছে। এ ধরনের ব্যবস্থাপনা গ্রামীণ যৌথ পরিবারের চিত্রও পাল্টে ফেলেছে। অনেক ক্ষেত্রে বয়োজ্যেষ্ঠদের গ্রামে অবস্থান ও সন্তানদের শহরে বাসস্থান গড়ার মাধ্যমে একক পরিবারমুখী হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই পুরো পরিবারকেই শহরে অভিবাসিত হতে দেখা গেছে। পরিবারের ‘ভাঙন-গড়ন’ আর সামাজিক টানাপড়েনের চিত্রও এখানে স্পষ্ট, যা চিরায়ত ভূমিভিত্তিক পেশাজীবীর মাধ্যমে পরিচালিত পারিবারিক কাঠামো থেকে অনেকাংশেই ভিন্ন।
পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে কৃষিভিত্তিক সমাজকাঠামোতেও শিল্পায়নের প্রভাবে বর্তমানে কৃষি ও শিল্প পাশাপাশি অবস্থান করতে পারে। গ্রামীণ সমাজের শ্রেণীকাঠামো শুধু ভূমির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; অভ্যন্তরীণ ও বিদেশে অভিবাসন, নতুন নতুন পেশার আবির্ভাবসহ ভূমিবহির্ভূত অন্যান্য আয় গ্রামীণ শ্রেণীকাঠামোকে নতুনভাবে সংগঠিত করছে। রাজনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তনও আয়ের নতুন পথকে সম্প্রসারিত করছে। অভিবাসন শুধু আয়ের উৎসই নয়, সামাজিক সম্পর্ক পরিবর্তনেও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। শুধু গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসনই নয়, গ্রামে শিল্পের বিকাশ, এনজিও কার্যক্রম সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের ফলে শহর থেকে গ্রামে অভিবাসনের বিষয়টি গ্রামীণ আর্থসামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে খুবই তাত্পর্যপূর্ণ। আনুপাতিক হারে শহর থেকে গ্রামে অভিবাসন সংখ্যায় কম হলেও তা গ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থা, বাজারকাঠামো এমনকি রাজনৈতিক কাঠামোয়ও প্রভাব বিস্তার করে। তাই অভিবাসনের এই বহুমুখী অভিজ্ঞতার আলোকে গ্রামীণ সমাজের মানুষ নতুন ধরনের সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে নিজেকে যুক্ত করছে। আগে গ্রামের অর্থনীতি, রাজনীতি ও মর্যাদার ক্ষেত্রে ভূমির মালিকানা প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করত। বর্তমানে ভূমিহীন পরিবারের সন্তানও অভিবাসন বা নিজ এলাকায় অকৃষি কাজ অথবা চাকরিতে যোগদানের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে তা গ্রামে বিনিয়োগ করছেন, যেখানে নতুন ধরনের সামাজিক শ্রেণীর সদস্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে স্থানীয় ক্ষমতাকাঠামোর যোগসূত্র গ্রামীণ রাজনীতির চরিত্রকে বহুলাংশে পাল্টে ফেলছে। অভিবাসন, কৃষির সঙ্গে শিল্পের যোগাযোগ, আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ, এনজিও কার্যক্রমসহ কৃষিজমিতে ক্রমবর্ধমান শিল্প-কারখানা স্থাপনের মতো আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়গুলো গ্রামীণ আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত, যা গ্রামীণ জনসমাজকে নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে।
ড. রঞ্জন সাহা পার্থ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক










