ব্যাংক চালায় কে? নিশ্চয়ই মালিকরা।
মালিকদের মধ্যে
পরিচালনা পর্ষদ।
দ্বিতীয় প্রশ্ন
সরকারি ব্যাংক
চালায় কে? নিশ্চয়ই সরকার।
সরকারের পক্ষে
তাদের মনোনীত
পরিচালনা পর্ষদ।
কিন্তু এখানে
একটা কিন্তু
আছে। সরকারি
ব্যাংকগুলো সরকারের
মালিকানায়। আবার
এসব ‘পাবলিক
লিমিটেড’ কোম্পানি
চলে বিশেষ
কোম্পানি অ্যাক্ট-১৯৯৪ অনুসারে।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোও ‘পাবলিক লিমিটেড’ কোম্পানি। তাদের বেলায়ও একই
আইন প্রযোজ্য। সেখানে শেয়ারমালিকরা পরিচালক
নির্বাচন করেন।
হয় পরিচালনা
বোর্ড। নির্বাচিত হন একজন চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যানও একজন পরিচালক।
তার নেতৃত্বে
বোর্ড ব্যাংক
চালায় একজন
সার্বক্ষণিক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) মাধ্যমে।
এমডির হাতেই
ক্ষমতা—প্রশাসনিক/আর্থিক সব ক্ষমতা।
তিনি কী করতে পারেন,
কী করতে
পারেন না তা নির্ধারণ
করে দিয়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংক।
এমনকি বোর্ড
কী করতে
পারবে, কী পারবে না তাও বাংলাদেশ
ব্যাংক ঠিক
করে দিয়েছে।
এই কাঠামোর
মধ্যেই ব্যাংকে
রয়েছে আরো
দুটো কমিটি—‘অডিট কমিটি’
ও ‘রিস্ক
ম্যানেজমেন্ট কমিটি’। অডিট
কমিটি হিসাবসংক্রান্ত বিষয়/অনিয়ম ইত্যাদি
দেখে। আর ‘রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’ কমিটি দেখে ব্যাংক
ব্যবসার যাবতীয়
ঝুঁকির বিষয়।
তাদের ‘টার্মস
অব রেফারেন্স’ও বাংলাদেশ ব্যাংক
নির্ধারণ করে
দিয়েছে। এই কাঠামোর মধ্যে
বোর্ড এমডি,
ডিএমডি, জেনারেল
ম্যানেজার, ডেপুটি
জেনারেল ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ইত্যাদি নিয়োগ দেয়।
তাদের পদায়ন,
পদোন্নতি ইত্যাদি
বিষয় বোর্ড
ও এমডি
ভাগাভাগি করে
সমাধা করেন।
এতে বলা
বাহুল্য, সর্বময়
ক্ষমতার অধিকারী
এমডি। তিনি
বোর্ডের কাছে
জবাবদিহি করেন।
আবার ব্যাংকে
কোনো অনিয়ম
হলে এমডি
সরাসরি বাংলাদেশ
ব্যাংককে জানাতে
পারেন, বোর্ড
কোনো অনিয়ম
করতে চাইলে
এমডি বাংলাদেশ
ব্যাংককে লিখিতভাবে জানাতে পারেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘এমডিকে’
‘প্রটেকশন’ দেয়।
ক্ষমতার ভাগাভাগির মধ্যে কিছু কাজ
‘এমডির’ এখতিয়ারে
এবং বাকি
কাজ বোর্ডের।
কিন্তু বোর্ড
স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছুই
করতে পারে
না। বোর্ডে
‘মেমো’ নেবেন
‘এমডি’। এটা ‘এমডির’
এখতিয়ার। তিনি
মেমো না নিলে বোর্ড
কিছুই করতে
পারেন না।
এমডিকে সহায়তা
করেন তার
অধস্তন কর্মকর্তারা। সেক্ষেত্রে তাদেরও সম্মতি/অসম্মতির কথা
থাকে। এর ভিত্তিতেই বোর্ড
সিদ্ধান্ত নেয়।
চেয়ারম্যান ও বোর্ড প্রশাসনিক/আর্থিক/ব্যবস্থাপনাগত কোনো
বিষয়েই হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
অতীতে তা করে অনেক
পরিচালক বাংলাদেশ
ব্যাংক কর্তৃক
অপসারিত হয়েছেন।
এই গীত গাইলাম
কেন? এর কারণ আছে।
কারণ প্রশ্ন
সরকারি ব্যাংক
কি এভাবে
চলে? এ প্রশ্নের উত্তর
দেয়া বড়ই কঠিন। খাতাপত্রে
‘বোর্ড’। কিন্তু বাস্তবে
ক্ষমতা অন্যত্র।
বুঝিয়ে বলা যাক। সরকারি
ব্যাংকের মালিক
সরকার। অতএব
এই ব্যাংকের
‘বোর্ড’ ও পরিচালক মনোনয়ন
দেয়ার দায়িত্ব
সরকারের। অন্যদের
ক্ষেত্রে অর্থ
মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক
ও আর্থিক
প্রতিষ্ঠান বিভাগের।
ব্যস, এটুকুই
ছিল তাদের
কাজ। বাকি
কাজ সরকারের
বিশ্বস্ত মানুষ
দ্বারা গঠিত
বোর্ডের করার
কথা। কিন্তু
তা হচ্ছে
কি? না, স্পষ্টতই না। চেয়ারম্যান নিয়োগ
দেয়ার কথা বোর্ডের। না, তিনি মনোনীত
হন মন্ত্রণালয় দ্বারা। এমডি, ডিএমডি,
জিএম, নিযুক্ত
করার কথা কোম্পানি আইন মোতাবেক বোর্ডের।
কিন্তু না, তা হচ্ছে
না। এসব পদে নিযুক্তি
দেয় মন্ত্রণালয়। তাদের পদায়ন, পদোন্নতি
দেয় মন্ত্রণালয়। বোর্ডের এসব ক্ষেত্রে
কিছুই করার
নেই। ঠিকই
আছে মনে হয়। কিন্তু
প্রশ্ন অন্যত্র।
যে এমডি,
ডেপুটি এমডি,
জিএম, ডিজিএমের
নিযুক্তি বোর্ড
দেয় না, যাদের পদায়ন
ও পদোন্নতি
বোর্ড দেয় না তাদের
কাজের জন্য
বোর্ডকে কতটুকু
দায়ী করা যায়? কীভাবে
তারা দায়ী
হবেন? অথচ দায়ী বোর্ডকেই
করা হয়। এমডি থেকে
ডিজিএম পর্যন্ত
কর্মকর্তারা যদি মন্ত্রণালয় কর্তৃক
নিযুক্ত হন, তাহলে তাদের
আনুগত্য (লয়ালিটি)
কোন দিকে
থাকবে? দৃশ্যত
থাকবে বোর্ডের
প্রতি। কিন্তু
কার্যত থাকবে
মন্ত্রণালয়ের প্রতি।
তাই নয় কি? অধিকন্তু
এসব কর্মকর্তা
জানেন বোর্ডের
পরিচালকরাও মন্ত্রণালয়ের দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থায় এখানে
দ্বৈত শাসনের/প্রশাসনের জন্ম
হয় না কি? মন্ত্রণালয় বিজনেস প্ল্যান, করণীয়,
অকরণীয় সব ঠিক করে দেয়। যুক্তি
তারা মালিক।
মালিক নিশ্চয়ই।
কিন্তু বোর্ডও
তো সরকারেরই
গঠন করা।
তারা সরকারের
বিশ্বস্ত লোক।
তা না হলে পরিচালক
হতে পারতেন
কি তারা?
এ অবস্থায়
সরকার তাদের
মনোনীত বোর্ডের
ওপর আস্থা
না রেখে
কেন আমলাদের
ওপর নির্ভরশীল
হচ্ছে? আমলাদের
ওপর নির্ভরশীলতা আরো বাড়ানোর ব্যবস্থা
সরকার এখন করছে। কিছুদিন
আগে দেখলাম
ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি সরকারি
ব্যাংকের পরিচালকদের তালিকা করবে। অথচ অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব
পাওয়ার সঙ্গে
সঙ্গে বলেছিলেন
তিনি নিজে
সাক্ষাৎকার নিয়ে
পরিচালক নিয়োগ
দেবেন। উভয় ক্ষেত্রেই কিন্তু
অন্য কোনো
ব্যবস্থার কথা বলা হয়নি।
হতে পারত
একটা সার্চ
কমিটি। দক্ষ,
যোগ্য, অভিজ্ঞ
কর্মকর্তা নিয়োগের
একটা ভালো
পন্থা সার্চ
কমিটি, যা সাধারণত গঠিত
হয় অভিজ্ঞ
ও বিশ্বাসযোগ্য নিরপেক্ষ লোক/অর্থনীতিবিদ/প্রশাসনবিদ/ব্যাংকার দ্বারা।
কিন্তু এক্ষেত্রে
এটা হচ্ছে
না। পুরো
প্রক্রিয়াটিই হয়ে যাচ্ছে আমলাতান্ত্রিক/প্রশাসনিক। এই সর্বশেষ
সিদ্ধান্তের কারণ
কী? কারণ
অজানা। তবে দৃশ্যত মনে হয় নানা
অনিয়ম, কেলেঙ্কারি রোধকল্পেই বর্তমান সিদ্ধান্ত। সরকারের হয়তো মনে হচ্ছে সরকারি
ব্যাংক ভালো
চলবে সচিব
দ্বারা গঠিত
কমিটি কর্তৃক
মনোনীত পরিচালকদের দ্বারা। এতে সুশাসন
প্রতিষ্ঠা হবে ব্যাংকে, বিশেষত
সরকারি ব্যাংকে।
সুশাসন একান্ত
জরুরি। এমনিতে
কিছু সরকারি
ব্যাংকে সুশাসন
প্রতিষ্ঠার জন্য
অনেক পদক্ষেপ
নেয়া আছে।
সুশাসনের প্রথম পদক্ষেপ ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১। আইনটি সর্বগ্রাসী আইন। এতে ব্যাংক পরিচালনায় ঋণের ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। প্রচুর ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংককে। বাংলাদেশ ব্যাংক যেকোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে করতে পারে না এমন কোনো বিষয় নেই। ঋণ নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ তাদের দ্বারা হয়। সরকারি হোক, বেসরকারি হোক যেকোনো ব্যাংকের পরিচালক বা চেয়ারম্যান হতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগে। বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালকদের যোগ্যতা ঠিক করে দিয়েছে। অযোগ্যতাও ঠিক করে দিয়েছে। সেই অনুসারে পরিচালকরা অনুমোদন পান। এমডির নিয়োগ ও অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এমডিকে বোর্ডের অনাচার থেকে ‘প্রটেকশন’ও দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম-কানুন শত শত সার্কুলার দ্বারা নির্ধারিত। সুশাসনের জন্যই এসব করা। প্রশ্ন, তার পরও ব্যাংকে ব্যাংকে, বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না কেন? কেন জনমনে এত অভিযোগ? কেন সরকারি ব্যাংকের বিরুদ্ধে এত ‘মিডিয়া’ প্রতিবেদন? কেন ঋণের ক্ষেত্রে এত অনিয়ম পরিলক্ষিত হচ্ছে? কেন প্রায় প্রতিটি সূচকে সরকারি ব্যাংক এত পিছিয়ে? এর জন্য কে দায়ী? অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, না ব্যাংক বোর্ড, না বাংলাদেশ ব্যাংক? প্রশ্নটি আরো জরুরি এ কারণে যে দেখা যাচ্ছে ব্যাংক খাত, বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলো আরেক ধরনের দ্বৈত শাসনের শিকার। একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক যার আইনি দায়িত্ব ব্যাংকের ভালো-মন্দ দেখার, নিয়ম-কানুন করার। আরেক দিকে রয়েছে মন্ত্রণালয়। দুইয়ের গুঁতোগুঁতিতে সরকারি ব্যাংক প্রশাসন দিশেহারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কথা শুনবে, না মন্ত্রণালয়ের কথা শুনবে; না কোম্পানি আইন মেনে চলবে? নানা জটিলতা। অথচ সরকারি ব্যাংকগুলোকে যখন পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়, তখন বলা হয়েছিল সরকারি ব্যাংক চলবে কোম্পানি আইনে। মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন ঝামেলা থেকে তারা থাকবে মুক্ত। অনেকটা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মতো চলবে। বোর্ড সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। যেহেতু সরকারি ব্যাংকগুলোকে বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চলতে হয়, যেহেতু তাদের সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকের তুলনা করা হয়, তাই সমপর্যায়ে আসার জন্য ‘ব্যাংকস ন্যাশনালাইজেশন অর্ডার-১৯৭২’ বাতিল করে সরকারি ব্যাংকগুলোকে ‘পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি’ করা হয়। কিন্তু এত বছর পরও দেখা যাচ্ছে ‘যথা পূর্বং তথা পরং’ অবস্থা। কোনো উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এ অবস্থায় মনে হচ্ছে সরকারের ধারণা বোর্ড ঠিক করলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
সরকারি ব্যাংক কি সত্যি সত্যি ‘বোর্ড’ চালায়? দৃশ্যত তাই। বোর্ডই সবকিছুর জন্য দায়ী। কিন্তু বাস্তবেও কি তাই? আমার সন্দেহ আছে। প্রথমত, ব্যাংকের সার্বক্ষণিক প্রশাসনের দায়িত্বে ‘এমডি’ তিনিই সবকিছুর জন্যই দায়ী। তার স্বাক্ষর ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় না। কিছু ক্ষমতা তার হাতে। কিছু ক্ষমতা বোর্ডের হাতে। বোর্ডের ক্ষমতা প্রয়োগ হয় ‘মেমোর’ মাধ্যমে। মেমো বোর্ডে যায় ‘এমডির’ সইয়ে। মেমোতে সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সই থাকে। ‘এমডি’ যদি বোর্ডে মেমো না দেন তাহলে বোর্ডের কিছুই করার নেই। এতে পরে ‘এমডি/বোর্ড’ দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘এমডির’ পক্ষে থাকার বিধান আছে। ‘এমডি’ অন্যান্য মেমো বোর্ডে না নিলে ব্যাংকে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে—এই যা। হোক না তাই। দেখা যাক কী হয়। না এমনটা হয় না। বাস্তবে চেয়ারম্যান, প্রভাবশালী পরিচালক ও এমডির একটা ‘নেক্সাস’ তৈরি হয়। তারাই চালান ব্যাংক। বদনাম পুরো বোর্ডের। যখন এই নেক্সাসের প্রধান চেয়ারম্যানকে নিয়োগ দেয়, চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় দৃশ্যত মন্ত্রণালয়।
কিন্তু
বাস্তবে অদৃশ্য
একটি শক্তি
চেয়ারম্যান নিয়োগ
দেয় বলে মনে হয়। তা না হলে সরকারি
ব্যাংকে সকালে
একজন চেয়ারম্যান, বিকালে আরেকজন হন কী করে? দু-এক মাস যাওয়ার
পর চেয়ারম্যান পদচ্যুত হন কী করে? এসব দেখে মনে করার যথেষ্ট
কারণ আছে যে এর পেছনে শক্তিশালী
একটি লবি আছে, যার কথা সাবেক
অর্থমন্ত্রী মুহিত
সাহেব একবার
বলেছিলেন। তিনি
বলেছিলেন সরকারের
ভেতর সরকার
আছে। মনে হয় ‘বিগ বিজনেস’, চেয়ারম্যান, এমডি ও বাংলাদেশ
ব্যাংক মিলে
একটি ‘চক্রের’
সৃষ্টি হয়েছে।
পেছন থেকে
কলকাঠি নাড়ে
মন্ত্রণালয়। এই যে বিশাল
প্রভাবশালী শক্তি
তার আলোচনা
কেউ করে না। রয়েছে
প্রচণ্ড প্রভাবশালী ‘সিবিএ’। সরকারি
ব্যাংকে শক্তিশালী
‘সিবিএ’ রয়েছে।
তারা প্রতিটি
সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ
করে। সিবিএর
নেতাদের পদোন্নতি
দিলে তারা
পদোন্নতি নেন না। কারণ
তাহলে তারা
‘সিবিএ’ নেতা
থাকতে পারবেন
না। ‘সিবিএ’
সরকারি ব্যাংকে
একটি ‘চক্র’
তৈরি করে।
তারা প্রশাসনের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একাংশের সঙ্গে মিলে
একটা ‘চক্র’
তৈরি করে।
পদায়ন, পদোন্নতি,
সিদ্ধান্তে তাদের
হস্তক্ষেপ ‘ওপেন
সিক্রেট’ ঘটনা।
তারা কর্মচারীদের গৃহঋণ থেকেও একটি
ভাগ পায়।
এই ভাগ না পেলে
কর্মচারীদের গৃহঋণ
পাওয়া মুশকিল।
অথচ এসব ব্যাপারে মিডিয়ায়
কোনো রিপোর্ট
দেখি না, কোনো আলোচনা
দেখি না। শুধু কথা হচ্ছে বোর্ড,
বোর্ড, বোর্ড।
হ্যাঁ দৃশ্যত
তাই। হয়তো
বোর্ডের কেউ কেউ দায়ীও।
কিন্তু সরকারি
ব্যাংক প্রশাসনের
অন্যান্য দিকও
আলোচনায় আসা দরকার। পরিচালকরাই সবকিছু নন—এ কথা বোঝা
দরকার।
ড. আর এম দেবনাথ: অর্থনীতি বিশ্লেষক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক










