বিশ্ববাণিজ্য বেশ
জোরেশোরেই
ঘুরে
দাঁড়িয়েছে
গত
বছর,
মানে
২০২১
সালে।
নভেল
করোনাভাইরাসের
করাল
গ্রাসে
তার
আগের
বছর
মানে
২০২০
সালে
অনেকটাই
স্তিমিত
হয়ে
পড়েছিল
বিশ্বের
দেশগুলোর
মধ্যকার
পণ্য
ও
সেবা
আমদানি-রফতানি
কার্যক্রম।
কভিড-১৯
প্রতিষেধক
টিকা
উদ্ভাবনের
পর
বিভিন্ন
দেশের
মানুষজনকে
টিকার
আওতায়
আনার
সঙ্গে
সঙ্গে
পরিস্থিতি
কিছুটা
স্বাভাবিক
হতে
শুরু
করে।
ক্ষয়ক্ষতি
পুষিয়ে
নেয়ার
জন্য
নানা
রকম
জোর
প্রচেষ্টাও
নেয়া
হয়।
দেয়া
হয়
নানা
ধরনের
উদ্দীপনামূলক
ব্যয়
কর্মসূচি
বা
স্টিমুলাস
প্যাকেজ।
এসবেরই
ইতিবাচক
প্রভাব
পড়েছে
বিশ্ববাণিজ্যের
ওপর।
কভিডসংক্রান্ত
বিধিনিষেধ
অনেকটাই
উঠে
গেছে।
পাশাপাশি
চাহিদা
বেড়েছে,
বেড়েছে
পণ্যের
দাম।
জাতিসংঘের বাণিজ্য
ও
উন্নয়ন
সংস্থা
(আঙ্কটাড) ফেব্রুয়ারির
তৃতীয়
সপ্তাহে
বৈশ্বিক
বাণিজ্যের
যে
হালনাগাদ
প্রতিবেদন
প্রকাশ
করেছে,
তাতে
এ
রকমটাই
বলা
হয়েছে।
এতে
দেখা
যায়,
২০২১
সালে
বিশ্ববাণিজ্যের
মূল্যমান
দাঁড়িয়েছে
২৮
লাখ
৫০
হাজার
কোটি
(২৮ দশমিক
৫০
ট্রিলিয়ন)
ডলারে,
যা
২০২০
সালের
তুলনায়
২৫
শতাংশ
এবং
২০১৯
সালের
তুলনায়
১৩
শতাংশ
বেশি।
২০২০
সাল
ছিল
কভিডজনিত
মহামারী
আঘাত
ও
বিস্তার
হানার
বছর,
যখন
দুনিয়াজুড়ে
পণ্য
বাণিজ্য
২০১৯
সালের
তুলনায়
সাড়ে
৭
শতাংশ
কমে
হয়
১৭
লাখ
৬০
হাজার
কোটি
ডলার।
একই
বছর
সেবা
খাতের
বাণিজ্য
সাড়ে
২০
শতাংশ
কমে
গিয়ে
মূল্যমান
দাঁড়ায়
৫
লাখ
কোটি
ডলার।
আর
২০১৯
সাল
ছিল
কভিডের
আগের
শেষ
স্বাভাবিক
বছর,
যখন
পণ্য
বাণিজ্যের
পরিমাণ
ছিল
১৯
লাখ
কোটি
ডলার
আর
সেবা
বাণিজ্যের
৬
লাখ
২০
হাজার
কোটি
ডলার।
বিশ্ববাণিজ্যের মোট
অংকটি
কীভাবে
পাওয়া
যায়
তা
একটু
বোঝা
দরকার।
একটি
বছরে
বিভিন্ন
দেশের
পণ্য
রফতানির
সমষ্টির
সঙ্গে
ওই
দেশগুলোর
পণ্য
আমদানির
সমষ্টিকে
প্রথমে
যোগ
করা
হয়।
তারপর
তা
দুই
দিয়ে
ভাগ
করে
গড়
নির্ণয়
করা
হলো।
এ
গড়
অংকটি
হলো
মোট
বৈশ্বিক
পণ্য
বাণিজ্যের
মূল্যমান।
স্বাভাবিক
নিয়ম
অনুসারে,
বৈশ্বিক
পণ্য
আমদানি
ও
বৈশ্বিক
পণ্য
রফতানির
মূল্যমান
সমান
হওয়ার
কথা।
কারণ
বিশ্বের
দেশগুলো
একে
অন্যের
সঙ্গেই
আমদানি-রফতানি
করে,
পৃথিবীর
বাইরে
গিয়ে
কেউ
মঙ্গল
গ্রহের
সঙ্গে
বাণিজ্য
করে
না।
তবে
আমদানি-রফতানির
হিসাব-নিকাশ
করার
পদ্ধতিগত
ভিন্নতা,
অসম্পন্নতা,
ত্রুটি-বিচ্যুতি
ও
কিছু
দেশ
থেকে
পূর্ণাঙ্গ
তথ্য
না
পাওয়ার
কারণে
আঙ্কটাড
এবং
বিশ্ব
বাণিজ্য
সংস্থা
(ডব্লিউটিও) যখন
বৈশ্বিক
বাণিজ্যের
সামগ্রিক
পরিসংখ্যান
প্রস্তুত
করে
তখন
বৈশ্বিক
আমদানি
ও
বৈশ্বিক
রফতানির
মধ্যে
কিছুটা
ব্যবধান
দেখা
দেয়।
যেমন
২০২০
সালে
বৈশ্বিক
পণ্য
আমদানির
মূল্যমান
ছিল
১৭
লাখ
৮২
হাজার
কোটি
ডলার,
যখন
রফতানির
মূল্যমান
দাঁড়িয়েছিল
১৭
লাখ
৬২
হাজার
কোটি
ডলার।
এ
হিসেবে
বৈশ্বিক
বাণিজ্যে
ঘাটতি
হওয়ার
কথা
২০
হাজার
কোটি
ডলার।
বাস্তবে
কোনো
ঘাটতি
হতে
পারে
না।
কেননা
পৃথিবীর
ভেতরেই
যাবতীয়
বাণিজ্য
সম্পন্ন
হয়েছে।
যদি
পৃথিবীর
সঙ্গে
মঙ্গল
গ্রহের
বাণিজ্য
হতো
তাহলে
এ
রকম
ঘাটতি
বা
উদ্ধৃতির
বিষয়টি
আসত।
সে
কারণেই
বৈশ্বিক
আমদানি
ও
রফতানির
মূল্যমানকে
যোগ
করে
গড়
একটি
মূল্যমান
বের
করা
হচ্ছে।
যেহেতু ২০২১
সালে
বিশ্ববাণিজ্যের
প্রাক্কলিত
পরিমাণ
২০১৯
সালের
তুলনায়
প্রায়
১৩
শতাংশ
বেশি,
সেহেতু
২০২১
সালে
বিশ্ববাণিজ্য
স্বাভাবিক
গতিময়তা
ফিরে
পেয়েছে
বলে
মনে
করা
হচ্ছে, যদিও
বছরের
শেষ
প্রান্তিকের
চূড়ান্ত
হিসাব
পাওয়া
যায়নি।
আঙ্কটাডের
প্রাথমিক
প্রাক্কলন
অনুসারে,
২০২১
সালের
শেষ
প্রান্তিকে
(অক্টোবর-ডিসেম্বর)
৫
লাখ
৮০
হাজার
কোটি
ডলারের
পণ্য
বাণিজ্য
আর
১
লাখ
৬০
হাজার
কোটি
ডলারের
সেবা
বাণিজ্য
সম্পন্ন
হয়েছে
দুনিয়াজুড়ে।
অন্যদিকে
বিশ্ব
বাণিজ্য
সংস্থার
মোটাদাগে
আঙ্কটাড
তিনটি
প্রধান
কারণকে
চিহ্নিত
করেছে
বিশ্ববাণিজ্য
জোরেশোরে
ঘুরে
দাঁড়ানোর
কারণ
হিসেবে।
এগুলো
হলো
পণ্যমূল্য
বৃদ্ধি,
মহামারীজনিত
বিধি-নিষেধ
কমে
যাওয়া
এবং
উদ্দীপনামূলক
ব্যয়
কর্মসূচির
প্রভাবে
সামগ্রিক
চাহিদা
বেড়ে
যাওয়া।
জাতিসংঘের
সংস্থাটি
আরো
মনে
করছে
যেহেতু
এ
ধারাগুলো
আর
অব্যাহত
থাকবে
না
বা
কমে
আসবে
সেহেতু
চলতি
বছর
বিশ্ববাণিজ্য
তার
পুরনো
ছন্দে
ফিরবে,
স্বাভাবিক
হয়ে
যাবে।
স্বাভাবিক
হওয়ার
মানে
হলো,
বিশ্ববাণিজ্যে
এবার
আর
বড়
ধরনের
উল্লম্ফন
দেখা
দেবে
না,
যদিও
বাণিজ্যের
প্রবৃদ্ধির
হার
দুই
অংকের
ঘরে
উপনীত
হতে
পারে।
আর
২০২০
সালের
তুলনায়
২০২১
সালের
২৭
শতাংশ
প্রবৃদ্ধি
কোনো
স্বাভাবিক
প্রবৃদ্ধির
হারও
নয়।
পাশাপাশি আঙ্কটাড
সামনের
দিকে
তথা
এ
বছর
বিশ্ববাণিজ্য
শেষ
পর্যন্ত
কোন
দিকে
ধাবিত
হবে
তা
পাঁচটি
বিষয়ের
ওপর
নির্ভরশীল
বলে
উল্লেখ
করেছে।
এগুলো
হলো
বৈশ্বিক
অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি
কমে
যাওয়া,
বৈশ্বিক
পণ্য
সরবরাহ
ব্যবস্থায়
মহামারীজনিত
আঘাত,
আঞ্চলিক
বাণিজ্য
চুক্তি,
পরিবেশবান্ধব
অর্থনীতির
দিকে
ঝোঁক
এবং
বৈশ্বিক
ঋণের
বোঝা
বেড়ে
যাওয়া।
এমনিতেই
বিশ্বজুড়ে
মূল্যস্ফীতির
চাপ
ক্রমে
বাড়ছে,
যা
বৈশ্বিক
প্রবৃদ্ধি
কমিয়ে
দেবে
বলে
মনে
করছে
আন্তর্জাতিক
মুদ্রা
তহবিল
(আইএমএফ)।
এর
প্রভাবে
বিশ্ববাণিজ্যের
প্রবৃদ্ধিও
কিছুটা
হোঁচট
খেতে
পারে।
পাশাপাশি
যদি
বৈশ্বিক
সরবরাহ
ব্যবস্থার
যথেষ্ট
উন্নতি
না
ঘটে,
মানে
পণ্য
জাহাজীকরণের
সময়
ও
খরচ
যদি
না
কমে
তাহলে
বাণিজ্যের
গতিময়তা
বাধাগ্রস্ত
হবে।
তবে
এ
বছরের
শুরু
থেকে
রিজিওনাল
কম্প্র্রিহেনসিভ
ইকোনমিক
পার্টনারশিপ
(আরসেপ) কার্যকর
হয়েছে,
যা
এখন
বিশ্বের
সবচেয়ে
বড়
আঞ্চলিক
মুক্ত
বাণিজ্য
চুক্তি।
চীনকেন্দ্রিক
আরসেপ
পূর্ব
এশিয়া
ও
প্রশান্ত
মহাসাগরীয়
অঞ্চলের
দেশগুলোর
মধ্যকার
বাণিজ্য
উল্লেখযোগ্য
হারে
বাড়বে
বলে
আশা
করা
হচ্ছে।
যদিও
এ
বাণিজ্য
অনেকটাই
আরসেপ
সদস্য
নয়,
এমন
দেশগুলো
থেকে
ধাবিত
হবে।
আবার
আফ্রিকান
কন্টিনেন্টাল
ফ্রি
ট্রেড
এরিয়া
(এসিএফটিএ) ও
আরো
কয়েকটি
আঞ্চলিক
বাণিজ্য
চুক্তির
কারণে
বাণিজ্য
বাড়ার
সম্ভাবনা
তৈরি
হয়েছে
বলে
মনে
করছে
আঙ্কটাড।
অন্যদিকে
২০২২
সালে
পরিবেশগতভাবে
টেকসই
পণ্যের
বৈশ্বিক
চাহিদা
বেড়ে
গিয়ে
তা
বিশ্ববাণিজ্যের
ধরনে
কিছুটা
বদল
আনতে
পারে।
উচ্চহারে
কার্বন
নিঃসরণকারী
পণ্য
নিয়ন্ত্রণে
বিভিন্ন
দেশের
সরকারি
নীতি
এক্ষেত্রে
ভূমিকা
রাখবে।
এছাড়া
পরিবেশবান্ধব
জ্বালানির
জন্য
কৌশলগত
পণ্যের
(যেমন লিথিয়াম)
চাহিদা
বাড়লে
তাও
বাণিজ্যের
ধরনে
প্রভাব
ফেলবে।
সর্বোপরি
বৈশ্বিক
ঋণ
বেড়ে
যাওয়ায়
এ
বছর
বাড়তি
উদ্বেগ
দেখা
দিতে
যাচ্ছে
বিভিন্ন
দেশে।
ঋণের
চাপ
মোকাবেলায়
আর্থিক
শর্তগুলো
কঠোরতর
করা
হলে
সবচেয়ে
ঋণগ্রস্ত
দেশগুলো
বিপদের
মধ্যে
পড়বে,
তাদের
নাজুকতা
বাড়বে,
তাদের
বিনিয়োগ
ও
বাণিজ্যে
নেতিবাচক
প্রভাব
পড়বে।
অন্যদিকে ডব্লিউটিও
গত
মাসে
বিশ্ববাণিজ্য
ব্যারোমিটারের
যে
হালনাগাদ
প্রতিবেদন
প্রকাশ
করেছে,
তাতে
দেখানো
হয়েছে,
গত
বছর
শেষ
পর্যন্ত
বিশ্ববাণিজ্য
জোরেশোরে
ঘুরে
দাঁড়ালেও
এ
বছরের
শুরুতেই
তা
নিম্নমুখী
হওয়ার
প্রবণতা
তৈরি
হয়েছে।
কভিডজনিত
আঘাতের
ফলে
সরবরাহ
প্রক্রিয়ায়
যে
বিঘ্ন
দেখা
দিয়েছিল,
তার
সঙ্গে
ওমিক্রনের
বিস্তার
রোধে
আরোপিত
বিধি-নিষেধ
যুক্ত
হয়ে
বাণিজ্যের
গতি
শ্লথ
করছে
বলে
এতে
উল্লেখ
করা
হয়েছে।
তবে
ওমিক্রন
অতটা
প্রাণঘাতী
না
হওয়ায়
অনেক
দেশই
দ্রুত
বিধিনিষেধ
তুলে
নিয়েছে,
যা
আগামী
দিনে
বাণিজ্য
বাড়াতে
সহায়ক
হবে।
ডব্লিউটিও-ও
ব্যারোমিটার
অনুসারে,
গত
বছরের
প্রথম
নয়
মাসে
বিশ্ববাণিজ্যের
পরিমাণ
তার
আগের
বছরের
একই
সময়ের
তুলনায়
১১
দশমিক
৯০
শতাংশ
বেড়েছে।
গত
বছরের
শেষ
প্রান্তিকের
হিসাব
চূড়ান্ত
না
হওয়ায়
গোটা
বছরের
চিত্র
এতে
দেখানো
হয়নি।
আঙ্কটাড ও
ডব্লিউটিও
কেউই
যে
বিষয়টি
বিবেচনায়
নেয়নি
বা
নিতে
পারেনি
তা
হলো,
রাশিয়ার
ইউক্রেন
আক্রমণের
মধ্য
দিয়ে
শুরু
হওয়া
যুদ্ধ।
যদিও
আশঙ্কা
ক্রমেই
জোরদার
হচ্ছিল
যে
রাশিয়া
শেষতক
ইউক্রেন
আক্রমণ
করবে,
ফেব্রুয়ারির
তৃতীয়
সপ্তাহ
পর্যন্ত
তেমনটি
ঘটেনি।
আর
তার
আগেই
এ
দুটো
আন্তর্জাতিক
সংস্থা
তাদের
প্রতিবেদন
ও
পূর্বাভাসগুলো
প্রকাশ
করেছে।
সুতরাং
আঙ্কটাড
২০২২
সালের
বিশ্ববাণিজ্যকে
প্রভাবিত
করার
যে
পাঁচটি
বিষয়
উল্লেখ
করেছে,
তার
সঙ্গে
ষষ্ঠ
উপাদান
হিসেবে
এখন
রুশ-ইউক্রেন
যুদ্ধকে
যুক্ত
করতে
হবে।
এ
যুদ্ধের
ফলে
এরই
মধ্যে
বিশ্ব
পণ্যবাজার
অস্থির
হয়ে
উঠেছে,
যা
বৈশ্বিক
মূল্যস্ফীতিকে
আরো
উসকে
দিতে
পারে।
জ্বালানি
তেলের
দর
ব্যারেলপ্রতি
১০০
ডলার
ছাড়িয়ে
গেছে।
পণ্য
সরবরাহ
প্রক্রিয়াও
ব্যয়বহুল
হচ্ছে।
রাশিয়ার
ওপর
বড়
ধরনের
আর্থিক
নিষেধাজ্ঞা
আরোপ
করা
হয়েছে,
যার
নেতিবাচক
প্রভাব
পড়েছে
বিশ্বের
শেয়ারবাজারে।
তাই
আঙ্কটাড
ও
ডব্লিউটিও
বিশ্ববাণিজ্য
পরিস্থিতির
হালনাগাদ
যে
প্রতিবেদন
আগামীতে
প্রকাশ
করবে,
তাতে
এ
যুদ্ধের
বিষয়টি
যুক্ত
হয়ে
এ
বছরের
পূর্বাভাস
সংশোধন
করা
হবে।
এখন
এটুকু
বলা
যাচ্ছে
যে
বিশ্ববাণিজ্যের
গতি
খানিকটা
কমে
যাবে।
অবশ্য
যুদ্ধ
শুরু
হওয়ার
তৃতীয়
সপ্তাহেই
এক
তাত্ক্ষণিক
বিশ্লেষণে
আঙ্কটাড
বলেছে,
ইউক্রেন
যুদ্ধ
তাত্ক্ষণিকভাবে
বিশ্ব
খাদ্যবাজারে
প্রভাব
ফেলেছে।
রাশিয়া
ও
ইউক্রেন
উভয়ই
গম,
বার্লি,
সূর্যমুখী
তেল
ও
বীজের
মতো
খাদ্যনিরাপত্তার
সঙ্গে
যুক্ত
কৃষিপণ্যের
অন্যতম
বৈশ্বিক
জোগানদাতা।
আঙ্কটাড
আরো
বলেছে,
কভিড-১৯
সংকট
মোকাবেলায়
বিভিন্ন
দেশের
সরকারের
নেয়া
রাজস্ব
প্রণোদনা,
শিথিল
মুদ্রানীতি,
মজুদকরণ
ও
রফতানি
সীমিতকরণের
মতো
পদক্ষেপগুলো
কৃষিজ
বিভিন্ন
পণ্যের
দাম
ঊর্ধ্বমুখী
করেছিল।
কিন্তু
চলমান
সংঘাত
এ
দামকে
নতুন
উচ্চতায়
ঠেলে
দিচ্ছে।
ফলে
নতুনভাবে
এ
মূল্যবৃদ্ধি
চলমান
যুদ্ধের
সমান্তরাল
ক্ষতি
হিসেবে
দেখা
দিয়েছে,
যা
বিশ্বের
যেকোনো
প্রান্তে
খাদ্যনিরাপত্তা
ও
রাজনৈতিক
স্থিতিশীলতাকে
আপসে
বাধ্য
করতে
পারে।
আন্তর্জাতিক
মুদ্রা
তহবিলও
(আইএমএফ) বলেছে
যে
এ
যুদ্ধ
বিশ্ব
অর্থনীতির
ওপর
এক
বিরাট
আঘাত,
যা
প্রবৃদ্ধি
ব্যাহত
করবে
এবং
দাম
বাড়াবে।
বাংলাদেশ পরিস্থিতি: বিশ্ববাণিজ্য
ঘুরে
দাঁড়ানোর
সুফল
পেয়েছে
বাংলাদেশও।
গত
বছর
বাংলাদেশের
পণ্য
রফতানি
ও
আমদানি
দুই-ই
ব্যাপকভাবে
বেড়েছে
এবং
বার্ষিক
মোট
পণ্য
বাণিজ্য
প্রথমবারের
মতো
১০
হাজার
কোটি
(বা ১০০
বিলিয়ন)
ডলার
ছাড়িয়ে
গেছে।
রফতানি
উন্নয়ন
ব্যুরো
ও
বাংলাদেশের
ব্যাংকের
পরিসংখ্যান
মিলিয়ে
দেখা
যায়,
২০১৯
সালে
যেখানে
মোট
পণ্য
বাণিজ্যের
মূল্যমান
ছিল
৯
হাজার
৮৪৩
কোটি
ডলারের
কিছু
বেশি,
সেখানে
কভিডের
কারণে
তা
২০২০
সালে
নেমে
আসে
৮
হাজার
৬৪১
কোটি
ডলারে।
তবে
২০২১
সালে
তা
প্রায়
৪৪
শতাংশ
বেড়ে
হয়েছে
১২
হাজার
৪৬৬
কোটি
ডলার।
গত
বছর
মানে
২০২১
সালে
রফতানি
যে
হারে
বেড়েছে,
তার
চেয়ে
দ্বিগুণের
বেশি
হারে
বেড়েছে
পণ্য
আমদানি।
২০২০
সালে
যেখানে
৫
হাজার
২৮০
কোটি
ডলারের
পণ্য
আমদানি
হয়েছিল
বাংলাদেশে,
২০২১
সালে
তা
দাঁড়িয়েছে
৮
হাজার
৪৪
কোটি
ডলারে।
মানে
এক
বছরে
আমদানি
বেড়েছে
প্রায়
সাড়ে
৫২
শতাংশ।
একই
সময়ে
রফতানি
বেড়েছে
সাড়ে
৩১
শতাংশ
[রফতানি ও
আমদানির
এ
হিসাব
সিঅ্যান্ডএফ
মূল্যমান
ধরে]।
এ উচ্চহারের
আমদানি
ও
রফতানি
প্রবৃদ্ধি
আগামী
দিনে
বজায়
থাকবে
না
বলে
ধরে
নেয়া
যায়।
প্রথমত,
কভিডজনিত
কারণে
আমদানি
ও
রফতানি
উল্লেখযোগ্য
হারে
কমে
যাওয়ার
পর
অতি
উচ্চহারে
ঘুরে
দাঁড়িয়েছে।
দ্বিতীয়ত,
রুশ-ইউক্রেন
যুদ্ধের
জের
ধরে
বিশ্বজুড়ে
নতুন
করে
যে
অনিশ্চয়তা
শুরু
হয়েছে,
তার
নেতিবাচক
প্রভাব
পড়বে
বাংলাদেশের
বাণিজ্যেও।
একদিকে
রফতানি
কিছুটা
শ্লথ
হতে
পারে,
অন্যদিকে
আমদানি
হতে
পারে
ব্যয়বহুল,
যা
আবার
আমদানি
কিছুটা
কমিয়ে
দিতে
পারে।
বস্তুত, উচ্চহারে
আমদানি
এরই
মধ্যে
লেনদেনের
ভারসাম্যে
বড়
ধরনের
চাপ
সৃষ্টি
করেছে,
বেড়ে
গেছে
বাণিজ্য
ঘাটতি।
২০২০
সালে
যেখানে
বাণিজ্য
ঘাটতি
ছিল
১
হাজার
৬৫০
কোটি
ডলার,
সেখানে
২০২১
সালে
তা
প্রায়
দ্বিগুণ
হয়েছে,
যার
পরিমাণ
৩
হাজার
১৯৫
কোটি
ডলার
[বাণিজ্য ঘাটতির
এ
হিসাব
অবশ্য
আমদানি
ও
রফতানির
এফওবি
মূল্যমান
ধরে,
যা
লেনদেনের
ভারসাম্য
সারণিতে
দেখানো
হয়]।
এ
উচ্চ
বাণিজ্য
ঘাটতি
মেটাতে
গিয়ে
চাপ
সৃষ্টি
হয়েছে
চলতি
হিসাবের
ওপর
বা
নিয়মিত
বৈদেশিক
লেনদেনের
ওপর।
পণ্য
রফতানি
আয়ের
সঙ্গে
প্রবাসী
আয়
বা
রেমিট্যান্স
যোগ
করলেও
তা
দিয়ে
পণ্য
বাণিজ্যের
ঘাটতি
পূরণ
করা
যাচ্ছে
না;
বরং
সেবা
খাতের
বাণিজ্য
ঘাটতি
যুক্ত
হয়ে
চলতি
হিসাবের
ভারসাম্যে
বড়
ধরনের
ঘাটতি
দেখা
দিয়েছে।
২০২০
সালে
যেখানে
চলতি
হিসাবের
ভারসাম্যে
৪৫
কোটি
ডলারের
উদ্বৃত্ত
ছিল,
সেখানে
২০২১
সালে
তা
দেড়
হাজার
কোটি
ডলারের
বেশি
ঘাটতিতে
রূপ
নিয়েছে।
চলতি হিসাবের
এ
ঘাটতি
মেটানোর
জন্য
বিদেশী
ঋণ
ও
বিনিয়োগের
ওপর
নির্ভর
করতে
হচ্ছে।
তবে
বিদেশী
বিনিয়োগ
তেমন
না
বাড়ায়
ঘাটতি
অর্থায়ন
করতে
হচ্ছে
বেশি
করে
বিদেশী
ঋণ
নিয়ে।
বিশেষ
করে
মধ্য
ও
দীর্ঘমেয়াদি
ঋণ
অনেক
বেড়ে
গেছে,
যা
ভবিষ্যতে
পরিশোধ
করতে
হবে।
একই
সঙ্গে
বৈদেশিক
মুদ্রা
বিনিময়
হারের
ওপর
চাপ
পড়েছে।
ফলে
ডলারের
বিপরীতে
টাকার
দরপতন
হচ্ছে।
বাংলাদেশ
ব্যাংকের
পরিসংখ্যান
থেকে
দেখা
যায়,
গত
বছরের
আগস্ট
থেকে
টাকার
দরের
অবমূল্যায়ন
ঘটতে
শুরু
করেছে।
গত
বছরের
জুনের
তুলনায়
এ
বছরের
জানুয়ারির
শেষে
এসে
ডলারের
বিপরীতে
টাকার
দরপতন
হয়েছে
১
দশমিক
৩৯
শতাংশ।
জুনে
ডলারপ্রতি
গড়
বিনিময়
হার
ছিল ৮৪
টাকা
৮১
পয়সা,
যা
ডিসেম্বরে
হয়েছে
৮৫
টাকা
৮০
পয়সা
আর
জানুয়ারিতে
৮৫
টাকা
৯৬
পয়সা।
কিন্তু
এ
সময়কালে
বাণিজ্যিক
ব্যাংক
থেকে
বিদেশে
ভ্রমণের
বা
বৈদেশিক
মুদ্রায়
বাণিজ্যিক
লেনদেন
নিষ্পত্তির
জন্য
যারা
ডলার
কিনেছেন,
তাদেরকে
গড়ে
৮৭
থেকে
৮৯
টাকা
পর্যন্ত
ব্যয়
করতে
হয়েছে।
তবে
এ
সময়কালে
বাংলাদেশ
ব্যাংক
বাজারে
৩০৪
কোটি
ডলার
বিক্রি
করেছে
ডলারের
চাহিদাজনিত
চাপ
কমানোর
জন্য।
তার
পরও
ডলারের
বিপরীতে
টাকার
দরপতনের
ধারা
এখনো
অব্যাহত
আছে।
দেখা যাচ্ছে,
আমদানির
উচ্চ
প্রবৃদ্ধি
অর্থনীতিকে
একটা
বড়
চ্যালেঞ্জের
মুখে
ফেলেছে।
শুধু
যে
দেশের
ভেতরের
উচ্চ
চাহিদা
আমদানি
ব্যয়
বাড়িয়েছে
তা
নয়,
বরং
আমদানীকৃত
পণ্যের
দাম
বেড়ে
যাওয়া
এর
অন্যতম
কারণ।
পাশাপাশি
আমদানির
আড়ালে
টাকা
পাচার
বেড়ে
যাওয়ার
আশঙ্কাও
জোরদার
হয়েছে।
সাধারণত
আমদানির
উচ্চমূল্য
(ওভার ইনভয়েসিং)
আর
রফতানির
নিম্নমূল্য
দেখিয়ে
(আন্ডার ইনভয়েসিং)
বিদেশী
টাকা
পাচার
করা
অতি
পুরনো
পদ্ধতি।
যদিও
গত
বছরের
উচ্চহারে
আমদানির
কতটা
টাকা
পাচারজনিত
তা
নিরূপণ
করা
খুব
কঠিন।
তার
পরও
একাধিক
বিকল্প
সূচক
দিয়ে
বিষয়টি
বোঝার
চেষ্টা
করা
যেতে
পারে।
যেমন
গত
বছরের
জুলাই-নভেম্বর
সময়কালে
মাত্র
৬৯৩
জন
ব্যক্তি
রিয়েল
এস্টেট,
শেয়ারবাজার
ও
আর্থিক
পণ্যে
বিনিয়োগের
মাধ্যমে
অপ্রদর্শিত
আয়
বৈধ
করেছেন
বা
কালো
টাকা
সাদা
করেছেন।
এজন্য
সরকার
কর
বাবদ
২৬
কোটি
টাকা
পেয়েছে।
অথচ
২০২০
সালের
একই
সময়ে
৭
হাজার
৫৫
জন
ব্যক্তি
এসব
খাতে
বিনিয়োগ
করে
কালো
টাকা
সাদা
করেছিলেন।
এক
বছরের
ব্যবধানে
এটি
কমে
যাওয়ার
একটি
কারণ
হতে
পারে
১০
শতাংশ
করের
সঙ্গে
উচ্চহারে
জরিমানা
প্রদানের
বিধান।
আরেকটি
কারণ
হতে
পারে
বৈদেশিক
বাণিজ্য
পুরোমাত্রায়
গতি
ফিরে
পাওয়ায়
এ
সুযোগ
কাজে
লাগিয়ে
করের
অবকাশ
কেন্দ্রগুলোয়
(ট্যাক্স হ্যাভেন)
অর্থ
স্থানান্তর
করা।
আর
তাই
গত
বছরের
বাণিজ্যের
বিশেষত
আমদানির
প্রবৃদ্ধিকে
একটু
সতর্কভাবে
বিশ্লেষণ
করা
প্রয়োজন।
একই
সঙ্গে
প্রয়োজন
এ
বছরের
আমদানি
ব্যয়ের
দিকে
নজরদারি
বাড়িয়ে
একটু
রাশ
টানা।
তানিম আসজাদ: সাংবাদিক ও লেখক










