দেশের মোট স্বাস্থ্যসেবার প্রায় ৬৫ শতাংশ বেসরকারি খাত প্রদান করছে। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ১৫ হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে ও প্রায় ১২ লাখ কর্মী কর্মরত আছেন। জনগণের চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই সরাসরি পকেট থেকে ব্যয় (আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার) হয়। আর এ ব্যয়ের বড় অংশই যায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার পেছনে। আমরা প্রায় শুনছি যে প্রতি বছর প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চিকিৎসার জন্য ব্যয় হচ্ছে। অথচ বিগত এক বছরে ভারতীয় ভিসা কার্যত বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য-সহযোগিতা কমে যাওয়ায় আমাদের অনেক স্বাস্থ্যভিত্তিক টেলিভিশন প্রোগ্রাম ও প্রকল্প চাপের মুখে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে প্রয়োজন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরো কার্যকর ও জনবান্ধব করা।

সংক্রামক ও অসংক্রামক দুই ধরনের রোগ মোকাবেলায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এ খাতের অবদান বৃদ্ধিতে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব রাখতে চাই। গত দেড়-দুই মাসে অনেকগুলো স্বাস্থ্যবিষয়ক আয়োজনে অংশ নিয়েছি। সেখানে বেশির ভাগ সময় নানা হাইপোথেটিক্যাল আলোচনা ও সাধারণ পরামর্শ নিয়ে কথা হয়। কিন্তু যদি বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত কার্যকরভাবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় পরিচালিত হয় তাহলে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি ৮০-৯০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা এ খাত দিতে পারবে।

প্রথমত, আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে একটি মেডিকেল সামারি যুক্ত করতে হবে। ডাক্তাররা আউটডোরে গড়ে মাত্র ৭ মিনিট সময় পান রোগী দেখার জন্য; এর মধ্যে প্রায় ৫ মিনিট চলে যায় কাগজপত্র ঘাঁটতে। যদি মেডিকেল সামারি থাকে, তবে পুরো সময়টা প্রকৃত চিকিৎসার কাজে লাগানো যাবে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে প্রায় ১৫ হাজার কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। এ কেন্দ্রগুলো মূলত প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়, যা মোট স্বাস্থ্যসেবার প্রায় ৮০ শতাংশ। যদি এ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে টেলিমেডিসিন যুক্ত করা যায়, তবে পুরো দেশকে প্রাথমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার আওতায় আনা যাবে।

তৃতীয়ত, বেসরকারি হাসপাতালে সাধারণত প্রায় ৩০ শতাংশ বেড ও ফ্যাসিলিটিজ ফাঁকা থাকে। ৩০ শতাংশ বেডের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩০ হাজার, যার বর্তমান মূল্যমান আনুমানিক ৩ লাখ কোটি টাকা। এ বিপুল অবকাঠামো যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে।

ভারত, তুরস্কসহ আরো অনেক দেশে সরকার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের সুবিধা কিনে নেয়। এ দেশের সরকারও আমাদের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি করতে পারে। সরকার স্বল্প মূল্যে বেসরকারি হাসপাতালের সেবা ক্রয় করলে সরকারের মূলধনি ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না এবং চলতি ব্যয়ও কম হবে। এতে একই মানের সেবা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতও অনেক কম খরচে দিতে পারবে। এ কারণেই পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেল বাস্তবায়ন করা দরকার। বর্তমানে এটি অনেকটা জারগন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু আমরা চাই এটি বাস্তবে রূপ পাক।

আমরা প্রায়ই শুনি দেশে ডাক্তার ও নার্সের সংকট রয়েছে। অথচ বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে প্রায় ৪৫ হাজার কর্মচারী আছেন। আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এ অধিদপ্তরের কর্মচারীদের কাজের চাপ অনেকটাই কমে গেছে। আগে তাদের মাধ্যমে গ্রামে কনডম, পিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রচুর পরিমাণে সরবরাহ হতো। এখন আর এ কাজের সেভাবে প্রয়োজন হয় না। ফলে এখানকার কর্মীরা কার্যত কম কাজ করেন। যদি তাদের আমরা মূলধারার স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে পারি, তাহলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

কিছুদিন আগে একটি মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে গিয়েছিলাম। সেখানে আলোচনা হলো দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত পরিচালনায় ১৮টি সনদ লাগে। এর মধ্যে পরিবেশ, অগ্নি নিরাপত্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং কলকারখানা সম্পর্কিত অনুমোদন পাওয়া সবচেয়ে কঠিন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২১ হাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে নয় হাজার কেন্দ্র এসব সনদপ্রাপ্তির জন্য আবেদন করলেও তা পেয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৭০০। বাকি ৬ হাজার ৩০০ প্রতিষ্ঠান এখনো লাইসেন্স পায়নি। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন দপ্তরে চরম হয়রানির শিকার হতে হয়। একজন বলেন, ‘আগে ওটা দিতে হবে’; আরেকজন বলেন, ‘না, আগে এটা দিতে হবে’। যদিও সনদ অনুমোদনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায়) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান খুবই ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত চার মাসের জন্য সাময়িকভাবে লাইসেন্স দেয়া হোক। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাগজপত্র আপডেট করে নিতে পারবে। আমি অনুরোধ করব নয় হাজার লাইসেন্স দ্রুত নবায়ন করে দেয়া হোক। আমরা আর পরিবেশ অধিদপ্তরের অযথা অত্যাচার সহ্য করতে চাই না।

এখানেই শেষ নয়, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের ওপর মেডিকেল সরঞ্জাম আমদানিকারক কোম্পানিগুলোও ভীষণভাবে চাপ সৃষ্টি করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি সিটি স্ক্যান মেশিনের টিউব নষ্ট হলে কোম্পানিগুলো মেরামতের নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকা নিয়ে যায়। অথচ সাধারণ মানুষ ভাবে, বেসরকারি হাসপাতাল অনেক মুনাফা করে। কিন্তু বাস্তব ভিন্ন চিত্র। গ্রামাঞ্চলে গেলে দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতাল লোকসানে চলছে। এ হাসপাতাল মালিকদের অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নেন, আবার কেউ নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রতিষ্ঠান চালান। চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি, নতুন বিনিয়োগ, লাইসেন্স ঝামেলা—সব মিলিয়ে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাত খুবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে আমাদের অর্জনও কম নয়।

কভিড-১৯-এর সময়ে এক বছরের জন্য ভারতের ভিসা বন্ধ ছিল। অনেকে ভেবেছিল রোগীরা চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে না পারলে বিপদে পড়বে। কিন্তু কী হয়েছিল? কেউ কি চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে? কেউ কি অভিযোগ করেছে যে ভারত যেতে না পারায় জীবন বাঁচল না? না, হয়নি। আমরা সেই সময় দেশেই সব রোগীর চিকিৎসা দিয়েছি। তাই বিদেশী স্বাস্থ্য খাতের দিকে বারবার তাকানোর প্রয়োজন নেই। দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের ওপর ভরসা রাখতে হবে।

বর্তমানে এ খাতে রোবোটিক সার্জারি চালু করতে চাই। উদাহরণ হিসেবে বলি, ভারতে একটি প্রোস্টেট অপারেশনের খরচ প্রায় ৪০ লাখ টাকা, ব্যাংককে ৮০ লাখ টাকা, আর সিঙ্গাপুরে ১ কোটি টাকা। আমরা দেশে রোবোটিক সার্জারি চালু করতে পারলে রোগীরা অনেক কম খরচে চিকিৎসা সেবা পাবে। কিন্তু রোবোটিক সার্জারির অনুমোদন পেতেও নানা জটিলতার মধ্যে আটকে আছি। যদিও বর্তমান সরকারের উপদেষ্টারা অত্যন্ত আন্তরিক। তারা আমাদের কথা শোনেন, ডেকে পাঠান, যা আগে হতো না। তাই অনুরোধ, ছোটখাটো অনুমোদনগুলো দ্রুত দেয়া হোক।

আরেকটি বড় বিষয় হলো অঙ্গ প্রতিস্থাপন। প্রতি বছর প্রায় ৫০০ রোগী কিডনি বা লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিদেশে যায়। বাংলাদেশে এরই মধ্যে সফলভাবে কয়েকটি লিভার ও বহু কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে। কিন্তু অযথা নিয়মকানুনের ফাঁদে ফেলে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুরো কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হলো। এভাবে আমরা কার্যত ভারতের দালালি করছি। অথচ ডা. কামরুল হক এরই মধ্যে দেশে ১ হাজার ৮০০ কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন। তাহলে কেন আমরা এক্ষেত্রে আর এগোতে পারছি না? মূলত ভয় ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে। পাশাপাশি বিদেশে রোগী পাঠানো নিয়েও কিছু বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা আছে।

সম্প্রতি দুজন রোগীকে চীনে পাঠানো হলো প্লেনে ফুল দিয়ে বিদায় জানানোর মাধ্যমে। অথচ আমাদের হাজার হাজার রোগী দেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের প্রতি কি আমাদের কোনো সম্মান বা স্বীকৃতি আছে? ল্যাবএইডেই প্রতিদিন গড়ে ৬০০ রোগী ভর্তি থাকে, আউটডোরে চিকিৎসা নেয় প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এতকিছুর পরও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কোনো প্রশংসা করা হয় না। অথচ বাস্তবে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বড় দায়িত্ব এ খাতই পালন করছে। তাই চাওয়া হলো এ খাতকে প্রাপ্য সম্মানটুকু দেয়া হোক, অযথা নাক সিটকানো না হোক। আমরা সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি। আরেকটি দুঃখজনক বিষয় হলো সম্প্রতি সরকার একটি সংস্কার কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু সেই কমিটিতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার খাতের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। অথচ সবাই বলছেন, দেশের মোট স্বাস্থ্যসেবার ৭০ শতাংশ বেসরকারি খাত দিয়ে থাকি। যখন বলছি যে এ খাতের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত, তখন বলা হলো ‘এটা নাকি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট (স্বার্থগত দ্বন্দ্ব)’। আমি প্রশ্ন রাখতে চাই— এ খাতের সমস্যা ও বাস্তবতা আমরা ছাড়া আর কে ভালো বুঝবে? যারা সংস্কার কমিটিতে আছেন, তাদের অনেকেই হয়তো বাস্তব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত নন। এক দেশে দ্বিমুখী মানদণ্ড চলতে পারে না। আমি কোনো আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছি না—শুধু বলছি, আমরা দেশকে ভালোবাসি এবং আরো ভালো করতে চাই।

এবার আরেকটি প্রসঙ্গ আসুক। আমাদের খরচের সময় কিন্তু কোনো হেলথ বাজেট নেই। অথচ রাষ্ট্রীয় বাজেট থাকে সরকারি খাতে। তাহলে কেন আমরা প্রাইভেট সেক্টর থেকে নিজেদের জন্য একটা ছোট্ট স্বাস্থ্য বাজেট গঠন করতে পারি না? এতে বিপদের সময় অন্তত কিছুটা সাপোর্ট পাওয়া যেত।

এছাড়া মনে রাখা জরুরি, আমরা যারা স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি, যারা স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন—দুই পক্ষেরই পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া প্রয়োজন। রোগী হিসেবে আমি যদি ডাক্তারের কাছে গিয়ে তার বদনাম করি, আবার ডায়াসে উঠে যদি ডাক্তারদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করি, কিংবা হাসপাতালে গিয়েই হাসপাতাল নিয়ে কটূক্তি শুরু করি তাহলে ডাক্তার বা হাসপাতাল আমাদের প্রতি কেমন করে বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারে? স্বাস্থ্যসেবা শুধু দেয়ার নয়, নেয়ারও একটি সঠিক প্রক্রিয়া আছে। তাই আমার আন্তরিক অনুরোধ আমরা যেন অযথা নেতিবাচক প্রচারণা না করি।

‘‌আমরা প্রাইভেট হেলথ সেক্টর—দেশের অংশ, শত্রু নই’। যদিও আমরা সবসময় বিষয় শুনে আসছি—মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আস্থা নেই কার প্রতি? রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি কি আস্থা আছে? সাংবাদিকদের প্রতি কি বিশ্বাস আছে? খাদ্যের গুণগত মানের প্রতি কি ভরসা আছে? তাহলে কেন শুধু স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বারবার আস্থার ঘাটতির অভিযোগ ওঠে?

আজকাল একটি বিষয়কে অনেকে ফ্যাশন বানিয়ে ফেলেছেন—বাংলাদেশকে ছোট করে দেখা। ‘‌বাংলাদেশ ভালো না’—এটা যেন ধনী কিংবা উচ্চপদস্থ কিছু মানুষের মুখের বুলি হয়ে গেছে। অথচ তাদের অনেকেরই কানাডায় বাড়ি আছে, পাসপোর্ট আছে। কিন্তু দেশের প্রতি বিশ্বাস গড়ে তোলার ব্যাপারে অনীহা। আমি বলব, আগে নিজ দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বাস রাখুন।

আমাদের মাননীয় উপদেষ্টারা—যারা বাংলাদেশ হেলথ কনক্লেভ- ২০২৫ এ উপস্থিত আছেন, আমি জানি আপনাদের ৯০ শতাংশ চিকিৎসা এখানেই হয়। মাঝেমধ্যে বাইরে যান, ফিরে এসে বলেন ‘ব্যাংকক থেকে বড় চিকিৎসা করিয়ে এলাম’। তখনই শুরু হয় তুলনা—বাংলাদেশের ডাক্তার নাকি খারাপ। অথচ এটা এক ধরনের সামাজিক ফ্যাশন মাত্র। আমি অনুরোধ করব, এমন করবেন না।

আরেকটি বিষয় নিয়েও আমি কথা বলতে চাই। সম্প্রতি শুনছি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দাম সরকার নির্ধারণ করবে, হাসপাতালের খরচও ঠিক করে দেয়া হবে। প্রশ্ন হলো কেন? আগে মানের কথা বলুন। দেশের ১০ হাজার ডায়াগনস্টিক সেন্টার যদি থাকে, তাহলে সবার কোয়ালিটি কি এক রকম? আগে মান নির্ধারণ করুন, গ্রেডিং করুন, তারপর মূল্য নিয়ে আসুন।

আমাদের প্রতি সাধারণ ধারণা বেসরকারি মানেই বিরাট লাভ। কিন্তু বাস্তবতা অন্যরকম। আমাদের ব্যাংক ইন্টারেস্টের হার ১৬ শতাংশ। একটি ক্যান্সার হাসপাতাল গড়তে লাগে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। আমরা এক প্রজন্মের ব্যবসায়ী হয়ে এ বিশাল মূলধনি বিনিয়োগের ঝুঁকি নিচ্ছি। তাই আমাদের শত্রু ভাবা ঠিক নয়, আমরা আসলে দেশেরই অংশ।

আমি নিজেই উদাহরণ দিচ্ছি। আমার এনজিওপ্লাস্টি ল্যাবএইডেই করিয়েছি। চাইলে আমি সিঙ্গাপুরে যেতে পারতাম। কিন্তু যাইনি। তিন বছর হয়ে গেছে, আমি অত্যন্ত সুস্থ আছি। আমি বাংলাদেশকেই বলি—ভালো দেশ, এখানে চিকিৎসা নিন। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতকে অবহেলা করবেন না, নাক সিটকাবেন না।

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই, এনজিও কোনোদিনই আমাদের বিকল্প হতে পারবে না। কারণ আমরা এই সেক্টরে ব্যাংকের টাকায় দাঁড়িয়ে আছি, ১৬ শতাংশ সুদ দিয়ে টিকে আছি। আমাদের দাঁড়িয়ে থাকার জন্য আপনাদের আরো সহযোগিতা প্রয়োজন।

ডা. এএম শামীম: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ল্যাবএইড গ্রুপ

[বণিক বার্তা আয়োজিত প্রথম ‘বাংলাদেশ হেলথ কনক্লেভ ২০২৫’-এ প্যানেল আলোচক হিসেবে রাখা বক্তৃতায়]