লোহিত সাগরে মায়েরস্ক কনটেইনার জাহাজে
ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর আক্রমণ প্রতিহত করেছে মার্কিন বাহিনী। এ সময় হেলিকপ্টার
থেকে হামলায় হুথিদের তিনটি ছোট নৌকা ডুবে যায়। নিহত হয় অন্তত ১০ জন। যুক্তরাষ্ট্র,
মায়েরস্ক ও হুথি তিনপক্ষই ঘটনাটি স্বীকার করেছে। খবর রয়টার্স।
গতকাল রোববার (৩১ ডিসেম্বর) এ ঘটনা
ঘটে। মার্কিন হামলার আগে হুথি সেনারা সিঙ্গাপুর-পতাকাবাহী জাহাজ মায়েরস্ক হ্যাংজহুতে
উঠার চেষ্টা করছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)
জানায়, জাহাজ থেকে সাহায্যের আবেদন পাওয়ার পর ওই এলাকায় থাকা রণতরী ইউএসএস আইজেনহওয়ার
দ্রুত সাড়া দেয়।
এর আগে একের পর এক হামলার কারণে লোহিত
সাগর থেকে নিজেদের রুট প্রত্যাহার করে নিয়েছিল মায়েরস্ক। মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের আশ্বাসে
লোহিত সাগরে ফিরে এলেও নতুন হামলার পর চলাচল ফের স্থগিত করেছে সংস্থাটি।
হুথির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের
সতর্কতার আহ্বান না শোনার কারণে আক্রমণ চালানো হয়। এরপর মার্কিন বাহিনীর আক্রমণে তাদের
১০ নৌবাহিনী কর্মী ‘নিহত ও নিখোঁজ’ হন।
বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মোট
চারটি হুথি নৌকা ওই অভিযানে অংশ নেয়। মার্কিন আক্রমণের মুখে তিনটি ডুবে গেলেও একটি
নৌকা পালাতে সমর্থ হয়।
গত ৭ অক্টোবরে শুরু গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি
হামলার প্রতিবাদে লোহিত সাগরের পণ্যবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে হুথিরা। তাদের দাবি,
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন জাহাজে হামলা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ২১ হাজার ৮০০
এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হামাসের হামলায় প্রায় এক হাজার ২০০ ইসরায়েলি
নিহত হয়েছেন।
গত নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে চলাচল
করা জাহাজে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা।
তাদের হামলার মুখে সপ্তাহ কয়েক আগে
বড় বড় শিপিং সংস্থাগুলো সুয়েজ খালের পরিবর্তে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপের আশপাশের
দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল রুট বেছে নেয়।
সুয়েজ খাল ব্যবহার করে জাহাজ প্রবেশের
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট লোহিত সাগর। এশিয়া ও ইউরোপের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় এ পথে বৈশ্বিক
বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পরিচালিত হয়।










